বেলুড় মঠে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করলেন, বাংলার বকেয়া নিয়ে নীরব প্রধানমন্ত্রী

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

নবারুন হাজরা

বেলুড় মঠে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করলেন। এনআরসি নিয়ে কথা বললেন। অথচ বাংলার বকেয়া নিয়ে কোথাও একটুও মুখ খুললেন না। প্রধানমন্ত্রীর বাংলা সফরকে কার্যত তুলোধোনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের পাওনা দাবির কথা জানিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংখ্যাটা প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অথচ এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া নিয়ে একটি শব্দও খরচ করতে দেখা গেল না প্রধানমন্ত্রীকে। আর তাতেই রাজ্যের শাসক দলের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ বাংলার সাধারণ মানুষও। প্রধানমন্ত্রীর এখানে আসাকে কেন্দ্র করে চতুর্দিকে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। আর সেই বিক্ষোভের শহরে দাঁড়িয়ে তাঁক জবাব দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই। প্রশ্ন তুলে অভিষেক বললেন, “প্রধানমন্ত্রী এত কথা বললেও রাজ্যের বকেয়া নিয়ে একটা শব্দও খরচ করলেন না কেন? ‘দিদি’ যে প্রসঙ্গগুলি তাঁর কাছে তুললেন, সেসব নিয়ে একদম চুপ?” তাঁর কথায়, “রাজ্যের বকেয়া প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। বুলবুলে ক্ষতি বাবদ প্রাপ্য ৭ হাজার কোটি। গঙ্গাসাগরে লোহার সেতু তৈরি করে দেবেন বলেছিলেন। এগুলোতো জ্বলন্ত ইস্যু। বাংলার ন্যায্য দাবি। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নজর দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাঁর ভাষণে সেসব কিছুই নেই।” তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি আর রাজ্যগুলির মধ্যে কেন বিভাজন করেন তিনি। বেলুড় মঠে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নাগরিকত্ব নিয়ে ভাষণ ‘দিলেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।” অভিষেক আরও বলেছেন, “স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনে বাংলার যুব সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কোনও ঘোষণা থাকলে সেটাই হত যুব সমাজের প্রকৃত উপহার ।”

এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন মিশনের প্রাক্তনী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বলেছেন, “মিশনের প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে বলছি, বেলুড় মঠে দাঁড়িয়ে সেখানকার মঞ্চ ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তৃতা দেওয়াটা তার সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খায় না। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে তাঁকে নিয়ে না বলে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তাঁর মতামত দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। এটা ঠিক নয়।” মিশনের প্রাক্তনীদের কাছে এ নিয়ে মিশনের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি তুলেছেন। একইসঙ্গে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিজেপি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন পার্থ। বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার এই আইন লাগু করতে দেবে না। এটা মানুষকে উদ্বাস্তু বানানোর আইন। ঘোলাজলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে বিরোধীরাও। ছাত্র সমাজের ঘাড়ে পতাকা রেখে তা ওড়ানোর চেষ্টা করছে।”

এরমধ্যেই সিএএ আর এনআরসি নিয়ে তাঁদের প্রতিবাদকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন অভিষেক। সিএএ এবং এনআরসির ইংরেজি অক্ষরগুলিকে সাজিয়ে একটি বাংলা স্লোগান তৈরি করেছেন। c – ছিনিয়ে, a – আনব, a – অধিকার। আর n – নাগরিক, r- রুখবে, c – চক্রান্ত।

 

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial