১৯শে জানুয়ারি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সমাবেশ

মেঘাংশী দাস

দেশ বাঁচাতে মমতার ডাকে ‘ব্রিগ্রেড চলো’

আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সর্বকালের সেরা জমায়েত করে নয়া ইতিহাস গড়বেন দেশনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বৈরাচারী বিজেইর বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে দিল্লি গেরুয়া পার্টির বিদায়ের শেষ ঘন্টা বাজিয়ে দেবেন জননেত্রী। ১৯শে জানুয়ারির জনসমুদ্র থেকেই লোকসভা ভোটে বিরোধী শক্তির যাত্রাপথের দিকনির্দেশ করে দেবেন মা-মাটি-মানুষের নেত্রী।

বাংলার অগ্নিকন্যার ডাকে সাড়া দিয়ে তাই বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ব্রিগেডে আসার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। শুধু বাংলা নয়, অসম-ত্রিপুরা-ওড়িশা থেকে শুরু করে ঝাড়খন্ড-বিহার-দিল্লি-সহ উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের হাজার হাজার মানুষের মধ্যে কলকাতার ঐতিহাসিক সভায় যোগদান নিয়ে তীব্র উন্মাদনা শুরু হয়েছে। বাংলার উত্তরের কার্শিয়াং থেকে কাকদ্বীপ, মালদহ থেকে মেদিনীপুর-ঝাড়গ্রাম, সর্বত্রই বুথে বুথে তৃণমূল কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্রিগেডের সভায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে কারখানার শ্রমিক, বেসরকারি-কর্পোরেট সংস্থার কর্মীরাও এবার দলে দলে ব্রিগেদের ওই জনসমুদ্রে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বস্তুত এই কারণে এখন পাড়ায় পাড়ায়, মিলে-কারখানায় ১৯শে জানুয়ারির সমর্থনে একাধিক জাঠা বেরিয়েছে। নেত্রীর এই ঐতিহাসিক কর্মসূচির সমর্থনে বাংলার বিভিন্ন জেলায় প্রস্তুতি-জনসভা করছেন তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলায় জেলায় সভা করছেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তৃণমূল মহাসচিব ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, দলের রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ সুব্রত বক্সি, কলকাতার মেয়র ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসরা। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতেও প্রস্তুতির জনসভা সম্পূর্ণ করেছেন অভিষেক। ব্রিগেডের ঐতিহাসিক জনসভার প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সভাপতি নিজে প্রতিদিন ব্রিগেড ময়দানে অস্থায়ী অফিসে বসছেন।

পুলিশের সঙ্গে মাঠ পরিদর্শনের পর খুঁটিপুজো সেরে মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মূল মঞ্চ ছাড়াও আরও কয়েকটি ছোট মঞ্চ বাঁধা হচ্ছে ব্রিগেডের একদিকে। মঞ্চগুলির পরিকল্পনা থেকে শূরু করে অন্য সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েও প্রতিমূহুর্তে নজরদারি চালাচ্ছেন স্বয়ং যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিদিনই বিস্তারিত রিপোর্ট দলের কর্ণধার দেশনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে শীর্ষ নেতৃত্ব। জেলায় জেলায় ব্রিগেড সভার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বাস-গাড়ি থেকে আরম্ভ করে নানা ধরনের যানবাহন বুকিং সম্পূর্ণ করেছেন দলের নিচুতলার নেতা-কর্মীরা। সাজ সাজ রব শুরু হয়েছে জঙ্গলমহলের আদিবাসী পল্লি থেকে আরম্ভ করে শহরের নানা আবাসনেও।

তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি জানিয়েছেন, গঙ্গাসাগরে মকর সংক্রান্তি সম্পূর্ণ হওয়ার পরই কলকাতায় পা রাখতে শুরু করবেন তৃণমূল নেতা কর্মীরা। আসবেন ভিন রাজ্যের দলীয় নেতা-কর্মীরাও। সকলের জন্যই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকী, সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক থেকে শুরু করে স্টেডিয়াম, হেস্টিংস, উত্তর কলকাতার বিভিন্ন ধর্মশালা ও আবাসিক কেন্দ্রে বাইরে থেকে আসা দলের কর্মী-সমর্থকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতা-কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা সরেজমিনে ঘুরে দেখে নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু থেকে শুরু করে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, তাপস রায়-সহ একঝাঁক তরুণ নেতৃত্ব।

ব্রিগেডের প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিটি জনসভাতেই বিজেপিকে করা ভাষায় আক্রমণ করেছেন যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কেন্দ্রীয় সভা বারুইপুর রাসমাঠে অভিষেক বলেছেন, “আগামী ১৯শে জানুয়ারির ব্রিগেড সমাবেশে বাজবে বিজেপির মৃত্যুঘন্টা। ২০১৯-এ শেষ ঘন্টা বাজবে বিজেপির। ব্রিগেড থেকে শুরু হবে সেই কাজ। সারা ভারতের তাবড় নেতারা থাকবেন এই ব্রিগেডে। ওমর থেকে ফারুক , তেজস্বী থেকে অখিলেশ, সবাই থাকবেন সেখানে আর সেখান থেকেই বিজেপির মৃত্যুঘন্টার সূচনা হবে।” অভিষেক বলেন, “বিজেপি যত হারবে ততই কমবে গ্যাসের দাম। আরও কমবে পেট্রোলের দাম। সঙ্গে কমবে জিএসটি। ওই দলকে কেন্দ্র থেকে হঠাতে পারলে গ্যাসের দাম ৫০০ টাকা হবে। তেলের দাম ৫০ টাকা।” তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আর শুধু বাংলার নেত্রী নন তিনি দেশনেত্রী। আর তা৬র ডাকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন রাজনৈতিক নেতারা।” যুব সভাপতি দাবি করেছেন, “এই ব্রিগেডের আলাদা সন্ধিক্ষণ রয়েছে। সারা ভারত থেকে নেতৃত্বরা এসে এই ব্রিগেডকে সফল করবেন। ফারিক আর অখিলেশ সবাই আসবেন। আর তাঁদের সকলের নেতৃত্বে থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

চলতি বছরেই লোকসভা ভোট আর অভিষেক এই জেলারই ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রের সাংসদ। তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, “এই জেলায় চারে চার। আর রাজ্যে ৪২টি তে ৪২টি আসনে জিতবে আমাদের দল। এই জেলা থেকে প্রথম পরিবর্তনের চাকা ঘুরেছিল। ব্রিগেডের ১০ লক্ষ মানুষ এই জেলা থেকে উপস্থিত থাকবেন।” বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিষেক রাজ্যের কৃষকদের সঙ্গে দেশের কৃষকদের পরিস্থিতিরও তুলনা টানেন। তিনি বলেন, “আমরা কৃষকদের জুন্য দশ হাজার কোটি টাকা দিয়েছি। বিজেপি পাঁচ হাজা কোটি টাকার মূর্তি বানাবে আর প্রধানমন্ত্রী শুধু বিদেশ সফর করছেন। এই ব্রিগেড থেকে বিজেপিকে ভারতছাড়া করতে হবে। লোকসভা ভোটের পর অণুবীক্ষণ থেকে যন্ত্র দিয়ে বিজেপিকে খুঁজতে হবে। বাংলা থেকে আমেদাবাদ ও লখনউ থেকে লোক আনছেন। লোকসভা ভোটের পর এরা এক্সপ্রেস ধরে বাড়ি পালাবে।” তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেসকে ইডি, সিবিআই দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না।”

বারুইপরের মঞ্চে তৃণমূলের মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নবীনের রক্ত আর প্রবীণের বুদ্ধু দিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রাজ্যের মানুষের উন্নতির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, রাজ্যে বিরোধীদের কাজ হল বন্‌ধ করা, বিভাজন করা।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers