ধর্ম মানেই ভেদ নয় মমতার আন্দোলনের প্রশংসায় মোহন্ত

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

সাত্যকি চক্রবর্তী

দেশের পরিচয় বদলে দেওয়ার এক ঘৃণ্য চক্রান্ত চলছে। সেই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন জননেত্রী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রাস্তায় নেমেছেন। সারা ভারতেরই মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ধর্মীয় ভেদাভেদের বিরুদ্ধে তিনি আওয়াজ স্তব্ধ করবেন না। ধর্মীয় মৌলবাদের জিগির যারা তুলছে, তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে খান্ত হবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের বিভিন্নতার মাঝে ঐক্যের ঐতিহ্য ভাঙতে দেবেন না। তিনি পাশে পেলেন কপিলমুনি আশ্রম পরিচালনার আখড়ার প্রধান মোহন্ত জ্ঞানদাস।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এবং মানুষের স্বার্থরক্ষায় আন্দোলন করে যান, তা দেশের তাবড় ধর্মীয় মানুষও জানেন। সাধারণ মানুষ ও স্বার্থহীন মানুষ ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেবেন না। মোহন্ত জ্ঞানদাসও প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে এত ভেদ কেন? ছেদই বা কেন? সব ধরনের মিলনক্ষেত্র বলে যার বিশেষ পরিচিতি, সেখানে কেন হঠাৎ বিতাড়নের আগ্রাসী নীতি? মোহন্ত জ্ঞানদাসের আখড়া অযোধ্যায় রামজন্মভূমি এলাকায়। অন্য অনেকের মতোই তিনিও সাম্প্রদায়িক উসকানির রাজনীতি পছন্দ করেন না। গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি আশ্রমের প্রধান তাই মানবতার ধর্মকেই বড় মনে করেন। বস্তুত গঙ্গাসাগর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগ্রহেই মানবতার মিলনক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে। উন্নতি হয়েছে অভূতপূর্ব।

সম্প্রতি এনআরসি ইস্যুতে আন্দোলনে তপ্ত উত্তরপ্রদেশে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। তিনি কি এই নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে প্রশ্নের মুখে মোহন্ত জ্ঞানদাস বলেন, “কেন ভেদাভেদের পক্ষে থাকব? মোদি-শাহকে প্রশ্ন করুন কী হচ্ছে। ওঁরা তো শুধু ভেদের রাজনীতি করছেন না, ছেদের দিকেও ঠেলে দিচ্ছেন।” ছেদ বলতে তিনি প্রাণঘাতী হিংসা, হানাহানিকেই বোঝাতে চেয়েছেন।

গঙ্গাসাগর মেলা শুরুর এক সপ্তাহ আগে ব্যবস্থা যথাযথ কি না দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন বঙ্গোপসাগরের বুকে সূর্য ডুবে যাওয়ার মুখে। জানদাসজী বলেছেন, “ধর্ম মানে হিংসা নয়, ভেদ নয়, মিলন।” যিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বীরাঙ্গনা’আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, “ওঁকে আমি ঝাঁসির রানি বলি। উনি রাজনীতির লোক। তাতে কী। আসলে মানবতার জন্য কাজ করেন। আজ গঙ্গাসাগর মেলার এই যে উন্নয়ন উনি করেছেন, তা তো সবার জন্যই!” মোহন্ত জানদাসও বলেছেন, এই পরিবর্তনের কৃতিত্ব প্রাপ্য রাজ্য সরকারের। দেশে যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর মন্তব্য, “এই যে সাগরমেলা, এখানে তো সব ধর্মের মানুষ আসেন। ধর্মীয় ও জাতপাতের ঊর্ধ্বে এই মিলনক্ষেত্র। মুসলিম, হিন্দু, শিখ, ইসাই, কত মানুষের চরণচিহ্ন, পড়ে সমুদ্রের পাড়ে, মেলাপ্রাঙ্গণের। তাহলে দেশে ভেদ কেন? কাকে বাইরে বের করে দেওয়া হবে? এর আগে নোটবন্দি করেই বা কী হল?” মুখ্যমন্ত্রীও এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে মহারাজের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, “উনি যা বলেছেন তা ভারতীয় সংস্কৃতি। ভারতের ঐতিহ্য। সেটাই আজ ভাঙার চেষ্টা চলছে। ক্ষমতায় আছে বলে শুধু তাদেরই মত সবার উপরে চাপিয়ে দেওয়া হাচ্ছে।” দেশে রামরাজ্য চলছে বলে যে ব্যঙ্গ বারবার উঠে এসেছে বিজেপি-বিরোধী দলগুলির মুখে, একেবারে সেই সুরে মোহন্ত বলেন, “রামরাজ্যের নামে যা-তা হচ্ছে। জোর-জবরদস্তি চলছে। আমার ফটো লাগিয়েও সেখানে নানা ধরনের প্রচার হয়েছে।”

 

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial