৩৪ হাজার নিয়োগ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৫০০০ টাকা

রানার চক্রবর্তী

রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে। আর সারা দেশে বেড়েছে বেকারত্ব। দেশের নিরিখে বলা যায়, ৪৫ বছরে রেকর্ড বেকারত্ব হয়েছে। কেন্দ্র যুবদের চাকরি দিতে কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। এমন অভিযোগে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্য দলের নেতা-নেত্রীরা। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সারা দেশকে পথ দেখালেন রাজ্যের জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রীই। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের অফিসার থেকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী পর্যস্ত বিভিন্ন শূন্য পদে প্রায় ৩৪ হাজার নিয়োগের ঘোষণা করলেন তিনি। ৩৩ হাজার ৬৮৭টি শুন্যপদে দ্রুত নিয়োগে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও বুধবার বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের স্টাফ সিলেকশন কমিশনকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বেশ কিছু বদল ও আধুনিক করা হবে কমিশনকেও দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রক্রিয়া শুরু করে দেবে রাজ্য। এর পাশাপাশি মহিলা পরিচালিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে বার্ষিক পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদানের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই গোষ্ঠীগুলিতে মহিলা সদস্যের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। অনুদানে রাজ্যের বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে।

রাজ্য সরকারের দফতরে নিয়োগের প্রসঙ্গে বলা যায়, একলপ্তে এত বিপুল সংখ্যক নিয়োগ রাজ্যে ইদানীংকালে হয়নি। গত কয়েক বছরেও হয়েছে কি না সন্দেহে প্রকাশ করেছেন আধিকারিকরা। সেই প্রেক্ষিতে যুব-স্বার্থের কথা ভেবে এটি বিরাট সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রী সব দফতরকে শূন্যপদের তালিকা করতেও বলেছিলেন। সেই মতো দ্রুত সব তালিকা পাঠানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে।

রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে শুন্যপদ পূরণের জন্য বিশেষ কর্মসূচির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে কর্মচারীদের অবসরের কারণে বহু পদ শূন্য হয়েছে। বিগত বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন নিয়োগ হওয়া সত্বেও বর্তমানে ৩৩ হাজার ৬৮৭টি পদ শুন্য রয়েছে। এগুলি ক, খ, গ ও ঘ শ্রেণিভূক্ত পদ।” অর্থাৎ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের নিয়োগ করা হবে। শুন্যপদের মধ্যে ১৮ হাজার ৫২৭টি অসংরক্ষিত এবং ১৫ হাজার ১৬০টি পদ সংরক্ষিত। সংরক্ষিত পদের মধ্যে তফসিলি জাতি ৭৪১১, উপজাতি ২০২১ ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি ৫৭২৮। প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ১৩৪৭টি পদ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আর্থিকভাবে দুর্বলদের জন্য সদ্য বিধানসভায় যে দশ শতাংশ সংরক্ষণের বিল অনুমোদিত হয়েছে, তাও যুক্ত হবে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “রাজ্যের মানুষের কাছে আরও উন্নত এবং বাড়তি পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এইসব শূন্য পদ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত পূরণ করা হবে।” স্টাফ সিলেকশন দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

এদিকে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গ্রামের ও শহরের দরিদ্র মহিলাদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার ২০১১ সাল থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টায় এমন অনেক দরিদ্র মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আওতায় আনা হয়েছে। ২০১১ সালে গোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ৪.৭২ লক্ষ। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা হয়েছে ৯.৬৯ লক্ষ, যা দু’গুণের বেশি।”  বিবৃতিতে জানান, রাজ্য এই সব গোষ্ঠীকে আরও বেশি ব্যাঙ্ক ঋণ নেওয়ার সুবিধা দিতে এদের ব্যাঙ্ক ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষ অতিরিক্ত সাহায্য দিচ্ছে যাতে মোট সুদের পরিমাণ দু’শতাংশের বেশি না হয়। এই ঋণ গ্রহণে উৎসাহ দিতে ২০১১-১২ সালে গোষ্ঠীগুলির নেওয়া মোট খণের পরিমাণ যেখানে ছিল মাত্র ৫৫৩ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৮-১৯ সালে তা ১২ গুণের বেশি বেড়ে সাত হাজার কোটি টাকা হয়েছে। রাজ্যের নতুন প্রস্তাব, বর্তমানে গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ৯৮ শতাংশের বেশি মহিলা পরিচালিত। এখন এই ধরনের গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যাপ্রায় এক কোটি। রাজ্যের এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে ও গ্রাম-শহরের দরিদ্র মহিলাদের আরও ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে এক বছরের বেশি এই ধরনের রেজিস্টার্ড স্বনির্ভর গোষ্ঠী যারা ইতিমধ্যেই নিজেদের সদস্যদের মধ্যে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, তাদের আরও বেশি স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে রাজ্য বার্ষিক পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই খাতে রাজ্যের বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। তাঁর কথায়, “রাজ্য সরকার গ্রাম ও শহরের দরিদ্র মহিলাদের স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়নের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers