স্বাগত উনিশ

স্বাগত ২০১৯। নতুন স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা আর প্রত্যাশা নিয়ে আবার একটি নতুন বছর এসে গেল। বাংলার প্রতিটি অংশের প্রতিটি মানুষের কাছে এই নতুন বছর হোক আলোকিত ও মঙ্গলময়। সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিদেশে পেশাগত কারণে থাকা বাংলার সব মানুষের নতুন বছর খুব ভাল কাটুক। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলায় এই নতুন বছর হবে অসীম সাফল্যের ও সমৃদ্ধির। এই উনিশ সাল সারা ভারতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রে পরিবর্তনের বছর হতে চলেছে এই বছরটি। যা হবে কেন্দ্রের বর্তমান সরকারের অগণতান্ত্রিকতা, জনবিরোধী নীতির হাত থেকে মুক্তির। এই উনিশের শুরুতেই ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডে জনসমাবেশের ডাক দিয়েছেন জননেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সারা ভারত থেকে বিরোধী নেতৃত্ব সমবেত হবেন এক মঞ্চে।

 

সেখানে কেন্দ্র থেকে বিজেপি সরকার হঠানোর শপথ নেওয়া হবে। প্রায় সাড়ে তিন দশক সিপিএম নেতৃত্বের বামফ্রন্ট সরকার শাসনক্ষমতায় থেকে বাংলাকে যে অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছিল, জননেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সেই জায়গা থেকে তুলে এনে আলোকিত করেছেন। নতুন বছরে সেই আলো আরো উজ্জ্বল হবে। সেই আলো ছড়িয়ে পড়বে সারা ভারত জুড়ে। সারা ভারতকে পথ দেখাবে বাংলা। তবে তেমন সমৃদ্ধির ভারতবর্ষ প্রতিষ্ঠার জন্য একত্রিত হতে হবে বাংলার সব শুভানুধ্যায়ী ও গনতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে। শুধু তাই নয়, বাংলাকে সাবলম্বী করার, বাংলাকে দেশের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাজ্যরূপে প্রতিষ্ঠা করার যে শপথ নিয়েছেন জননেত্রী, তাকে বাস্তবায়িত করতে রাজ্যের সকল সাহসী মানুষ তাঁর পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের আমলে অন্যায়-অনাচার-অপশাসন বাংলাকে গ্রাস করেছিল। সেই সমস্যাকন্টকিত রাজ্যে পরিবর্তন এনেছেন জননেত্রী। রাজ্যের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এক কঠিন লড়াইয়ে নেমেছিলেন জননেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেই লড়াইয়ে ঐতিহাসিক জয় এসেছে।

 

আজ মা-মাটি-মানুষের সরকার অন্ধকার সরিয়ে রাজ্যকে আলকিত করেছে। এই সাফল্যের প্রধান কারণ, সাধারণ মানুষ আছেন জননেত্রীর পাশে। রাজ্যে এখন উন্নয়েনের জোয়ার। রাজ্যে শান্তি বিরাজ করছে। কিন্তু বিভেদ, সাম্প্রদায়িকতায় উসকানি নিয়ে যে শক্তি উন্নয়নে বাধা দিতে চায়, রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, বাংলার সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে নেই। রাজ্যের সাম্প্রতিক সমস্ত নির্বাচনে তার যোগ্য জবাব দিয়েছে বাংলার গণতন্ত্রপ্রিয়, শান্তিপ্রিয় মানুষ। ভবিষ্যতেও রাজ্যের মানুষ এভাবেই সমস্ত অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করবে। এই যে কেন্দ্রের সরকার বাংলাকে বিভিন্নভাবে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে, তারও জবাব দেবে মানুষ উনিশের নির্বাচনে। কোনও একটি রাজ্য সরকারের পক্ষে এই অল্প সময়ে উন্নয়নের কাজ দেখানোর পক্ষে যথেষ্ট কঠিন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে কাজটা আরও কঠিন হওয়ারই কথা। কারণ এখানে বিগত ৩৪ বছর ধরে সিপিএম সরকার এমন প্রশাসন চালিয়েছে, যারা রাজ্যে কেবল অপশাসনই কায়েম রেখেছিল। যাদের বন্ধ্যা নীতি, অকর্মণ্যতা আর দুর্নীতি বাংলাকে সমস্ত দিক থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। বন্ধ থেকেছে উন্নয়নের সব পথ। রাজ্যের প্রান্তে প্রান্তে হার্মাদ বাহিনী ছেড়ে দিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্বই কায়েম করা হয়েছিল। ইউপিএ সরকারের রাজ্যের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ, বঞ্চনা, অবজ্ঞার সঙ্গে লড়াই চালিয়েও সীমিত ক্ষমতার মধ্যে রাজ্যকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছেন জননেত্রী। বাংলার শাসন ক্ষমতায় এসে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সুপ্রশাসনের মাধ্যমে বাংলাকে যেভাবে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে এসেছেন জননেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, তাতে দেশবাসী অভিভূত। এবার সেই পথেই এগিয়ে যাবে ভারত।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers