স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর দেখানো পথেই হাঁটতে শুরু করল দেশ

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

গৌতম জোয়ারদার

রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী-র অনুকরণে কেন্দ্র ‘আয়ুস্মান ভারত’ বিমা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এবার ডাক্তারের ঘাটতি পূরণের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফর্মূলা মেনে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ঘণ্টাপিছু পারশ্রমিকের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে বেসরকারি পরিসরে থাকা ডাক্তারদের। প্রয়োজনে যুক্ত করা হবে অস্ত্রোপচারেও। গোটা দেশ জুড়েই এই সিদ্ধান্ত লাগু হতে চলেছে। এমসিআইয়ের তা রাজ্যকে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। হ্যাঁ, বাংলার দেখানো পথে ফের হাঁটতে বাধ্য হল দেশ।

দু’বছর আগে পিজি হাসপাতালের ইএনটি বিভাগে “ভিজিটিং কনসালট্যান্ট” হিসাবে যুক্ত হন হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালের অঙ্কোসার্জন ডঃ সৌরভ দত্ত। মাস তিনেক আগে ওই ইএনটি ঘণ্টাশ্রমের ভিত্তিতে যুক্ত করা হয়। অঙ্কোসার্জন হর্ষ ধর, প্লাস্টিক সার্জন আদিত্য কানোই সৌরভেরই সহকর্মী। একজন ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন ও একজন অ্যানেস্থেশিস্টকেও যুক্ত করা হয়েছে।

প্রত্যেকেই বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। কিন্তু সপ্তাহে দু’থেকে তিনদিন সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত শ্রম দান করেন। পিজির ইএনটি বিভাগের প্রধান ডাঃ অরুণাভ সেনগুপ্ত জানালেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাক্তারের ঘাটতি নিয়ে বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর নির্দেশেই পিজিতে বেসরকারি ক্ষেত্রের ডাক্তারদের সরকারি পরিষেবায় যুক্ত করা হয়।” অরুণাভবাবুর দাবি, এঁরা যোগ দেওয়ায় পরিষেবার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। গত দু’বছরে পিজিতে আড়াইশোর বেশি ‘মেজর’ হেড-নেক সার্জারি হয়েছে। পিজি-র দেখাদেখি আরও অনেক মেডিক্যাল কলেজ “ভিজিটিং কনসালট্যান্ট” নিয়োগ করেছে। সেই মডেলই এবার গোটা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। এমনই দাবি রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তাদের। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, এখন সার্জারির ক্ষেত্রে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে ঘণ্টাপিছু দেড় হাজার টাকা, কম হলে হাজার টাকা দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর এই সংক্রান্ত নির্দেশিকাও প্রকাশ করে রাজ্য। ‘রেট’-এর ব্যাপারেও রাজ্যের সেই নির্দেশিকাকেই অন্ধের মতো অনুসরণ করেছে কেন্দ্র। দাবি অরুণাভবাবুর। ক্লাসও নিচ্ছেন। কেন্দ্রের পাঠানো ‘অ্যাডভাইসরি’-তেও প্রাইভেট সার্জনদের শিক্ষাক্ষেত্রে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

সুতরাং এটা যে বাংলার ২০১৭ সালের মডেল, সেই নিয়ে কোনও দ্বিধা বা সংশয় নেই। এমনটাই জানিয়েছেন সাংসদ তথা তৃণমূলের চিকিৎসক সেলের নেতা ডাঃ শান্তনু সেন। তাঁর মত, অতীতে বাংলাকে বহুবার অনুসরণ করতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। ডাক্তারের ঘাটতি পুরণে বাংলার মডেলকেই মান্যতা দিল কেন্দ্র। তবে আরও ভাল হত যদি কেন্দ্র স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে বাংলার পরিষেবা” নীতি কার্যকর করত। নয়া অ্যাডভাইসরিতে উল্লেখ, প্রাইভেট হাসপাতালের সার্জনরাও এবার সরকারি হাসপাতালে এসে অস্ত্রোপ্রচার করতে পারবে। এর জন্যে ঘণ্টাপিছু দেড় হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দৈনিক ছ’ঘন্টা সপ্তাহে সর্বোচ্চ
তিনিদিন তারা সরকারি পরিসরে পরিষেবা দিতে পারবেন। এই হিসেবে ডাক্তারদের সামনে মাসে লাখ টাকার বেশি উপার্জনের সুযোগ তৈরি হল।

গ্রামের মানুষদের চিকিৎসা করলেও মিলবে অর্থ উপার্জনের সুযোগ। শহরের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল অথবা জেলা হাসপাতালে শুরু হয়ে গিয়েছে ল্যাপেরোস্কোপিক সার্জারি। রাজ্যের প্রত্যন্ত জেলায় একাধিক ক্যাম্প বসে। মেডিক্যাল কলেজ, মহকুমা হাসপাতাল এবং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা যান। সার্জারির বিভিন্ন টেকনিক হাতেকলমে শিখিয়ে দেন নভিস চিকিৎসকদের। এতদিন বিনামূল্যে সে ‘ডিউটি’ দিতে হত। এবার তার জন্য মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে পাবেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

রাজ্যের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে ৪১টি মাল্টিসুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। সেগুলো চালানোর জন্য বেসরকারি পরিসরে থাকা ডাক্তাররা ওপিডিতে বসছেন। ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার ছ’টি স্তরে তাঁরা সপ্তাহে তিনদিন করে রোগী দেখছেন। স্বাস্থ্যভবন তাঁদের জন্য ন্যূনতম সাম্মানিক ধার্য করেছে ঘণ্টায় ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হলেই মিলছে আউটডোরে বসার সুযোগ।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial