১২-ই জল দিবস, হাঁটবেন উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী

সুব্রত ভট্টাচার্য

দেশের জলস্তর নামছে। সতর্কতা এসেছে রাজ্যেও। পশ্চিমবঙ্গের ৩১টি ব্লকের জলস্তর খুবই নেমে গিয়েছে বলে রিপোর্ট পেয়েছে নবান্ন। তাই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জল বাঁচাতে তাই আগামী ১২ জুলাই জোড়াসাঁকো থেকে হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ওই দিনটিতেই “জল বাঁচাও” দিবস হিসাবে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন মা মাটি মানুষের সরকারের নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

শুধু সরকারিভাবে নির্দেশই নয়, বিধানসভায় জল অপচয় রুখতে জনপ্রতিনিধিদের বাড়তি উদ্যোগ নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চেন্নাই-সহ তামিলনাড়ু ও দেশের বিভিন্নপ্রান্তে যেভাবে জলকষ্ট বাড়ছে, তাতে জল বাঁচানোর প্রয়জনীয়তাও বাড়ছে। তাই সোমবার এসএসকেএম সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব জুড়ে তথা সারা দেশে ও জলের সমস্যা দেখা দিচ্ছে তার থেকে রক্ষা পেতে এখন থেকেই কাজ শুরু করা দরকার। তার জন্য এবার থেকে প্রতি বছর ১২ জুলাই রাজ্যে পালিত হবে “জল বাঁচাও, জীবন বাঁচাও” অর্থাৎ জল বাঁচাও দিবস।

পথ দুর্ঘটনা রুখতে “সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ” অভিযান চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার চর্চা দেশ জুড়ে হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও পরিবেশ রক্ষার জন্য সেভ এনার্জি, সেভ আর্থ আ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট শীর্ষক কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, সপ্তাহে অন্তত একদিন আধঘণ্টা বিদ্যুতের ব্যবহার না করা অথবা অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করার জন্য। এবার জল বাঁচাতে “সেভ ওয়াটার, সেভ লাইফ” অভিযানের ডাক দিলেন রাজ্যবাসীর “দিদি” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিশেষ দিনটির জন্য আগামী ১২ জুলাই দুপুর তিনটে নাগাদ তিনি নিজে হাঁটবেন মিছিলে। বিদ্যুতের অপচয় বন্ধেও একটি দিবস পালন করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

২০১৩ সাল থেকে রাজ্যে পালিত হয় মাটি উৎসব। যা ২০১৫ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়ার পর এখন পালিত হয় দেশ জুড়ে। ১৪ জুলাই পালিত হয় কন্যাশ্রী দিবস। সেই পথ ধরেই এবার জল সঞ্চয়ের জন্য ১২ জুলাই রাজ্য জুড়ে এবার থেকে পালিত হবে “জল বাঁচাও, জীবন বাঁচাও” অর্থাৎ জল বাঁচাও দিবস। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায়ও বার্তা দিয়েছিলেন, “ জল ধর জল ভরো’ প্রকল্পে জলাশয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।“ তিনি বিধানসভায় উল্লেখ করেন, চেন্নাইয়ে নাকি জল মিলছে না। খাবার জল নেই। স্কুল-কলেজ বন্ধ। বন্ধ রেস্তোরা। ভূমির জলস্তরের নিচে জল মিলছে না। সবটাই বিশ্ব উষ্ণায়ণের কারণে হচ্ছে। রাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ সমীক্ষায় আমাদের রাজ্যের কয়েকটি ব্লকে সমস্যা রয়েছে। তাই“জল ধরো, জল ভরো’ কর্মসূচি রূপায়ণ বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে জলাশয়। বিকল্প চাষ বাড়াতে হবে। যতটা জল দরকার ততটাই খরচা করতে হবে। মৎস্য দফতরকে ‘জল ধরো, জল ভরো” প্রকল্পে মাছ চাষের কথা বলেছি। এতে জীবিকার সুরাহা হবে।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, “জলের অপচয় রুখতে হবে। আমরা বিদ্যুতের অপব্যবহার করি। জল পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এটা সামাজিক সমস্যা। জনপ্রতিনিধিরা যদি সমস্যা মোকাবিলায় উদ্যোগ নেন, খুব ভাল হয়।’

 

 

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers