পাকিস্তান প্রসঙ্গে এবার প্রধানমন্ত্রীকে তোপ মমতার

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

শঙ্খ রায়

কথায় কথায় পাকিস্তানের ধুয়ো তোলেন প্রধানমন্ত্রী। সততার পথে থেকে রাষ্ট্র-বিরোধী জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেই তাকে পাকিস্তানি তকমা দেন। বলেন গুণ্ডা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে বলেন। সেই প্রধানমন্ত্রীকেই এবার মোক্ষম জবাব দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড় থেকে সাগর, পরপর জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুললেন, নরেন্দ্র মোদি কি পাকিস্তানের দূত? কথায় কথায় পাকিস্তানের কথা বলেন। তাঁর কথায়, “মোদি শুধু পাকিস্তানের কথা বলেন। তিনি কি সেই দেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর?”

নেত্রীর এই মোক্ষম জবাবকে দেশজুড়ে সমর্থন জানিয়েছে সাম্প্রদায়িক শক্তি-বিরোধীরা। এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় লাগাতার প্রতিবাদে নেমেছেন তৃণমূলনেত্রী। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র চলছে তাঁর প্রতিবাদ। তিনি নিজে নামছেন। দলকে নামাচ্ছেন। ছাত্র-যুব থেকে সবস্তরে চলছে প্রতিবাদ। তার মধ্যেই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান জননেত্রী। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদিকে সন্মান করি। তাঁকে প্রশ্ন, আমাদের দেশ বড় গণতন্ত্র। কেন কথা কথায় পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করছেন? কথায় কথায় পাকিস্তানের ধুয়ো তুলছেন। নেপাল, ভুটান কিংবা বাংলাদেশের কথা তো কখনও বলেন না।” তাঁর কথায়, “আমরা পাকিস্তানকে চাই না, হিন্দুস্তানকে চাই। খালি দিন রাত পাকিস্তানকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। কেউ চাকরি চাইলে, খাবার চাইলে, শিল্প চাইলে বলছে পাকিস্তানে চলে যাও। কেন সব কথায় পাকিস্তান? হিন্দুস্থানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে পাকিস্তানের কথা! পাকিস্তানের চর্চা করার আমাদের দরকার নেই। পাকিস্তানের চর্চা পাকিস্তান করুক। হিন্দুস্থান আমাদের জন্মভূমি। পাকিস্তানের মাদুলির দরকার নেই। আমাদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে দেব না।”

গঙ্গাসাগর সফরে গিয়েও জননেত্রী এই প্রসঙ্গ তুলে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন। বলেন, “পাকিস্তান মৌলবাদে বিশ্বাস করে। আমরা তাই তাদের সমর্থন করি না। কিন্তু ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সবার সমান অধিকার। সবাই তাঁদের মত প্রকাশ করবে।” শীতকাল। তার মধ্যে মাঝেমাঝেই বৃষ্টি চলছে। কী পাহাড়, কী দক্ষিণবঙ্গ আবহাওয়া বশে নেই। সেসব উপেক্ষা করেই একের পর এক রাস্তায় কিলোমিটারের পর কিলোমিটার প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে টানটান ভাষায় আক্রমণ। সিএএ, এনআরসি-র পাশাপাশি “নো-এনপিআর” স্লোগানও উঠেছে। নেত্রী আহ্বান জানিয়েছেন, বিজেপি-বিরোধী সব দল একজোট হোক। মনে করিয়ে দিয়েছেন, দেশে কর্ণাটক, গুজরাত এবং উত্তরপ্রদেশ ছাড়া প্রতিটি রাজ্যে বিরোধীরা ক্ষমতায় রয়েছে। তাই এনআরসি লাগু করা সহজ হবে না।

এনআরসি নিয়ে বিজেপি ধন্দে। তারা মানুষকেও ভুল বোঝাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোশ খুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, “আমাকে গুয়াহাটি যেতে দিচ্ছে না। অথচ আমাদের রাজ্যে বিজেপির নেতারা মিছিল করছেন। এটা স্বাধীন দেশে হতে পারে না। ধর্মের নামে দেশকে টুকরো করার খেলায় মেতেছে বিজেপি। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না।” নেত্রীর প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়ে মানুষ চাইছে নেত্রীর সঙ্গে পা মেলাতে। দেশজোড়া যে প্রতিবাদে গর্জে উঠছে, বাংলায় তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মা-মাটি-মানুষের নেত্রী।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial