সংবিধান রক্ষা

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

হাজার হাজার দেশপ্রেমীর আত্মবলিদানের মূল্যে স্বাধীনতা লাভ করেছিল ভারতবর্ষ। অখন্ডতার অঙ্গীকার নিয়ে জন্ম নিয়েছিল নতুন দেশ। অঙ্গীকার ছিল একটি প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র হিসাবে বিশ্ববাসীর কাছে আত্মপ্রকাশ করবে ভারত। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের একটি সংবিধান রচনা হয়েছিল। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারত শাসনের জন্য ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের পরিবর্তে নতুন ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়। ওই দিন ভারতীয় গণপরিষদে সংবিধান কার্যকর হলে ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ভারতের সংবিধান ভারতীয় সাধারণতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন। এই সংবিধানে সরকারের গঠন, কার্যপদ্ধতি, ক্ষমতা ও কর্তব্য নির্ধারণ; নাগরিকের মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি, এবং নাগরিকদের কর্তব্য নির্ধারণের মাধ্যমে দেশের মৌলিক রাজনৈতিক আদর্শের রূপরেখাটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সংবিধানে ভারত রাষ্ট্রকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র রূপে ঘোষণা করা হয়েছে।

গণতন্ত্রকে দিশা দেখিয়েছিলেন বি আর আম্বেদকর। আজ আমরা সেজন্য তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। সংবিধানের প্রতিটি কথা মেনে চলতে হবে। সার্বভৌমত্ব, ধর্মনিরপেক্ষতা অটুট রাখতে হবে। স্বাধীনতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এই দেশের নাগরিকবৃন্দের জন্য ন্যায়বিচার, সাম্য ও স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা হয়েছে এবং জাতীয় সংহতি রক্ষার জন্য নাগরিকদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বভাব জাগরিত করে তোলার জন্য অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। এই সংবিধানে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা ও অধিকার স্পষ্টভাবে বণ্টন করা হয়েছে। আজ যখন আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণতন্ত্র দিবস পালন করছি, তখন সেই প্রশ্নটি ফের উঠে আসছে, কেন্দ্রে যাঁরা ক্ষমতায় আছেন তাঁরা কি সত্যিই সংবিধান মেনে সেই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে যথাযথ মর্যাদা দিচ্ছেন? সংবিধানে নারী-পুরুষ, জাত-পাত, ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রের বর্তমান সরকার কি সেটি যথাযথভাবে রক্ষা করার কাজ করছে?

সংবিধানে নাগরিকের মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। নিজ ধর্মীয় আচরণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, গোপনীয়তার অধিকার ইত্যাদি কি সব ভারতবাসী পাচ্ছেন? দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে, যখন স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, ধর্মীয় আচরণ বাধা পাচ্ছে, আইনের নামে ভেদাভেদ করা হচ্ছে, তখন এই প্রশ্নগুলি খুব সঙ্গতভাবে উঠে আসছে। ওরা সংবিধানটাই বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই প্রয়াস আমাদের রুখতে হবে। স্বাধীনতার বাস্তব রূপের জন্য সংবিধানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সংবিধান আমাদের স্বাধীনতার অধিকারগুলি রক্ষা করে। যে মনীষীদের আত্মত্যাগে দেশের স্বাধীনতা এসেছে, তাঁদের স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর, সার্বভৌম, কুসংস্কারমুক্ত, অখণ্ড আধুনিক ভারত। সেই স্বপ্ন সার্থক করতে সংবিধানকে নয়নের মণির মতো রক্ষা করা প্রতিটি ভারতবাসীর কর্তব্য। আসুন আমরা সংবিধানের প্রতিটি শব্দে বেঁচে থাকি; সার্বভৌমত্ব, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সাধারণতন্ত্র, বিচার, স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব এবং সমতা।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial