সাত বছরে ক্রেতা সুরক্ষা মানুষের দোরগোড়ায়

আদৃতা ভট্টাচার্য

মন্ত্রী ছিল। ছিল একটা গোটা দফতরও ছিল। সেই দফতরের কিছু আধিকারিক ও কর্মীও ছিলেন। কিন্তু দফতরের কাজ বোধগম্য হত না। তাই ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের কাজকর্ম নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহই ছিল না। বস্তুত থমকে যাওয়া একটি দফতরকে পুনরুজ্জীবন করে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে মা- মাটি-মানুষের সরকার। এই দফতরের নাম ক্রেতা সুরক্ষা। শুধু সমস্যার সমাধানই নয়, সমাধান করে কীভাবে নতুন পথে মানুষ এগিয়ে যেতে পারে, তারও ব্যবস্থা করেছে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর।

জননেত্রী তথা মা-মাটি-মানুষ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের কাজকে তিনিট ভাগে ভাগ করা যায়। ক) ডিরেক্টরেট অফ কনজিউমার আ্যাফেয়ার্স আ্যান্ড ফেয়ার বিজনেস প্র্যাকটিস, খ) ক্রেতা সুরক্ষা এবং গ) ডিরেক্টরেট অফ লিগ্যাল মেটিরিওলজি। সত বছরে শুধুমাত্র এই দফতরের খরচ ছিল ১০৯,২২,৬৯,২৬৫ টাকা। প্রতিটি জেলায় ক্রেতা সুরক্ষা দফতর তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে ক্রেতা সুরক্ষা আদালত। দ্রুত আইনি সমস্যার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে মানুষকে সুরাহা দিতে নিরলস কাজ করছে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর। আর তা সম্ভব হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায়। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার জন্য মা-মাটি-মানুষের সরকার বছরভর বেশ কিছু কাজকর্ম করে থাকে। এরমধ্যে রয়েছে সেমিনার, ক্যাম্প, মেলা, ম্যাজিক শো, লোকগান, কুইজ কনটেস্ট, হোর্ডিং, ব্যানার, ট্যাবলোর মাধ্যমে প্রচার। এমনকী সমস্ত সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে ক্রেতা সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আনাই দফতরের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে রচনা, পোস্টার তৈরি করা, স্লোগান বানানো এবং কুইজের মাধ্যমে প্রচার চালালো হচ্ছে। ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। যেখানে ক্রেতা সুরক্ষা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন জেলায় “কনজিউমার ক্লাব” তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, গত সাত বছরে ৮৪০টি স্কুলে এই ধরনের ক্লাব তৈরি হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, রাজ্যে তো বটেই, দেশের মধ্যেও অভিনব এই উদ্যোগ নজর কেড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। যষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে ক্রেতা সুরক্ষা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ সাল থেকে এই কর্মসূচি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে।

রাজ্যের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও ক্রেতা সুরক্ষা পরিষেবা পেতে টোল ফি নম্বর চালু হয়েছে। ২০১১ সালে চালু হওয়া এই টোল ফি নম্বর হল : ১৮০০-৩৪৫-২৮০৮। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই নম্বরে ফোন করে পরিষেবা গেয়েছেন ৪৭,৭৫৫ জন। এই সরকারি তথ্যের পাশাপাশি আর একটা কথা না বললেই নয় যে গত তিন বছরে সংখ্যা আরও বেড়েছে। ক্রেতাদের সাহায্য করার জন্য “কনজিউমার্স আ্যাসিস্ট্যান্স ব্যুরো” গঠন করা হয়েছে। অসাধু ব্যবসা বন্ধ করার লক্ষ্যে “আনফেয়ার ট্রেড প্র্যাকটিস অ্যান্ড রেসট্যাকটিভ ট্রেড প্র্যাকটিস অ্যাক্ট”-কে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে রাজ্যের ছোটবড় সমস্ত বাজারগুলিতে মাঝেমধ্যেই অভিযান চালায় ক্রেতা সুরক্ষা দফতর। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। বিশেষত ওজনের বাটখারায় ওজনমান সঠিক আছে কিনা, তা যাচাই করার দায়িত্ব পুরসভাগুলির উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে লোক আদালত। ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫৩,৩২৭টি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩,৮২৯টি অভিযোগ সমাধান করা হয়েছে। গত এক বছরে এই সংখ্যাটি যে আরও বেড়েছে, তা একপ্রকার বলাইবাহুল্য।

ডিরেক্টরেট অফ লিগ্যাল মেটরোলজির পক্ষ থেকে রাজোর প্রায় সমস্ত জেলাতেই পরীক্ষাগার তৈরি করা হয়েছে ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরির ব্যুরো ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড এবং আরও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় সংস্থার সহযোগিতায়। কলকাতার কাঁকুড়গাছি, শিলিগুড়ি এবং চুঁচুড়াতে তিনটি পরীক্ষাগার কেন্দ্রের নজর কেড়েছে। গত সাত বছরে এই খাতে খরচ হয়েছে ৯,৪৩,১৪,০৪৫ টাকা। এই কাজ সম্ভব হয়েছে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় ।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial