গুন্ডামির বিরুদ্ধে সরব মমতা

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

হিয়া রায়

বনধকে সমর্থন করে না বাংলা। বাংলার মানুষ বনধ বিরোধী। তবু বনধ ডেকে বাংলার স্বাভাবিক জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলার প্রচেষ্টা নেয় বিরোধীরা। কিন্তু বাম-কংগ্রেসের ডাকা বনধকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন বাংলার মানুষই। তবে লক্ষ্য করা গিয়েছে, বনধের নামে রাজ্যের একাধিক জেলায় ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এমনকী, ধর্মঘটিরা বাস, অটো থেকে যাত্রীদের নামিয়ে পর্যন্ত দিয়েছে। এ প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বনধের নামে গুণ্ডামি, দাদাগিরি করেছে সিপিএম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার জন্য আইন মোতাবেক কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ বনধের বিপক্ষে, এটা বুঝতে পেরে, বনধ সফল করার জন্য ভিন্ন আন্দোলন বা রাজনীতির পথ নেয় বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। সরকারি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের আন্দোলনকে “গুন্ডামি” বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য, “সিপিএমের আদর্শ বলে কিছু নেই। ভাঙচুর করব, ট্রেন লাইনে বোমা রাখব, আন্দোলন করতে গিয়ে এটা কেমন কথা? কোন ধরনের আন্দোলন?” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আন্দোলন করতে গেলে পথে নামতে হয়। পথে পড়ে থাকতে হয়। সেটা তো ওরা করছে না। আমরা অনেক আন্দোলন করেছি, পথে পড়ে থেকেছি। কিন্তু মনে রাখবেন, ভাঙচুর করিনি। বাস, ট্রামে হাত দেওয়া হয়নি।”

বস্তুত, রাজ্যের মানুষ প্রত্যক্ষ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যজুড়ে উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। তেমনই বনধের নামে চলেছে অশান্তি। মুখ্যমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ, “বাংলার উন্নয়নকে সহ্য করতে পারছে না। কেরল সিপিএম অনেক ভাল। তবু তারা একটা ইডিওলজি মেনটেন করে। আর এখানে সিপিএমের সর্বনাশ করা ছাড়া কাজ নেই। যেখানে দরকার নেই, আগ বাড়িয়ে আগুন লাগাচ্ছে। আর যেখানে আন্দোলন করার দরকার, সেখানে ফুরিয়ে যাচ্ছে। এই করতে করতে পার্টিটা সাইনবোর্ডে পরিণত হচ্ছে।” বামেদের বার্তা দিয়ে মমতার পরামর্শ, “গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করুন। গুল্ডাবাজি বন্ধ করুন।”

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর বিরোধিতায় প্রথম থেকেই সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা থেকে জেলায় জেলায় তিনি আন্দোলন ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সে কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “সিএএ নিয়ে আমাদের আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে চলছে। সরকারে থেকে আমরা প্রতিবাদ করছি, এ জন্য বুকে জোর থাকা দরকার। জেএনইউয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করে আমরা প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছি। তৃণমূলের প্রতিনিধিদল গিয়েছে লখনউ, আসাম, দিল্লিতেও। যে ইস্যুতে বামেদের আন্দোলন তাকে সমর্থন আছে। কিন্তু গায়ের জোরে বনধ বাংলায় হবে না।” গঙ্গাসাগর থেকে ফেরার ঠিক আগে তিনি বলেন, “সিপিএম ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে। বনধ, অবরোধের নাম করে কোথাও বাইক আরোহীকে মারছে, কোথাও যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও পাথর ছোড়া হচ্ছে। এটা দাদাগিরি। আন্দোলন নয়। ধিক্কার জানাচ্ছি। ক্ষমতা থাকলে দিল্লিতে গিয়ে করুক না!”

কেন সিপিএমের এই ধরনের হিংসাত্মক আন্দোলন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ পথে আন্দোলন করতে বাধা নেই। প্রত্যেকটা বনধ এরা ব্যর্থ হচ্ছে। তা সত্ত্বেও বছর চারটে বনধ ডাকে।”– কটাক্ষ মমতার। তাঁর কথায়, “ওরা ভাবে, বনধ করে প্রচার পাব। একটা বাসে বোম মেরে সস্তায় প্রচার পাওয়ার চেষ্টা। এর চেয়ে রাজনৈতিক মৃত্যু ভাল।”

বনধ ডাকলে ক্ষতি সাধারণ মানুষের। যে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “ভারতের অর্থনীতি ওদের মাথায় রাখা উচিত। মানুষের আয় কমেছে, অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে। বনধ করলে সাধারণ, খেটেখাওয়ার মানুষের ক্ষতি হয়। কেন দেশের ক্ষতি করবে? ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করার অনেক পথ আছে।” বন্ধের নামে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে ধর্মঘটীদের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “আমি সিপিএমের মতো গুলিপন্থায়, মারপিটপন্থায় বিশ্বাস করি না। আইন আইনের পথে চলবে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে পুলিশ আইন মোতাবেক কড়া ব্যবস্থা নেবে।”

 

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial