১৯-এর ব্রিগেড

জননেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ডাকে ব্রিগেডের জনসমাবেশের প্রস্তুতি তুঙ্গে রাজ্যজুড়ে, ভারত জুড়েও। ১৯ জানুয়ারির সেই জনসমাবেশের গুরুত্ব ও তাৎপর্য যে অপরিসীম, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ সেই সমাবেশের প্রচার শুরু করে দিলেন জননেত্রী। বস্তুত, বাংলার মাটি থেকে কেন্দ্রে পরিবর্তনের ডাক দিতে ১৯ জানুয়ারি তার ব্রিগেড সমাবেশ ঐতিহাসিক রূপ নিতে চলেছে৷ কেন্দ্র-বিরোধী প্রায় আঠারোটি বিরোধী শক্তি উপস্থিত থাকবে কলকাতার মঞ্চে।

সমাবেশে আসবেন বলে ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও টিডিপি নেতা এন চন্দ্রবাবু নায়ডু, এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার,জেডি (ইউ) নেতা শরদ যাদব,ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন,আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব,গুজরাতের হার্দিক প্যাটেলের মতো নেতা৷ প্রচারের মঞ্চে জননেত্রীর কেন্দ্রে শাসক বিজেপির প্রতি হুঁশিয়ারি,রাজ্যে দু’টো আসন ছিল,এবার শূন্য হয়ে যাবে।বিজেপি বাংলা থেকে আর কোনও আসন পাবে না৷ কেন্দ্রেও আর ফিরবে না৷

উত্তরপ্রদেশ,রাজস্থান,কর্নাটক,মধ্যপ্রদেশ,ঝাড়খণ্ড-সব জায়গায় পরাজিত হবে বিজেপি৷ উল্লেখ্য,জাতীয় রাজনীতি এই মুহূর্তে জননেত্রীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতে শুরু করেছে৷ কেন্দ্রে বিজেপিকে রুখতে বিরোধী জোট গড়ে তুলেছেন জননেত্রী। আর সেই কারণেই কেন্দ্রে নতুন সরকার গড়তে এবার বৃহত্তর ভূমিকা নেবে বাংলা৷ একদিকে, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মা-মাটি-মানুষের সরকার যখন রাজ্যজুড়ে সার্বিক উন্নয়ন যজ্ঞে নেমেছে, সেই সময় সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে রাজ্যে জমি খুঁজতে নেমেছে বিজেপি।

বিজেপির সম্প্রতি রথযাত্রা প্রসঙ্গে জননেত্রী বলেন,ওটা রথ,না ফাইভ স্টার হোটেল! ওটা আসলে রাবণ যাত্রা। এবার সেই রাবণকে আমরা বধ করব। আর যে রাস্তা দিয়ে রথ যাবে পরদিন সেই রাস্তা পবিত্র করতে পবিত্র যাত্রা করবেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা৷ কিন্তু ওদের কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। “বাংলায় বিজেপির ঠাঁই নেই৷ বাংলা উন্নয়ন কাকে বলে দেখেছে। বাংলা গণতন্ত্র কী তা বুঝেছে৷ কিন্তু বিভেদ, সাম্প্রদায়িকতায় উসকানি নিয়ে যে শক্তি উন্নয়নে বাধা দিতে চায়, রাজ্যে অশান্তির সৃষ্টি করতে চায়,বাংলার সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে নেই৷ রাজ্যের সাম্প্রতিক সমস্ত নির্বাচনে তার যোগ্য জবাব দিয়েছে বাংলার গণতন্ত্রপ্রিয়,শান্তিপ্রিয় মানুষ৷ ভবিষ্যতেও রাজ্যের মানুষ এভাবেই সমস্ত অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করবে৷

এই যে কেন্দ্রের সরকার বাংলাকে বিভিন্নভাবে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে, এর জবাবও মানুষ দেবে আগামী নির্বাচনে। কোনও একটি রাজ্য সরকারের পক্ষে এই অল্পসময়ে উন্নয়নের কাজ দেখানোর পক্ষে যথেষ্ট কঠিন৷ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে কাজটা আরও কঠিন হওয়ারই কথা৷ কারণ এখানে বিগত ৩৪ বছর ধরে সিপিএমের সরকার এমন প্রশাসন চালিয়েছে, যারা রাজ্যে কেবল অপশাসনই কায়েম রেখেছিল৷ যাদের বন্ধ্যা নীতি, অকর্মণ্যতা আর দুর্নীতি বাংলাকে সমস্ত দিক থেকে পিছিয়ে দিয়েছে৷ বন্ধ থেকেছে উন্নয়নের সব পথ৷ রাজ্যের প্রান্তে প্রান্তে হার্মাদ বাহিনী ছেড়ে দিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্বই কায়েম করা হয়েছিল৷

ইউপিএ সরকারের রাজ্যের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ,বঞ্চনা,অবজ্ঞার সঙ্গে লড়াই চালিয়েও সীমিত ক্ষমতার মধ্যে রাজ্যকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছেন জননেত্রী। বাংলায় শাসন ক্ষমতায় এসে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সুপ্রশাসনের মাধ্যমে বাংলাকে যেভাবে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে এসেছেন জননেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়,তাতে দেশবাসী অভিভূত৷ সেই পথেই এগিয়ে যাবে বাংলা৷ আর বাংলার পথে চলবে সারা ভারতবর্ষ৷ দেশকে পথ দেখাবেন জননেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আগামী ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশ দেখিয়ে দেবে, কেন্দ্রে বিজেপির দিন শেষ হয়ে এসেছে৷ এক সমৃদ্ধ,ঐক্যবদ্ধ,গণতান্ত্রিক ভারত গঠন শুরু হবে শীঘ্রই৷ আর সেখানে বড় ভূমিকা থাকবে বাংলারই।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers