বাংলায় এনপিআর নয়ঃ মমতা

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

হিয়া রায়

বাংলায় সিএএ, এনআরসি, এনপিআর হবে না। একবাক্যে জানিয়ে দিয়েছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মানুষের পাশে থেকে এবার তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, দিল্লিতে এনপিআর সংক্রান্ত বৈঠকে যোগ দেবে না রাজ্য।

ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার বা এনপিআর কোনওভাবেই বাংলায় হবে না, তা আগেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে এও জানিয়েছেন, এনআরসিও বাংলায় হবে না। তারপর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় প্রথম থেকে সরব জননেত্রী। কলকাতা, জেলায় সর্বত্র সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছেন। সেই আন্দোলন জারি থাকবে, লাগাতার চলবে। এই প্রেক্ষাপটেই কেন্দ্রের ডাকা এনপিআর বৈঠক বয়কট রাজ্যের।

আগামী ১৭ তারিখ দিল্লিতে এনপিআর সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্র। এই খবর আসে জননেত্রীর কাছে। ধর্মতলায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী সভামঞ্চে সেই প্রসঙ্গটি তোলেন তিনি। বলেন, “১৭ তারিখ এনপিআর নিয়ে দিল্লিতে মিটিং করছে। আমি যাব না। আমার রাজ্য যাবে না।” এই বৈঠক বয়কট করে সিএএ বিরোধিতায় সরব হন জননেত্রী। বলেছেন, “বৈঠকে না গেলে আপনারা আমার কী করতে পারেন? এখানে কোনও একজন ভদ্রলোক আছেন, বিজেপি দলের মুখপাত্র, তিনি বলবেন, তোমার সরকার তো ভেঙে দিলাম।” এখানেই জননেত্রীর চ্যালেঞ্জ, “আমি যেটা মানব না তো মানব না। ক্ষমতা থাকলে সরকার ভেঙে দাও। তুমি কেন্দ্রের নির্বাচিত সরকার হতে পারো, আমি রাজ্যের নির্বাচিত সরকার। তোমার ক্ষমতা তোমার কাছে। আমার ক্ষমতা আমার কাছে। আমি বাংলার মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে সরকারে এসেছি।” এনপিআর বৈঠকে যোগ না দেওয়ার কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “১০ বছর আগে হয়েছিল। তাই আমি প্রথমে সেনসাস আলাউ করে দিয়েছিলাম। তারপর দেখলাম, এবার কন্ডিশন দিয়ে দিয়েছে। আমার কাছে চিঠি আসেনি, তাই দেখিনি। জানতে পারলাম বাবার জন্মস্থান, বাবার জন্ম সার্টিফিকেট চাইছে। এটা সিএএ-র সঙ্গে কানেকটেড। তারপর ক্যাবিনেট মিটিং করে ক্লোজ করে দিলাম।” কিন্তু সিপিএম থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, বাংলায় এখনও না কি এনপিআর-এর কাজকর্ম হচ্ছে। ধর্মতলার সভামঞ্চ থেকেই সিপিএমের কাছে এর প্রমাণ চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, “এনপিআরের কাজ চলছে, এটা প্রুফ করতে হবে সিপিএমকে। সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। সিপিএম বিজেপির জগাই মাধাই। আপনারা মিথ্যা কথা বলছেন। ক্রাইম করছেন। আইন আইনের পথে চলবে।” সিপিএমের বরাবরের কাজ মিথ্যা কথা বলা। ভুল তথ্য পরিবেশন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। এমনিতে সিপিএম থেকে পুরোপুরিভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বাংলার মানুষ। তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে আছেন।

শেষ সবক’টি নির্বাচনেই তা প্রমাণিত হয়েছে। এই অবস্থায় ভুল তথ্য দিয়ে সস্তায় প্রচার পাওয়ার চেষ্টা করছে সিপিএম। বাংলায় এনপিআর হচ্ছে না। সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য কেউ দিলে, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রশাসনকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।

ধর্মতলার সভামঞ্চে নিজের আধার কার্ড নিয়ে আসেন জননেত্রী। যা তুলে ধরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন। বলেন, “২০১৬ সালের আগে আমি আধার কার্ড করেছিলাম। তাতে দেখা যাচ্ছে আমার নাম, ঠিকানা, বাবার নাম লেখা আছে। কিন্তু আজকে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ডকুমেন্ট তুলেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে বাবার নাম নেই। এটা চিটিং নয়? এটা ক্রাইম নয়? টোটালটাই জালিয়াতি মানুষকে নিয়ে প্রতারণা চলছে। দেশ এক, আইন এক, সংবিধান এক, আধার কেন দুই?”

এই সভামঞ্চ থেকে সিপিএম, বিজেপির বিরুদ্ধে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “সিপিএমের মমতা ব্যানার্জি নামে এলার্জি। বিজেপিকে জেতানোর ও শক্তিশালী করার জন্য সিপিএম সব ভোট বিজেপির বাক্সে তুলে দিয়ে এসেছে। সিপিএমের ক্ষমতা নেই বিজেপির সঙ্গে লড়াই করার। ওরা শুধু মমতাকেই আক্রমণ করতে চায়। সকাল-রাত বিজেপির সঙ্গে তলায় তলায় আন্ডারস্ট্যান্ডিং করে চলে। কেউ বিজেপির কোলবালিশ, কেউ মাথার বালিশ।” সিপিএমের দলীয় মুখপত্রে কেন প্রধানমন্ত্রীর ঢালাও বিজ্ঞাপন, সেই সঠিক প্রশ্নটি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে সিপিএম আন্দোলন করে না। ট্রাম্পকে ধরে নরেন্দ্র মোদিকে বাঁচতে হচ্ছে। সিপিএমের দলীয় মুখপত্র গণশক্তিতে নরেন্দ্র মোদির বিজ্ঞাপন গেল কী করে? সেই প্রশ্নের জবাব আগে দাও সিপিএম। তোমাদের পার্টির পেপারে নরেন্দ্র মোদির ঢালাও প্রচার। কিন্তু আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলে এসেছি সিএএ, এনআরসি, এনপিআর চাই না।”

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial