সুগারে সঠিক খাদ্যাভ্যাস

ডাঃ শান্তনু সেন

আজকাল ব্লাড সুগার শহর জীবনের প্রায় অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডায়াবেটিসে ভুগছে না এরকম পরিবার খুবই কম আছে। বিশেষ করে শহর ও শহরতলিতে। ডায়াবেটিস একবার ধরা পড়লে, চিকিৎসার মাধ্যমে ওষুধ খেয়ে একেবারে নির্মূল করা যায় না, কেবল কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাও, কিছুটা ওষুধে বাকিটা বিধিনিষেধ মেনে চলে। রক্তে শর্করা বা সুগারের পরিমাণ কমে গেলেও বিপদ। যাকে বলে হাইপোগ্লাইসিমিয়া বা হাইপো। রক্তে শর্করার পরিমাণ একটা নির্দিষ্ট মাত্রার নিচে নেমে গেলেই হাইপোর লক্ষণগুলি দেখা যায়। বিশেষ করে ইন্সুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস যাঁদের তাঁদের ক্ষেত্রে। রক্তে শর্করা যাতে একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে না যায় সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। এই অবস্থাকে বলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া।

অন্যদিকে, রক্তে শর্করার মাত্রা একটু আধটু বেশি হলে ওষুধের সাহায্যে তাকে কন্ট্রোলে রাখা যায়। একটু মাত্রাছাড়া হয়ে গেলে তাকে হাইপারগ্লাইসেমিয়া বলে। সুগার থেকে পা বা যে কোনও অঙ্গই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই, ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ওষুধ বা ইনসুলিন নয়, কিছু নির্দিষ্ট নিয়মাবলির মধ্যে দিয়ে যাওয়া উচিত। সঠিক খাওয়া-দাওয়া আপনাকে সুস্থ রাখবে আমৃত্যু যে যে কারণে হাইপোগ্লাইসিমিয়া আক্রমণ করতে পারে, সেগুলি থেকে দূরে থাকুন। যেমন খাবারের পরিমাণ সঠিক রাখা, সময়ের যে খাবার খাওয়ার কথা তা বাদ না দেওয়া। হঠাৎ বেশি শরীরচর্চা বা কাজ না করা। খালি পেটে মদ্যপান না করা। এগুলি মেনে চললে একজন সুগারের রোগী অবশ্যই ভাল থাকবেন।

ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক খাদ্যভ্যাস করা দরকার। সারাদিনে তিনটে মেজর মিল আর তিনটে স্ন্যাক্স খান ১৫০০ ক্যালোরি। এটাই আপনার টার্গেট হওয়া উচিত। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার যুক্ত খাবার যেন অবশ্যই খাদ্যতালিকায় থাকে। ফল, শাক-সবজি, যত পরিমাণ খাবেন ততই ভাল। সিম্পল সুগার যেমন মিষ্টি, কেক, কুকিজ, চকোলেট এড়িয়ে চলুন। ব্রাউন রাইস, রুটি চলতে পারে। বেশি করে খান বিমস, আপেল, ন্যাসপাতি, পেঁপে, মাছ ও স্কিনলেস চিকেন। হেলদি ফ্যাটযুক্ত খাবার যেমন আমন্ড, ওয়ালনাট ভাল। ডেয়ারি প্রোডাক্ট বা অন্যান্য প্রাণিজ প্রোটিনের স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলুন। ডিম, মটন, হাইলো ফ্যাট খাবার না খাওয়াই ভাল। তার পরিবর্তে ছানা খেতে পারেন। মেথি, রসুন, পিঁয়াজ, ফাইবারজুক্ত ফল যেমন- লেবু, দারুচিনি খেতে পারেন। কিন্তু সোডা ওয়াটার, ফ্রুট জুস খাওয়া কমিয়ে দিন। তার সঙ্গে ভাত, দুধ, কনসেনট্রেটেড দুধ খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। অনেকে বলেন, আমি পায়েস খাই সুগার ফ্রি দিয়ে। এতে কিন্তু কোনও লাভ হয় না। কারণ, পায়েস, মিষ্টি, চকোলেট ইত্যাদিতে যে পরিমাণ মিষ্টত্ব আছে, সুগার ফ্রি ব্যবহারে তার হেরফের হয় না। তাই খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীকে যা মনে রাখতে হবে—

১) কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এর সঙ্গে রক্তচাপও স্বাভাবিক রাখতে হবে।
২) ডায়াবেটিসকে জব্দ করতে হলে দৈহিক ওজন কমিয়ে আনুন।
৩) সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন শরীরচর্চা করুন।

শারীরিক কসরতের ফলে মাশল সেলগুলি আরও বেশি ইনসুলিন সেনসেটিভ হয়। এতে রক্তে গ্লূকোসের মাত্রা কমে যায়। টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে একদিন শরীরচর্চা করলে ভাল হয়। আর সঙ্গে প্রত্যেক খাওয়া-দাওয়ার পর একটু হেঁটে আসুন। তাতে ব্লাড সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্যে করে। আপনাকে ডায়াবেটিস আক্রমণের মধ্যেও সুস্থ রাখবে। কোনও ব্যক্তির হঠাৎ হাইপার ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা দিলেই প্রথমে তাকে আলো-বাতাস পূর্ণ পরিষ্কার ঘরে শুইয়ে দিতে হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে এক গ্লাস গ্লূকোসের জল বা ৪-৫ চামচ চিনি মেশানো জল বা বাতাসা অথবা গুড়, সন্দেশ, চকোলেট, কফি জাতীয় খাবার খাইয়ে দিতে হবে। রক্তে গ্লূকোসের মাত্রা বৃদ্ধি পেলেই ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠবে। একজন ডায়াবেটিস রোগী কোনটা খাবে আর কোনটা খাবে না এই নির্বাচন করতে গিয়ে তার হিমশিম অবস্থা হয়। উপযুক্ত পরিমাণ সুষম খাদ্য নির্বাচন না করতে পারলেই বিপদ। তাই প্রয়োজন মতো চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial