Snapshot

রানার চক্রবর্তী

কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠক করলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বার্তা দিয়েছেন, জনগণের কাজে কোনওরকম গাফিলতি করা যাবে না। মা-মাটি-মানুষের সরকার জনগণের জন্য জনগণের জন্য প্রকল্প তৈরী করেছে ও সুবিধা দিচ্ছে। জনগণকে সেই প্রকল্পের সুবিধা দিতে হবে। প্রকল্প যাতে সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তা দেখতে হবে। কোনও অনিয়ম করলে তৃণমূলে জায়গা হবে না। তৃণমূল করতে হলে মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে, মানুষের পাশে থাকতে হবে এবং মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনগণের উন্নয়ন থেকে তিনি বিচ্যুত হবেন না। এবং দলের কর্মী- নেতাদের উদ্দেশ্যেও তাঁর বার্তা, মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য উন্নয়ন করে যেতে হবে। সেখানে বিচ্যুত হলে চলবে না। কেউ বিচ্যুত হলে তাঁর তৃণমূল করার দরকার নেই। যাঁরা এই অনিয়ম করেছে, তাঁরাই বিজেপির দিকে ভিড়ছে। তাঁদের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ জমা পড়ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, “অন্য দলে গেলেও কেউ রেহাই পাবেন না। তবে এই আবর্জনা চলে গেলেই দলের মঙ্গল। তাদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে।”  কারণ, তৃণমূল মানুষের দল। মা-মাটি-মানুষের দলে থাকলে মানুষের জন্যই কাজ করে যেতে হবে। তবে এমন উদ্দেশ্য না থাকলে যার ইচ্ছে বিজেপিতে চলে যেতেই পারেন। কিন্তু তৃণমূলে থাকতে গেলে কোনও অনিয়ম করা যাবে না।

নজরুল মঞ্চের সভায় জননেত্রী বলেছেন, “সরকারি প্রকল্প মানুষের জন্য। যদি কেউ সেখান থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফেরত দিতে হবে মানুষের উন্নয়নের টাকা। সরকারের অডিট হলে কেউ রেহাই পাবেন না।” তিনি বুঝিয়েছেন, বেইমানদের দলে জায়গা হবে না। সতর্ক করে দিয়েছেন, টাকা নয়ছয়ের কোনও অভিযোগ না ওঠে। তাঁর কথায়, “কয়েকজনের জন্য দল অনেক বদনাম সহ্য করেছে আর নয়। দল এসব সহ্য করবে না।” তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি একটা বাড়ি পাওয়া গরিব মানুষের ন্যায্য অধিকার। আমি যে যে প্রকল্প করেছি, সেখান থেকে আমার যেমন একটা টাকা নেওয়ারও অধিকার নেই, তেমনই তাদের তেমনই তাঁদেরও একটি পয়সা নেওয়ারও অধিকার নেই।”

প্রথম ধাপে পুরসভাগুলির কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। পরের ধাপে এই ধরণের বৈঠক করবেন পঞ্চায়েতগুলির সঙ্গে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারি প্রকল্পের টাকা তছরুপ করে পালিয়ে যাচ্ছেন যাঁরা, তাতে লাভ হবে না। নজরুল মঞ্চের সভায় এই প্রসঙ্গ তুলেই বলেন, “তৃণমূল অত দুর্বল নয়। কোথায় কোন একটা গ্রামসভা চুরি করে পালিয়ে গেল আমার কিছু যায় আসে না। আমার ৭০ হাজার গ্রামসভা। যাঁরা যাবেন চলে যান। আমাদের কাজটা করতে করতে দিন। যাঁরা তাঁদেরই টিকিট দেব।” তাঁর কথায়, “এখন নতুন ঢঙ হয়েছে, চুরি করলেই মানে অডিটে ধরা পড়লেই পালিয়ে যায়। যেই চুরি করে ধরা পড়ছে অমনি আরেকটা দলে গিয়ে নাম লেখাচ্ছে। ভাবছে বেঁচে যাবে। বাঁচবে না। সরকারে র পাই-পয়সার হিসাব আছে। আমি যদি সরকারের টাকা তছনছ করি, আমিও যেমন দায়ী। অন্য কেউ যদি করে, সেও কিন্তু দায়ী। এটা সহজ নয় যে, অন্য দলে গিয়ে বেঁচে গেলাম। আরও বরং ফাঁসলেন। কারণ আপনার কেস তো আগেই হয়েছিল।”

দলীয় নেতৃত্বকে নেত্রীর বার্তা, “যাঁরা চলে যাবেন তাঁদের পায়ে ধরে ফেরত আসা বন্ধ করুন এবার। যাঁরা পুরোনো কর্মী ভুল বুঝে চলে গেছেন, তাঁদের দেখে নেবেন।” এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন বিধায়ক মঞ্জু বসুকে নোয়াপাড়ায় টিকিট না দেওয়াও ভুল হয়েছিল বলে জানান নেত্রী। তাঁর কথায়, “শুধু কর্মীদের ভুল হয় না। আমাদেরও ভুল হয়।” একইসঙ্গে বলেছেন, বাবা দল করত বলেই ছেলেকে আর টিকিট দেওয়া হবে না। ডেডিকেটেড লোককে টিকিট দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “যাঁরা যাবেন তাড়াতাড়ি চলে যান। আবর্জনা যত চলে যাবে, তত দলের মঙ্গল। একজন যাবেন, ৫০০ জন তৈরী করব। তবু চোরদের রাখব না।”
কর্মীদের লেখা একটি চিঠিতেও ফের ইভিএম কারচুপির প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। বলেন, “এবার চিটিংবাজির নির্বাচন হয়েছে। আমি এখনও বিশ্বাস করি যে ৩০০ ইভিএমে কারচুপি হয়েছে। অনেক মেশিন খারাপ হওয়ার পর নতুন যে মেশিন দেওয়া হয়েছে তা যে ওভারলোড করা ছিল না, তা-বা কে বলতে পারে? কটা মকপোল হয়েছে? কটা পরীক্ষা করতে দিয়েছে?” কারচুপির এই এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পঞ্চায়েত ভোটের মতো পুরভোটে ব্যালটে ভোট করার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “মেশিন নয়, ব্যালটে ভোট করব। পঞ্চায়েত, পুরসভার যে ভোট হবে, তা হবার ব্যালটে।”  তার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরুর আবেদন করতে বলেছে পুরমন্ত্রীকে। সবকটি পুরসভার ভোট একসঙ্গে করার কথা বলেন জানিয়েছেন, এতদিন আমি এগুলো দেখতাম না। এবার থেকে দরকারে আমি যাব। কাউন্সিলরদের তাঁর নির্দেশ, নিজের ঘরে যান। মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ান। নোংরা পরিস্কার করুন গাছ লাগান। মানুষকে ফেস করুন। গালাগাল করলে গালাগাল খাবেন। কিন্তু মানুষের কাছে যান। মানুষের কাজ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো স্বার্থ আমাদের নেই।

See More

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial