স্বাস্থ্যসাথীর স্মার্ট কার্ড গৃহকর্ত্রীদের হাতে, বাড়ি বাড়ি মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি

বাংলার সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য হচ্ছে বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবা। এমনিতেই সরকারি হাসপাতালে মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে রাজ্য। এবার সাধারণ মানুষকে নিখরচায় এবার সাধারণ মানুষকে নিখরচায় বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করলেন ‘স্বাস্থ্যসাথী স্মার্ট কার্ড’ প্রকল্প। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল গ্ররহকর্ত্রীর নামে হবে স্মার্ট কার্ড। যে কার্ডটির সাহায্যে গৃহকর্ত্রী তাঁর পরিবারের অর্থাৎ স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, সন্তান, বিয়ে না হওয়া দেওর, ননদ, সবার বেসরকারি ক্ষেত্রে চিকিৎসায় বড়সড় ছাড় পাবেন। ছোট অসুখের ক্ষেত্রে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এই সুযোগ মিলবে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, শুধু শ্বশুড়বাড়ি নয়, বাপের বাড়িতে থাকা কর্ত্রীর মা-বাবারাও চিকিৎসা করানো যাবে এই কার্ডের মাধ্যমে।

তারকেশ্বরে হুগলি জেলার প্রশাসনিক সমাবেশে এই নতুন প্রক্লপের কথা ঘোষণা করেন জননেত্রী। তিনি জানান, রাজ্যের সাড়ে ন,কোটি মানুষের মধ্যে সাড়ে সাত কোটি মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেসরকারি পরিষেবা পাবে। এখানেই উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের অনেক আগেই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে চালু করেছেন ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প। আর এই প্রকল্পের ফলে সাধারণ মানুষ বিপুল মাত্রায় উপকৃত হচ্ছেন, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন।

‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে রাজ্যের অংশীদারিত্ব আড়াল করে কেন প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে বাড়ি বাড়ি চিঠি যাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প থেকে রাজ্যকে সরিয়েও নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নিম্ন আয়ের সমস্ত পরিবারের কাছে যাবে মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি। যে চিঠি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর থেকে সংসারের কর্ত্রী পাবেন একটি স্মার্ট কার্ড। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ওই চিঠি ফেলে দিন। আয়ুষ্মান ভারত বাংলায় নেই। আমাদের শেয়ার অস্বীকার করা হয়েছে। তাই আমরা ওটাকে বাতিল করেছি। ওরা যা বলছে সব মিথ্যা। ও সব প্রকল্প নেই। আমরা ৯২৫ কোটি টাকা খরচ করে একা এই প্রকল্প করব। পঞ্চায়েত কর্মী থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার্স, এসএসকে, এমএসকে, প্রাথমিক শিক্ষক, ছোট দোকানদার-সহ নানা অসংগঠিত ক্ষেত্র অর্থাৎ নিম্ন আয়ের সঙ্গে যুক্ত রাজ্যের সমস্ত মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। সবচেয়ে বড় কথা সংসারের কর্ত্রী হিসাবে যিনি রয়েছেন তাঁর হাতে আমরা কার্ড দেব। যার ফলে একজন মহিলা শ্বশুরবাড়ি, বাপের বাড়ির লোকজনের চিকিৎসা করাতে পারবেন।” সকলেই বলেছেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগে ‘স্বাস্থ্যসাথী স্মার্ট কার্ড’ –এর মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়নে আরও একটি পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাজ্যবাসীর জন্য ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পের ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হয় রাজ্যের মানুষকে। সরকারি তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় চার লক্ষের অধিক মানুষ ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পেয়েছেন। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৪০০ কোটি টাকার উপরে খরচ হয়েছে। আরও পরিবারকে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার কাজ করছে। এখন ৫৫ লক্ষ পরিবার ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের উপভোক্তা। আরও ৮৫ লক্ষ পরিবার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে। যাঁরা এই প্রকল্পের কার্ড পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের বাড়িতে চিঠি পাঠাবে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে এই প্রকল্পের জন্য একটি টাকাও নিচ্ছে না রাজ্য। পুরো খরচটাই বহন করছে রাজ্য সরকার।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers