হেনস্থাই লক্ষ

৩৪ বছরে সিপিএমের হার্মাদরা বাংলাকে একটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে দিয়ে গিয়েছিল। সেই জায়গা থেকে বাংলাকে টেনে তোলা ছিল এক কঠিন কাজ। সেই কঠিন কাজটাই গত আট বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে চলেছেন। তিনি যেভাবে রাজ্যে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন, তা এক কথায় নজিরবিহীন। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত উন্নয়ন অতীতে দেশের কোনও রাজ্যে হয়নি। বাংলায় রাস্তাঘাট বলে কিছু ছিল না। আজ বাংলার প্রতিটি গ্রামে ঝকঝকে রাস্তা। আমরা সবাই জানি ভাল রাস্তা মানেই উন্নয়নের কাজে গতি আসা। রাস্তার হাত ধরেই উন্নয়ন আসে। আজকে বাংলায় কৃষকদের আয় তিন গুণ বেড়েছে। ভারতবর্ষের অন্যত্র যখন কৃষকরা তাদের ফসলের দাম না পেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন, তখন বাংলায় কৃষি উৎপাদন বাড়ছে। কৃষকের আয় বাড়ছে। এটা সম্ভব হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে, রাজ্যজুড়ে ঝাঁ-চকচকে রাস্তা গড়ার ফলে। বাম আমলে রাজ্য সরকার কার্যত স্থবির হয়ে গিয়েছিল। প্রশাসনিক কাজকর্ম লাটে উঠেছিল। সরকার তার নিজস্ব আয় বাড়ানোর চেষ্টা করত না। কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে রাজ্যের প্রাপ্য ছিনিয়ে আনার চেষ্টাও করত না। ফলে রাজ্যবাসীর কষ্ট এক দুর্বিষহ অবস্থায় পৌঁছেছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ছবির সম্পূর্ণ বদল ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর আমলে প্রশাসন ফের সচল হয়েছে।  জেলায় জেলায় গিয়ে দিনের পর দিন প্রশাসানিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য প্রশাসনকে সচল করতে পেরেছেন। রাজ্য প্রশাসনের সচল হওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল, গত কয়েক বছরে রাজ্যের নিজস্ব আয় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। কেন্দ্রের থেকে প্রাপ্য ছিনিয়ে আনার ক্ষেত্রেও বাংলার জননেত্রী সফল হয়েছেন। যদিও বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যের প্রতি সব রকম বঞ্চনা ও বিমাতৃসুলভ আচরণ রয়েছে। তবুও বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য এক অভূতপূর্ব অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছে, গত বছরে রাজ্য সরকার উন্নয়নের জন্য ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে। বাম আমলে যেটা ছিল সামান্য ১০-১২ হাজার কোটি টাকা। বোঝাই যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গকে মুখ্যমন্ত্রী কোন উন্নয়নের জায়গায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে বিজেপি তাই যেকোনও মূল্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রুখতে চায়। তারা জানে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রুখতে হলে দেশের সামনে হেনস্তা করতে হবে। সেই পরিকল্পনা নিয়েই দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে মোদি সরকার চলেছে। রাজ্যের বিরুদ্ধে অসত্য ও কুৎসা প্রচার চলছে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers