ভাটপাড়া জয় তৃণমূলের

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

রানার চক্রবর্তী

জোর-জবরদস্তি করে রাজ্যের বেশ কিছু পুরসভা দখলে নিয়েছিল কেন্দ্রের শাসক দল। মানুষকে ভয় দেখানোই শুধু নয়, তোয়াক্কা করা হয়নি কোনও পুর-নিগম বা সংবিধানের। অথচ মানুষের সমর্থন পেয়ে সবগুলিতেই বিপুলভাবে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মা-মাটি-মানুষের দল মানুষকে সঙ্গে নিয়েই জিতে নিয়েছিল পুরসভা। দলের কাউন্সিলররা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ নিয়ে ভোটে জিতেছিলেন। কিন্তু সেই কাউন্সিলরদের মামলার ভয় ও কোথাও কোথাও প্রাণে মারার হুমকিও দেখানো হয়েছিল। অভিযোগ এসেছে বহু ক্ষেত্রে। ভাটপাড়ার ক্ষেত্রেও অনেকটা তেমনই হয়েছিল।

প্রথমবার আস্থাভোটে বিপুলভাবে হেরেও লজ্জা হয়নি ওদের। এর পরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়েও আর একবার আস্থা ভোট হয়। সেখানেও অবশ্য ফলাফলে কোনও হেরফের হয়নি। ১৯-০ ভোটে ভাটপাড়ায় আস্থা ভোটে জয়ী হয় তৃণমূল। এই ফলেই স্পষ্ট, গা জোয়ারি করে কোনও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায় না। মানুষের আদালতে মানুষই গড়ে দেবে ভবিষ্যৎ। এভাবে লোকসভা নির্বাচনের পর দলবদল হওয়া শেষ পুরসভাটিও মানুষের আর্শীবাদে উন্নয়নের স্বার্থে বজায় রাখল তৃণমূল।

স্বাভাবিকভাবে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর লোকসভার ভাটপাড়া পুরসভা এলাকার মানুষ খুশি। তাঁরা উচ্ছ্বসিত। আস্থা ভোটে তৃণমূলের এই জয়কে মা-মাটি-মানুষের জয় হিসাবেই দেখছেন তাঁরা।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ভাটপাড়ায় ফের আস্থাভোট হয়েছিল, তাতে ১৯-০ ভোটে জেতে তৃণমূল। এর আগে ২ জানুয়ারি আস্থাভোট হয়েছিল। সেদিনও একইভাবে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। তবে সেই আস্থা ভোটের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে বিজেপি। মামলাটির শুনানির পর আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ সেই আস্থাভোট খারিজ করে নতুন করে ভোট করার রায় দেয়। জেলাশাসকের উপস্থিতিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থার মধ্যে আস্থাভোট করানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি অরিন্দম সিংহ। আদালতের নির্দেশ মেনে আস্থাভোট হয় ভাটপাড়া পুরসভায়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘন্টা আগে সেখানে উপস্থিত হন তৃণমূল কাউন্সিলররা। কিন্তু দিনের শেষে কোনও বিজেপি কাউন্সিলর এদিনও আসেননি। ভাটপাড়ায় কোর্টের নির্দেশে ভোট হয়েছে। কিন্তু বিজেপির কেউ এলেন না কেন? আইনি পথেই বিজেপিকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে তৃণমূলও। মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, “আদালতের সমস্ত নির্দেশমতো এদিন আস্থাভোট হয়েছে। তার পরও যদি বিজেপি সুপ্রিম কোর্টে যায় যাবে। আমরা এই সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করে রেখেছি। আইনি পথেই বিজেপিকে জবাব দেওয়া হবে।”

ভাটপাড়ার পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে প্রায় এক মাস ধরে টানাপোড়েন চলছে। ৩৫ আসনবিশিষ্ট ভাটপাড়া পুরসভার একজন কাউন্সিলর মারা গিয়েছেন, একজন জেলে। একজন বাম কাউন্সিলর। তৃণমূলের পক্ষে ১৯ জন। কাউন্সিলরদের দেওয়া চিঠিতে বৈঠকের দিন ধার্য করা হয় এক মাস পর ২০ জানুয়ারি। সেখানে আইনভঙ্গের অভিযোগ ভুলে তিন তৃণমূল কাউন্সিলর ভোটাভুটির জন্য ২ জানুয়ারি তলবি বৈঠক ডেকে চিঠি দেন। সেদিন ভোটও হয়। কিন্তু পরে আদালতের রায়ে তা ভেস্তেও যায়। দ্বিতীয়বার ভোটে জয়ী হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত তৃণমূল শিবির। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, “আর ৩-৪ জন কাউন্সিলর দলে ফিরে আসার জন্য যোগাযোগ করছেন। তাঁদের বলা হয়েছে কী কারণে দল ছেড়েছিলেন তা লিখিতভাবে জানাতে। এরপর দলের শীর্ষনেতৃত্ব তাঁদের ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেবে।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial