দেশের মূল সমস্যা থেকে মুখ ঘোরাতে এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনের ফাঁদ

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

পূর্ণেন্দু বসু

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতি সম্প্রতি একথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর দল এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করবেন। তিনি, ৬ ডিসেম্বর, সংহতি দিবসের সভামঞ্চ থেকে একথাও ঘোষণা করেছেন যে, দেশের যা আর্থিক হাল, তার থেকে নজর ঘোরানোর জন্যই নরেন্দ্র মোদি সরকার এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করানোর পর আইন করে দেশের মানুষকে বিপদে ফেলতে চাইছে।

আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কথায় এটাই বুঝেছি যে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যদি একজন মাত্র মানুষ অটল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সোজা কথা সোজাভাবেই বলতে ভালবাসেন। অন্যায়ের বিরোধিতা করাই তাঁর উদ্দেশ্য। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তিনি হতে দেবেন না। পশ্চিমবঙ্গে তো নয়ই। অর্থাৎ পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই টিএমসি এর বিরোধিতা করবে। নেত্রীর নির্দেশ মেনে দলের সাংসদরা সেই সিদ্ধান্ত পালন করেছেন। সংসদের ভিতরে ও বাইরে এনআরসি বিল পেশের দিন প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। কারণ, মমতা মনে করেন, এই বিল আইন হলে বা গোটা দেশে এনআরসি কার্যকর হলে বহু সত্যিকারের নাগরিক রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বেন।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কেন?

আরএসএস-বিজেপি যৌথ সরকার এখন মেতে উঠেছে শরণার্থী আর বেআইনি “অনুপ্রবেশকারীদের” চিহ্নিত করতে। মেতে উঠেছে মুসলিম-অমুসলিম বিভাজন ঘটানোর ভয়ংকর খেলায়। এ সাম্প্রদায়িক আগুন নিয়ে খেলার শেষ কোথায় কে জানে। গেরুয়া শিবির দাবি করছে, বাঙ্গালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতেই এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করল কেন্দ্র। আসলে আরএসএসের পুরনো অ্যাজেন্ডা হিন্দুরাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতেই এতটা মরিয়া মোদি সরকার।

আমরা দেখলাম, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ইতিমধ্যেই কাশ্মীরের ৩৭০ ধারার অবলুপ্তি ঘটিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ জুটি। বেআইনি হয়ে গিয়েছে তাৎক্ষণিক তিন তালাকের বিষয়টি। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও (সুপ্রিম কোর্টের) আইনি সম্মতি মিলেছে। এবার অনুপ্রবেশকারী মুসলিম হঠাও অভিযান। সব মিলিয়ে দেশে হিন্দুরাষ্ট্র গড়ার আয়োজন জোর কদমে এগিয়ে চলেছে। শেষ যেটা বাকি ছিল, এবার সেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাইছে বিজেপি শিবির।

বলা বাহুল্য, এনআরসিকে ভোটের বাক্সে আরও বেশি ফলপ্রসূ ও কার্যকর করতে তড়িঘড়ি এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল দিয়ে এল বিজেপি। এনআরসি-র জন্য যেন সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের এবং সেই সঙ্গে শিখ, পার্সি, বৌদ্ধ, জৈন সম্প্রদায়ের মানুষকে আর কোনও ঝামেলা পোহাতে না হয়। ইতিমধ্যেই অসমে যে ১৯ লক্ষ লোকের নাম চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তার মধ্যে ১২ লক্ষই হিন্দু। এতে অসমে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বিজেপি। এই একটা তথ্যই বিজেপির ভোট ব্যাঙ্কে আঘাত দিয়েছে। সেই কারণেই মোদি-অমিত শাহর যুগলবন্দিতে চলা কেন্দ্রের সরকার এবার ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের কূটচাল চেয়েছেন।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কার্যকর হলে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে যে-সব হিন্দু, শিখ, জৈন, পার্সি, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তাদেরই শুধু নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। বাকিদের নয়। এর থেকে বোঝা যায় কেন্দ্রের উদ্দেশ্য বেশ পরিষ্কার। বিজেপি, আরএসএসের প্রধান লক্ষই নাগরিকত্ব দিয়ে ভারতের মূল স্রোতে শামিল করা। কেবল মুসলিমরাই এই সুযোগ পাবে না। শোনা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু মুসলিমদের জন্য অন্য বন্দোবস্ত হবে। অনুপ্রবেশকারী সংখ্যালঘু মুসলিমদের এরপর ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে অথবা ঘাড়ধাক্কা দিয়ে দেশের বাইরে বের করে দেওয়া হবে।

একটি যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন হল, ভারতের সংবিধান এবং অতীত ঐতিহ্য ও আদর্শ মানলে ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া কি যুক্তিযুক্ত?এ তো সরাসরি সংবিধানের আদর্শের প্রতি জঘন্য অবমাননা। সংবিধানের ১৪নং ধারা অনুযায়ী এদেশে সবাই সমান অধিকার। আইনের চোখে সবাই সমান। মানুষে মানুষে বিভেদ করার কোনও সুযোগ সংবিধান দেয় না। ধর্ম এদেশের নাগরিকত্ব লাভের কোনও মাপকাঠি বা শর্ত হতে পারে না। স্বাধীনতা লাভের আগে দেশভাগের সময় থেকে দ্বিজাতি তত্ত্বের যে বিষ আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি, সেই তত্ত্বের লক্ষপূরণে এবার মরিয়া হয়ে আসরে নেমেছে বিজেপি-আরএসএস জুটি ভারতকে ধীরে ধীরে ১০০ কোটি হিন্দুর দেশে পরিণত করাই হল এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের লক্ষ্য তবে উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির সরকার বিপন্ন হতে পারে, এই আশঙ্কায় অরুণাচল, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ইত্যাদি রাজ্যে এই বিল কার্যকর হবে না। বলে শোনা যাচ্ছে। এর অর্থ নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কের কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো রাজ্যে যে সব এলাকা ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভূক্ত সেখানেও এই বিল কার্যকর হবে না বলে শোনা যাচ্ছে। এর অর্থ, মূলত হিন্দু বলয় এবং পূর্ব ও পশ্চিম ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে চূড়ান্ত কোণঠাসা করে ভোটবাক্সে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করাই নরেন্দ্র ভাই ও অমিত ভাইয়ের প্রধান লক্ষ্য। এই জঘন্য কাজটি করতে গিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বাধীনতার সময়ে সংবিধান রচয়িতারা যেটা করতে দেননি, সেই হিন্দু রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখেই এগোতে চায় গেরুয়া শিবির।

দেশভাগের নিদারুণ ক্ষত বাংলার শরীরে এখনও দগদগে হয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় এনআরসি যাতে বাংলার বুকে নতুন করে কোনও ক্ষত সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে প্রতিটি মানুষের সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কারণেই দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা আন্দোলনই ঠিক করে দেবে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র কতখানি অটুট থাকবে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে সারা দেশে এনআরসি এবং অযোধ্যায় রামমন্দির গড়া সম্পূর্ণ হলে ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করার পথে, আর একটিই বাধা অবশিষ্ট থাকবে– তা হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। এ ক্ষেত্রেও শেষ রক্ষা কবচটি হারাতে পারে মুসলিম সমাজ।

মূল সমস্যা অর্থনীতি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত সঠিকভাবেই বলেছেন যে, আমাদের দেশের মূল সমস্যা এনআরসি বা নাগরিকত্ব নয়। মূল সমস্যা মোদি জমানার অর্থনীতি। এই অভিযোগ মোটেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। সম্প্রতি দেশের আর্থিক বুদ্ধির হার সাডে চার শতাংশে নেমে গিয়েছে। জাতীয় গড় উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনও পূর্বাভাস মিলছে না। তাও নেমে গিয়েছে ৫ শতাংশে। পূর্বাভাস ছিল ৬.১ শতাংশে। মোদি বলছেন বাঙ্কগুলি খুব ভাল পারফর্ম করছে। দেশ এগোচ্ছে। এসব বাগাড়ম্বর ছাড়া কিছুই নয়। বাস্তবের ছবি হল– বাজার অগ্নিমূল্য। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মানুষের হাতে অর্থের জোগান বাড়ছে না। উল্টে উৎপাদন শিল্প মার খাচ্ছে। কমছে কর্মসংস্থান। চলছে ব্যাপক ছাঁটাই। বাড়ছে বেকারত্ব। লোকসভা ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদির পরিচালিত বিজেপির প্রতিশ্রুতি কি এরকম ছিল? মানুষের যন্ত্রণা আজ রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে।

নোটবন্দির পরও ৫০০ ও ২০০০ টাকার জাল নোটের সংখ্যা বেড়েছে বলেই সরকারি স্তরে স্বীকার করা হয়েছে। পাক-সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদও বেড়েছে বলে স্বীকার করেছে সরকার। জিএসটির গুঁতোয় ছোট-বড়- মাঝারি সব ব্যবসাই মার খাচ্ছে। এদিকে, আবার জিএসটি থেকে সরকারের আয় কমে গিয়েছে। ফলে জিএসটির যে অংশ রাজ্যের পাওনা তা দিতে পারছে না কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ক্রমশই বাড়ছে। জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য অর্থ না গেয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। কমেছে সেস সংগ্রহও। সুতরাং, নোটবন্দি আর জিএসটি, দুটিই যে লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আশ্চর্যের বিষয়, শুধু ব্যাঙ্ক জালিয়াতি আর দেশের টাকা বিদেশে পাচারের ঘটনায় দ্রুত এগোচ্ছে মোদি সরকার। ফলে ব্যাঙ্কগুলি রুগ্ন হতে হতে ফেল পড়ার পথে। দুশ্চিন্তায় সাধারণ নাগরিকরা। কারণ, ব্যাঙ্ক ফেল পড়লে নাগরিকদের জমা টাকার বদলে মাত্র এক লক্ষ টাকা দিয়ে দায় সারার রাস্তা নিচ্ছে মোদি সরকার। অথচ, একসময় ব্যাঙ্ক প্রতারণার প্রশ্নে মনমোহন সরকারকে দায়ী করতেন বিজেপি নেতারা। এখন রাজ্যসভায় খোদ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরে সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক মিলিয়ে মোট প্রতারণার পরিমাণ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ আর্থিক বর্ষের রিপোর্টে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি মোট ৬,৮০১টি প্রতারণার ঘটনার মোট ক্ষতি হয়েছিল ৭১,৫৪২-৯৩ কোটি টাকা। এ বছর প্রথম ছয় মাসেই তা অনেক বেড়ে গিয়েছে। বছরের পর বছর ব্যাঙ্ক জালিয়াতি বেড়েই চলেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রিপোর্টই তার প্রমাণ।

বর্তমান অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাসে ৫৭৪৩টি প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়েছে, যাদের অধিকাংশই ব্যাঙ্কের ঋণ নিয়ে শোধ দেয়নি। কিন্তু মোদি জমানায় এক হাজারেও বেশি ঋণ খেলাপির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ব্যাঙ্ক জালিয়াতি হয়েছে ২৫০০ কোটি টাকার। এসব কারণে, ৩.৩৮ লাখ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিল করা হয়েছে বলে মন্ত্রীর দাবি। জালিয়াতিতে সবচেয়ে বেশি প্রতারিত ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক। টাকার অঙ্কে এই প্রতারণার পরিমাণ ২৫,৪০০ কোটি টাকা। এর পর আছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। প্রতারণার পরিমাণ ১০,৮০০ কোটি টাকা। ব্যাঙ্ক অব বরোদার প্রতারণার পরিমাণ ৮,৩০০ কোটি টাকা। দেনা ব্যাঙ্ক, কানাড়া ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অব মহারাষ্ট্র, এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক, ইউনিয়নব্যাঙ্ক, আইডিবিআই ব্যাঙ্ক ইত্যাদি ব্যাঙ্কগুলিতেও ভাল পরিমাণ প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।

এখন আবার কানাঘুষোয় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, কালো টাকার মজুতদাররা কি সব ২০০০ টাকার নোটে মুজত করে। তাই ২০০০ টাকার নোট ছাপা বন্ধ হয়েছে। ফলে আবার কিছু অপরাধীকে চিহ্নিত করার নামে গোটা দেশের মানুষকেই বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে। আবার বাতিল নোট বদলের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা কামাই হবে স্ব-চালিত সমবায় ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। যা পৌঁছে যাবে বিজেপি নেতাদের হাতে।

দেশের এই সার্বিক আর্থিক সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করার কোনও ফলদায়ী উদ্যোগই চোখে পড়ছে না। বিপুল পরিমাণ কর্পোরেট কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলির বিলগ্নীকরণের নামে বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর মাধ্যমে লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি জলের দরে পেয়ে যাবে সরকার ঘনিষ্ঠ ধনকুবেররা। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে যে অর্থনীতি চাঙ্গা হবে না–অর্থনীতিবিদদের এই পরামর্শক মোদি-অমিত শাহ এবং তাঁদের সরকারের অর্থমন্ত্রী আমলই দিচ্ছেন না। সকলে মিলে কোরাস গাইছেন, ‘সব ঠিক আছে’, সব ঠিক আছে।

অথচ আমরা দেখছি, কিছু ঠিক নেই। খাদের কিনারায় দেশের অর্থনীতি। জনজীবন বিপর্যস্ত। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো এসে পড়ছে এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। যার মাধ্যমে কয়েক কোটি মুসলিমকে রাষ্ট্রহীন করে দেওয়া হবে। যে প্রক্রিয়া পুরোপুরি সংবিধান বিরোধী। দেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীরা একটা গণতান্ত্রিক সংবিধান আমাদের দিয়ে গিয়েছেন। যে সংবিধানের জোরে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ বলে মর্যাদা পেয়েছে ভারত। যে সংবিধান বহুত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা, ন্যায় ও গণতান্ত্রিক অধিকার-এর মূল আদর্শের উপর দাঁড়িয়ে আছে। আরএসএস-বিজেপি ভারতের সেই মহান সংবিধানের মূলে আঘাত হানছে। গণতন্ত্র, ধর্মনিরেপক্ষতা ও মানবিক অধিকারের উপর এই আক্রমণ কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এদের কার্যকলাপে আমাদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিদিন লাঞ্ছিত হচ্ছে। লাঞ্ছিত হচ্ছে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি।

এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষ এক সার্বিক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে ডাক দিয়েছেন। এই আন্দোলনকে তিনি দ্বিতীয় স্বাধীনতার আন্দোলন বলে ঘোষণা করেছেন। সত্যিই দেশ আজ বিজেপি আরএসএসের কাছে তার স্বাধীনতা হারাচ্ছে। যে স্বাধীন মৃল্যবোধগুলি আমাদের দেশের মূল শক্তি, যে ভাবনাগুলি আমাদের অগ্রগতির মূলে, একে একে সেসবের উপর যে ধ্বংসাত্মক আগ্রাসন নেমে আসছে, সেই মূল্যবোধগুলিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যে আন্দোলনের প্রয়োজন, তা অবশ্যই এক স্বাধীনতা আন্দোলনের সমতুল্য। পরিস্থিতিটা এমনই।

তাই মমতার সময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রপ্রিয় সকলকে দলমত নির্বিশেষে এক সংগ্রামী মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্য কোনও পথ খোলা নেই। এটাই সময়ের ডাক। মোদির দলকে পরাস্ত করতেই হাবে।

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial