এনআরসি নিয়ে অসত্য কথা বলছে বিজেপি

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

পূর্ণেন্দু বসু

প্রবল গণবিক্ষোভের মুখে এখনই এনআরসি হচ্ছে না বলে নরেন্দ্র মোদি গোটা দলকে পথে নামিয়েছেন। মিটিং-মিছিল, বাড়ি-বাড়ি প্রচারে নেমে পড়েছেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় নেতারা। অমিত শাহ ঢোক গিলে মোদির কথাকেই মেনে নিয়েছেন। কার্যকরী সভাপতিকে পাঠানো হয়েছে। জে পি নাড্ডা নরেন্দ্র মোদির সুরে সুর মিলিয়ে বাংলায় এসে গলা চড়িয়েছেন।

অমিত শাহ যেমন জোর গলায় সব রাজ্যে এনআরসি হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগেই তা সম্পন্ন হবে বলে পরে আর কিন্তু কেউ এনআরসি এখনই হবে এমন কথা বলছেন না। এটা একটা চতুর খেলা। এনআরসি হবে অথবা হবে না–তা স্পষ্ট করে না বলে একটা ধোঁয়াশা তৈরি করা হচ্ছে। জোরদার করা হয়েছে বিরোধীদের মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার চেষ্টা। এইভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, চলমান আন্দোলনকে দুর্বল করে দেওয়ার ছক কষা হচ্ছে। এ এক ভয়ঙ্কর খেলা।
সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের এই খেলায় পরপর দু’বার মোদি সরকার গড়ে উঠেছে। এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে সেই খেলার বিরুদ্ধে ফেঁসে গিয়েছে। ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনী পরাজয় বিজেপি, বিশেষ করে মোদি ও অমিত শাহর কাছে বড় ধাক্কা। গত ছ’মাসে একের পর এক রাজ্য বিজেপির হাতছাড়া হচ্ছে। তাই এনআরসি নিয়ে এখন পিছু হটছে নরেন্দ্র মোদি। তবে সেটা একটা কৌশল ছাড়া কিছু নয়। আবার সুযোগ বুঝে ঝাঁপানোর অপেক্ষামাত্র।

তবে, সঙ্গে সঙ্গেই এনপিআর (ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার) চালু করার ঘোষণা করেছে বিজেপি। এখানেও ধোঁয়াশা। কী কী থাকলে এনপিআর-এ নাম উঠবে তা খোলসা করছে না কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানেও সন্দেহ হলেই নানা ধরনের সার্টিফিকেট চাওয়া হবে। পিতা-মাতার জন্মস্থান সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হবে। এর মাধ্যমে মুসলিমদের বেছে বেছে ভয় পাইয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি জারি থাকবে। জারি থাকবে ‘অনুপ্রবেশকারী’ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও। যে-কোনওভাবেই হোক মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভয় পাওয়াতে হবে এবং বিরোধিতা করলেই বিরোধীদের ‘দেশদ্রোহী’, ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ “শহুরে নকশাল” বলে দেগে দেওয়া হবে। রামলীলা ময়দানের ভাষণেও সেই কাজটি করেছেন নরেন্দ্র মোদি। গোটা দলকেও সেই কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে গণভোট নেওয়ার পক্ষে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে রাজি না অরাজি, ৫৬ ইঞ্চির ছাতি সে জবাব না নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিষয়টিকে নোংরা রাজনীতির বিষয় করে তুললেন।

অসমে এনআরসি নিয়ে বিপুল সরকারি অর্থব্যয় করে যে অশ্বডিম্ব প্রসব হল, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে চরম হয়রানির শিকার হলেন অগণিত মানুষ-সেই দুষ্কর্মের জন্য তো ভুল স্বীকার করলেন না নরেন্দ্র মোদি। কেন? এর জবাব দিতে হবে। ডিটেনশন সেন্টার নিয়ে এত মিথ্যার আশ্রয় নিতে হল কেন? এর জবাবও মানুষ চাইবে। জবাব দিতে হবে। শুধু বললে হবে না। অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অন্যের সমালোচনা শোনার জন্য প্রস্তত থাকতে হবে। এটাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র মানে অন্যদের কেবল শ্রোতা ভাবা কখনওই কাম্য নয়।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সিএবি এখন সিএএ হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই আইনটি দেশের সংবিধানের নির্দেশ ও তার ভিত্তি ধর্মনিরেপক্ষতার নীতিকে লঙ্ঘন করেছে। ভারতীয় সংবিধান নির্দিষ্টভাবেই নাগরিকত্বের প্রশ্নে ধর্মের কথা বলেনি। সংশোধিত আইনটি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের বিষয়টিকে সামনে এনেছে। শুধু তাই নয়, সেখানে সব ধর্মের কথা বলা হয়েছে- হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসিক, খ্রিস্টান-সকল ধর্মের নাম আছে- কেবল মুসলিম ধর্মের নাম নেই। কেন? তাঁরা কি ধর্মীয় কারণে নিপীড়ন সইতে না পেরে ভারতের নাগরিকত্ব চাইতে পারে না। শুধু পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশে মুসলিম ভিন্ন অন্য ধর্মের মানুষজন এদেশে নাগরিকত্ব পাবে না কেন? মায়ানমার থেকে যে রোহিঙ্গা হয়ে অসহায় জীপনযাপন করছে তাঁদের বিষয়ে ভাবা হবে না কেন? মুসলিমদের মধ্যে আহমদিয়া বা শিয়ারা অত্যাচারিত হলে তাঁরাও কেন বাদ যাবে আইন থেকে? এই আইনটা কি শুধু ওই তিন দেশ থেকে আসা অন্য ধর্মের লোকেদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সংকীর্ণ আইনি ব্যবস্থা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, পশ্চিমবাংলা বা অন্যান্য রাজ্যে বসবাসকারী মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য এই আইনের কী এমন দরকার ছিল? দেশে যে আইন ছিল তা দিয়েই এদের মধ্যে যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া যেত। বলা হচ্ছে, পশ্চিমবাংলায় ওপার থেকে আসা উদ্বাস্তুরা না কি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের জন্য নরেন্দ্র মোদি তথা বিজেপিকে আশীর্বাদ করছে। মানুষের বুঝতে দেরি হবে না যে, নাগরিকত্বের টোপ দিয়ে নিজেদের ভোটবাক্স ভরতে চায়।

যাঁদের ভোটে বাংলা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, যাঁরা মোদি-মন্ত্রিসভায় আলো করে বসেছেন, তাঁদের যাঁরা ভোট দিলেন, তাঁরা কী এদেশের নাগরিক নন? সংশোধনের আগের আইন কী বলে? উদ্বাস্তুদের নিয়ে যাঁরা উদ্বাস্তু আন্দোলন করেন নি, উদ্বাস্তুদের ইতিহাস-ভূগোল সম্পর্কে যাঁদের মৌলিক জ্ঞান নেই,তারা নাকি করবেন উদ্বাস্তু-কল্যাণ। আসলে বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের কাছে উদ্বাস্তুরা হলেন হিন্দু ভোটার মাত্র। এই দৃষ্টিকোণও অসাংবিধানিক বলা হচ্ছে, ভারত কোনও ধর্মশালা নয়। যে-কেউ এলেই তাকে থাকতে দিতে হবে, নাগরিকত্ব দিতে হবে-এটা চলতে পারে না। প্রশ্ন করা যেতে পারে, ভারত কি তবে হিন্দুদের ধর্মশালা? নাম-কা-ওয়াস্তে বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, শিখ, পারসিকদের কথা বলে আসলে তো ভারতকে হিন্দু ধর্মশালায় পরিণত করা হচ্ছে। “বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর সেই মহান উচ্চারণ কি আমরা ভুলে যাব?

আমাদের নাগরিকত্ব আইনের যে ঔদার্য, তার যে নৈতিকতা, সংশোধিত আইনটি পুরোপুরি তার বিপরীত, চরম ধর্মীয় সংকীর্ণতায় ভরা। সংবিধান আমাদের আইনের চোখে সকলকে সমান বলে মান্যতা দিয়েছে। যা গণতান্ত্রিক এবং মানবিক। সংশোধিত আইন সেই সমানতার বিরোধী।

আইনের চোখে সবাই সমান–সেক্ষেত্রে শ্রেণিবিন্যাসের কথা বলা হয়। অর্থাৎ যিনি বে-আইনি কাজ করেছেন, তাকে তো সমান ভাবা যাবে না। তবে সেক্ষেত্রে শাস্তির বিধান আছে। প্রশ্নটা কূট-তর্কের নয়। প্রশ্নটা স্বাভাবিকতার। যে বিদেশি আবেদন করে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, তাঁকে তো সহজেই নাগরিকত্ব দেওয়া যায়। বলা হচ্ছে, এই আইন নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, কেড়ে নেওয়ার নয়। কিন্তু অন্যদেশ থেকে আসা মুসলিমদের ক্ষেত্রে তো প্রথম থেকেই এই আইন নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আইন বলেই তৈরি হয়েছে। তাঁরা শুধু ‘অনুপ্রবেশকারী’। নেতারা কেন বলছেন, এক কোটি-দু-কোটি এরকম অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে, তাড়িয়ে দেওয়া হবে। এই হিসেবটা বিজেপির আহাম্মক নেতারা কোথায় পেলেন? উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য যথেষ্ট স্পষ্ট । এই ঘাড় ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচার থেকেই আমরা শুনে আসছি। এ তো নতুন কথা নয়। সেই লক্ষ্যসাধনেই তো এই আইন সংশোধন। তাই না? মানুষকে বোকা ভাবার কোনও কারণ নেই।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনটি আমাদের সাংবিধানিক নৈতিকতাকে অপমান করছে। সংবিধানের ১৪, ১৫, ১৬, ২১, ২৫ এবং ২৬ ধারাকে লঙ্ঘন করছে এই সংশোধিত আইনটি। লঙ্ঘন করছে আমাদের সাংবিধানিক কাঠামোর নীতিমালাকে।

ভারত যখন ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে, তখন সংবিধান সভায় জাতীয়তা এবং নাগরিকত্ব নিয়ে সংবিধানের যে কোনও ধারার খসড়ার তুলনায় অনেক বেশি আলোচনা হয়েছিল। সংবিধান রচনার ইতিহাসে তা পাওয়া যায়। সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ৫ থেকে ১১ ধারার মধ্যে নাগরিকত্ব বিষয়ের উল্লেখ আছে। এই ধারাগুলিতে নাগরিকত্ব বিষয়ে যে দু’টি ভিত্তির উপর জোর দেওয়া হয়েছে– সেগুলি হল, ভৌগোলিক দিক এবং রক্তের সম্পর্কের দিক। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে আরও দুটি ভিত্তি সংযোজিত হয়। সেই দুই ভিত্তি হল— রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পাওয়া নাগরিকত্ব।

এই নাগরিকত্ব আইনটি আটবার সংশোধিত হয়েছে। সালগুলি হল, যথাক্রমে– ১৯৫৭, ১৯৬০, ১৯৮৫, ১৯৮৬, ১৯৯২, ২০০৩, ২০০৫ এবং ২০১৫। এই সংশোধনীগুলি নিয়ে কিন্তু তেমন শোরগোল হয়নি। কিন্তু, ২০১৯-এর এই সংশোধনীটি স্থুলবুদ্ধিতেই সংবিধান-বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। কারণ, একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ধর্ম কিছুতেই নাগরিকত্বের ভিত্তি হতে পারে না। সেটা দেশের মধ্যেই হোক অথবা দেশের বাইরে থেকে আসাই হোক না কেন। সংবিধানের যুক্তিভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের দিক থেকেও ১৪নং ধারার আইনের চোখে যা সমান, সেখানে কখনওই বৈষম্য করা যায় না। সংশোধিত আইনটি কেবলমাত্র আমাদের দেশের আইনকেই অমান্য করেনি, তা উদ্বাস্তু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দায়দায়িত্বকেও অস্বীকার করেছে। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের (ইউএনও) মানবাধিকার সনদের ৩নং ধারাকেও লঙ্ঘন করেছে। লঙ্ঘন করেছে ভারতীয় ঐতিহ্যকে। তার “বসুধৈব কুটুম্বকম’- এর আদর্শকে।

এনআরসি-র ব্যর্থতার সঙ্গে মিলেমিশে নতুন সংশোধনী আইনটি দেশের ১৩০ কোটি মানুষকে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে–সকলেরই প্রশ্ন ভারতীয় হিসেবে তাঁদের পরিচয় কোন অবস্থানে এসে দাঁড়াচ্ছে? যাঁরা ভারতে জন্ম বা রক্তের সম্পর্কে ভারতীয়- তাঁদের জীবনে অনিশ্চয়তা এনেছে এই নয়া আইন।

এই আইন সংশোধনের প্রধান কারণ কি অর্থনীতির শ্লথগতির সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়া? অনেকেই সেকথা বলছেন। এই অভিযোগ অস্বীকার করা যাবে না। কোনও বৈষম্য না করে নাগরিকত্বের প্রশ্নে প্রতিটি ক্ষেত্রকে আলাদা আলাদাভাবে বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাকে পরিভাষায় “কেস বাই কেস বেসিস” বলা যেতেই পারে। তাই, একথা বলা যেতেই পারে, ২০১৯-এর সংশোধিত নাগিরকত্ব আইন শুধু অস্বাভাবিক এবং অযৌক্তিক নয়, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে রচিত। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই আতঙ্ক বেশি। এরই পাশাপাশি বিজেপি যে যে রাজ্যে সাফল্য পেয়েছে (লোকসভা ভোটের ফলাফলের বিচারে) যেমন পশ্চিমবঙ্গে, এই আতঙ্ক বিস্তারলাভ করছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কের পরিবেশ কাটিয়ে উঠেছেন। নরেন্দ্র মোদি তাই বলতে বাধ্য চিন্তা নেই। তাঁরা ভারতেরই নাগরিক। এটা যে কথার কথা, তা বুঝতে অসুবিধার কোনও কারণ নেই। আসলে এনআরসি এবং সিএএ রাষ্ট্র এবং আইন কার্যকর করার শক্তিকে এদেশের ২০ কোটি মুসলমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র জুগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাপত্র। ভারতীয় মুসলিমদের কাছে এটা প্রতিপন্ন হয়েছে যে, বিজেপির দৌলতে সংখ্যাগুরুর চিন্তাভাবনায় হিন্দুরাষ্ট্রের বিষয়টা এসে গিয়েছে, এখন শুধু আইন করে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোটা বাকি। এই আইনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য সংখ্যার বিচারে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসাধারণকে পরাধীন করা–এ বিষয়ে মুসলিম চরম উদ্বেগ ব্যক্ত করছে।

তাঁদের আশ্বস্ত করা অমুসলিম সমস্ত মানুষের দায়িত্ব। আশার কথা, মুসলিম জনসাধারণের পাশে দাঁড়িয়ে অপরাপর দেশবাসী তাঁদের ভরসা দিচ্ছেন, আশ্বস্ত করছেন। মোদি শাসিত ভারতে কয়েকদিনের আন্দোলনে সেই আসল ভারতের ছবিটা ফুটে উঠল। ফুটে উঠল বহুত্বের সেই ছবিটা। স্পষ্ট হল, মানুষ কোন মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়–সেই বিষয়টিও।

একটা কথা আজ সকলের বুঝতে হবে। সত্যির মুখোশ পরে মিথ্যেগুলো আমাদের যুক্তি-ভাবনাকে যেন প্রভাবিত করতে না পারে। এটা আমরা যেন ভুলে না যাই যে-অর্ধসত্য মিথ্যার থেকেও ভয়ঙ্কর। যেমন, একটা মেসেজ এখন ফোনে ফোনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যার মূল কথা হল- সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন আর জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (সিএএ এবং এনআরসি) নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, এমনকী মুসলমানদের নয়। উগ্রতা পরিহার করে এরকম একটা মেসেজ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অবস্থান দুর্বল করে দিতে এই আয়োজন। নরেন্দ্র মোদি অসত্যের আশ্রয় নিয়ে যেটা করছেন, তাকেই আরও মার্জিত করে এই মেসেজ ছাড়া হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই । আন্দোলনের দৃঢ়তা নষ্ট করা। আইন বাতিলের দাবিকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলা। এই মিথ্যাতন্ত্রকে যেন আমরা ভাল করে চিনে নিতে পারি।

বিজেপি ভাবাচ্ছে এই বিভ্রান্তি যদি মানুষকে নিস্ক্রিয় করে দেয় তাহলে তাদের লাভ। আবার নাগরিকত্বের প্রশ্নে তারা মাঠে নামতে পারবে। পারবে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে। তবে মানুষকে ওরা যতই বোকা ভাবুক, মানুষ ঠিক ধরে ফেলেছে, ওরা কোন দিকে যেতে চায়। ওদের হিন্দুরাষ্ট্রের ভাবনা মানুষ বর্জন করছে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial