৫০ লক্ষের বেশি পুণ্যস্নান শান্তিতে

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

কৌশিক বসু

এযেন মহামানবের ভারত তীর্থ! পঞ্চাশ লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থীর সমাগমে গঙ্গাসাগর হয়ে উঠল মানব মিলনক্ষেত্র। সেইসঙ্গে এবারই জনসমাগমের নিরিখে তৈরি হল নয়া রেকর্ড। এর আগে মকর সংক্রান্তিতে এত পুথ্যার্থীর সমাগম হয়নি। মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে লাখো পুণ্যার্থী সাগরসঙ্গমে ডুব দিয়ে মোক্ষ লাভ করলেন। সেইসঙ্গে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও নির্দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ও মহা ধুমধামে সম্পন্ন হল দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই মেলা। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গঙ্গাসাগর মেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আয়োজন করে আসছে মা-মাটি-মানুষের সরকার। প্রতিবারই নিজহাতে মেলার রুটম্যাপ তৈরি করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলতা থেকে পরিবহণ। সবদিক নিজে খতিয়ে দেখে তারপরই ছাড়পত্র দেন জননেত্রী। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার জন সমাগমের নিরিখে নয়া রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি মেলার শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সার্বিক আয়োজনে অন্যতম নজির গড়েছে রাজ্য প্রশাসন। সাগরমেলা পরিচালনার জন্য বরাবরই একটি দল গড়ে করে দেন জননেত্রী। মেলার অয়োজনে যাতে কোনওরকম খামতি না থেকে যায় তা সশরীরে খতিয়ে দেখে তবেই ছাড়পত্র দেন জননেত্রী। এবার অন্যথা হয়নি। মেলা শুরুর আগেই সাগর সফর করে সব দিক খতিয়ে দেখে তবেই ছাড়পত্র দেন নেত্রী।

গঙ্গাসাগর মেলায় এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আয়োজন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার। এবার প্লাস্টিক মুক্ত এক অভিনব ইকো ফ্রেন্ডলি মেলা প্রাঙ্গণ তৈরি করা হয়েছিল। তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সবরকম সুব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পুণ্যার্থীদের জন্য এবার তীর্থকর মকুব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাজনিত বিমাও করা হয়েছিল। এবারই প্রথম গঙ্গাসাগর মেলায় গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক কম খরচে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা দিয়েছে রাজ্য বিদ্যুৎ দফতর। মেলা প্রাঙ্গণকে দুর্ঘটনামুক্ত রাখতে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ উদ্যোগ। দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে বিচ বাইক। ড্রোনের সাহায্যও নজরদারি চালানো হয়েছে। জলপথে চলেছে বিশেষ নজরদারি। নিরাপত্তার স্বার্থে হোভারক্র্যাফ্‌ট, হাইস্পিড পেট্রোল ভেসেল রাখা হয়েছিল। গোটা এলাকাকে মুড়ে ফেলা হয়েছিল নিরাপত্তার বেড়াজালে। স্নানে নেমে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য ডুবুরি রাখা হয়েছিল। মজুত ছিল লাইফ সেভিং র‍্যাপিড আ্যাকশন টিমও। ছিল রবার জেমিনি বোটও।

এবারই প্রথম কপিল মুনির আশ্রম ও মেলা প্রাঙ্গণের চিত্র লাইভ টেলিকাস্টের ব্যবস্থা করেছিল রাজ্য সরকার। অসুস্থ যাত্রীদের জন্য ছিল গ্রিন করিডর। তার জন্যই গঙ্গাসাগর মেলায় এই প্রথমবার ব্যবহার করা হয়েছে এয়ার আম্বুল্যান্স ও ওয়াটার আম্বুল্যান্স। সাগর হাসপাতালকে ৩০০ বেডের হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছিল পাশাপাশি অন্তত ৮৫টি আম্বুল্যান্স মজুত রাখা হয়েছিল।
গঙ্গাসাগর উপলক্ষে আগেই অতিথি অ্যাপ চালু করেছিলেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই অ্যাপকে আরও উন্নত করা হয়েছিল।

পুজো থেকে নদীর জোয়ার-ভাটা যান চলাচল, ফেরির অবস্থা, সবটাই এবার পূণ্যার্থীরা জেনেছেন এই অ্যাপের মাধ্যমে। মেলা চলাকালীন পরিষেবা চালু রাখার জন্য সাগর সঞ্চার নামে বিশেষ ভিএইচএফ রেডিও টেকনোলজি বসানো হয়েছিল। মেলা থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জোকা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ২০০ এলইডি স্ক্রিন রাখা হয়েছিল পূণ্যার্থী ও মেলায় আগত মানুষজনের জন্য। তাছাড়া বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও গঙ্গাসাগর ওয়েবসাইটেও এবার মেলা লাইভ দেখানোর ব্যবস্থা ছিল। শিশু ও বৃদ্ধদের হাতে পরানো হয়েছিল এক বিশেষ রিস্টব্যান্ড। যার ফলে মেলায় এসে কোনও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও মহিলাদের সুবিধার্থে এবার মেলাপ্রাঙ্গণে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হয়েছিল। এছাড়াও অগ্নিনির্বাপনের জন্য ৪৭৫ টি বিভিন্ন রকমের যন্ত্রপাতি রাখা হয়েছিল। গঙ্গাসাগর মেলার সার্বিক নজরদারির জন্য মেলায় উপস্থিতি ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগর নিয়ে মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এবার মেলা হয়ে উঠেছে এক মহা মানবের মিলন তীর্থ। কুম্ভের থেকে গঙ্গাসাগর মেলার স্বাচ্ছন্দ্য অনেক বেশি।”

কথায় আছে সব তীর্থ বারবার গঙ্গাসাগর একবার। গঙ্গাসাগর পৌঁছনোর যাত্রাপথের কথা ভেবেই হয়তো এই প্রবাদ চালু হয়েছে। কিন্তু যে মেলা লক্ষ লক্ষ মানুষের সেতুবন্ধনের কাজ করে সেখানে যাতায়াতের সুবিধার্থে সেতু তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল মা-মাটি-মানুষের সরকার। বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্র সরকারকে এনিয়ে বারবার চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। একটা টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। কিন্তু রাজ্য কারও ধার ধারে না। মাথায় ঋণের পাহাড় সত্ত্বেও জননেত্রীর নির্দেশে গঙ্গাসাগর মেলার যাত্রাপথকে সুগম করে তুলেছিল মা-মাটি-মানুষের সরকার। তাই তো বাংলার এই পূণ্যভূমি হয়ে উঠল মহামানবের ভারততীর্থ।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial