যাত্রাশিল্পীদের ভাতা বাড়বে দশ হাজার

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

সুব্রত ভট্টাচার্য

বাংলার সংস্কৃতি জগতের অন্যতম ঐতিহ্য যাত্রাপালাকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালের নিয়মে এক সময়ে যাত্রা যেমন হারিয়ে যাচ্ছিল, তেমনই চরম অনটনে দিন কাটাচ্ছিলেন বহু প্রবীণ যাত্রাশিল্পী। তবে সেই যাত্রাকে পুনরুজ্জীবিত করে নতুন দিশা দেখিয়েছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাত্রা শিল্পীদের যোগ্য সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি দুস্থদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও করেছিলেন। এবার সেই ভাতা আরও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে নেত্রী। ৬৪৪টি দুস্থ পরিবারকে ভাতা দেওয়া হয়। বারাসতে ২৪ তম যাত্রা উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী যাত্রা আকাডেমির চেয়ারম্যান অরূপ বিশ্বাসকে বলেন, “যাত্রাশিল্পীদের এককালীন যে ১৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হত, সেটি বাড়িয়ে ২৫ হাজার করা হোক।” একইসঙ্গে সমস্ত যাত্রা শিল্পীকে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আনার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন যাত্রা শিল্পীরা। যার ফলে শিল্পী আয়ের সংস্থান হয়েছে। তা ছাড়া শিল্পীদের জন্য একাধিক প্রকল্পও চালু করেছেন তিনি। এবছর যাত্রা উৎসবের উদ্বোধনে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের দল যাত্রা শিল্পীদের জন্য যা যা করার করবে” যাত্রা শিল্পীদের স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আনা নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “যাত্রা শিল্পীরা স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় এলে সরকারি চিকিৎসা ছাড়াও বেসরকারি জায়গায় পাঁচ লক্ষ টাকার কভারেজ পাবেন। ভাল চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।” বারাসাতে যাত্রা উৎসবে মঞ্চ থেকে একগুচ্ছ কলাকুশলীদের সংবর্ধিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার সঙ্গে যাত্রা শিল্পীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা এনআরসি আর সিএএ নিয়ে ভাল যাত্রাপালা করুন। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যাত্রা করে মানুষকে সচেতন করুন।” একইসঙ্গে দলের কর্মী এবং সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাড়ায় পাড়ায় যাত্রার অনুষ্ঠান করুন। এই সংস্কৃতি যাতে হারিয়ে না যায় তার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

যাত্রা উৎসবের মঞ্চ থেকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ৫১টি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার সঙ্গে আরও ২৯ টি প্রকল্পের শিলান্যাসও করেন। এছাড়া কয়েক হাজার শিশুর হাতে গাছের চারা তুলে দেন তিনি। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ব্যবস্থা করেন। চাষিদের ট্রাকটার, মৎস্য ব্যবসায়ীদের সাইকেল প্রদান করেন তিনি। মাস কয়েক আগে যে ঘূর্ণিঝড় উত্তর ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকাগুলি ছারখার করে দিয়েছে, সেখানে ত্রাণের ব্যবস্থা আগেই করেছিলেন তিনি। যাত্রা উৎসবের মঞ্চ থেকে জানান, ঝড়ে যাদের বাড়ি ভেঙে গিয়েছে তাদের ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। প্রচুর কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ওই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মানুষগুলিকে সাহায্য করা যায়।

 

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial