তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে জেএনইউতে প্রবেশে বাধা, রাস্তাতেই ধরনা

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

দ্বৈপায়ন কর

বিজেপি শাসিত অসম ও উত্তরপ্রদেশের পর এবার জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। আটকানো হল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলকে। জেএনইউ-তে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে জখম পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি জানাতে সোমবার দিল্লি গিয়েছিলেন দলের প্রবীণ নেতা দীনেশ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিদলে ছিলেন মানস ভুঁইয়া, সাজদা আহমেদ, বিবেক গুপ্তা ও ডাঃ শান্তনু সেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল প্রবেশদ্বার থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। বাধ্য হয়ে রাস্তার উপরেই শান্তিপূর্ণ ধরনায় বসেন তাঁরা। কলকাতায় জননেত্রী বলেন, আমাদের প্রতিনিধিদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা আক্রান্ত ছাত্রছাত্রীদের পাশে আছি।

জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবারই জেএনইউ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন তিনি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন জেএনইউ-এর পরিস্থিতি জানতে। সেই মতোই সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ জেএনইউ পৌঁছন দলের চার নেতা। জেএনইউ-র নর্থ গেটের দু’ধারে অন্তত ১৫০ মিটার পর্যন্ত তখন ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা। তার বাইরে গাড়ি থামিয়ে তাঁরা ক্যাম্পাসের দিকে যেতে চান। মোতায়েন পুলিশকর্মীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাঁরা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখান। সেসব পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে যাওয়ার অনুমতি দিলেও সাজদা আহমেদ, বিবেক গুপ্তাদের ফের আটকে দেওয়া হয়। বলা হয়, তাঁদের ভিতরে যেতে দেওয়ার অনুমতি নেই। দীনেশ ত্রিবেদির নেতৃত্বে সাংসদরা বারবার কারণ জানতে চাইলেও কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি নিরাপত্তারক্ষীরা। তৃণমূল প্রতিনিধিদল আশ্বস্ত করেন যে, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আসেননি। আক্রান্ত পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করতে, কথা বলতে চান শুধু। কিন্তু তাতেও তাঁদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

তখন আক্রান্ত পড়ুয়াদের প্রতি সংহতি জানাতে ও ঘটনার বিচারের দাবিতে রাস্তার উপরেই ধরনায় বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা । কিছু পর সেখানে আসেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডাক্তার শান্তনু সেন। এই প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “ওখানে যারা সন্ত্রাসবাদীদের মতো মুখোশ পরে আসে, তাদের বিনা বাধায় ঢুকতে দেওয়া হয়। আমাদের মতো জনপ্রতিনিধিদের আটকে দেওয়া হয়। তাহলে কী আমাদেরও মুখোশ পরে আসা উচিত ছিল! শিক্ষার মন্দিরে এই হামলা কলঙ্কজনক।” সাংসদ মানস ভুঁইয়া দাবি, “এখন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে আতঙ্ক কাজ করে ওদের মধ্যে। আমরা জননেত্রীর প্রতিনিধি বলে বাধা দেওয়া হচ্ছে।” রাজ্যসভার সাংসদ ডাক্তার শান্তনু সেন জানান, “জেএনইউ-র মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ঘটনা ভারতের ইতিহাসে অত্যন্ত লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে থাকবে।”

আসলে কেন্দ্রের শাসক দল সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। কারণ, কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির যাবতীয় জনবিরোধী নীতির বিরদ্ধে প্রতিবাদের প্রধান ‘মুখ’ জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা সে নোটবন্দি হোক, কিংবা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি), কিংবা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)। এর আগে জননেত্রীর নির্দেশে এনআরসি-র সময় অসমে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। অসমের বিজেপি শাসক তাঁদের বিমানবন্দরের বাইরে আসতে দেয়নি। সিএএর বিরুদ্ধে আন্দোলনে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে উত্তরপ্রদেশ গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। সেখানেও তাঁদের আটকে দিল বিজেপি শাসিত সরকার।

 

 

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial