সর্বধর্মসমন্বয়ের মাটি বাংলা, সবচেয়ে বড় মানবধর্ম : মমতা

শঙ্খ রায়

সর্বধর্মসমন্বয়ই দেশের একমাত্র মন্ত্র। তারই বার্তা দিয়ে সাম্প্রদায়িক দলের হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে সরব হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলে দিলেন, “আমার ধর্ম হিন্দু। কিন্তু আমি সর্বধর্মসমন্বয়ে বিশ্বাস করি। মানবিকতায় বিশ্বাস করি।”

উত্তর কলকাতার বাগবাজারে চৈতন্যদেবের বিশ্বের প্রথম মিউজিয়াম তৈরি করেছে গৌড়ীয় মঠ। সম্প্রতি যার উদ্বোধনে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেই মঞ্চ থেকেই চৈতন্যদেবের সূত্র তুলে ধরে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রের সরকারকে। তাঁর কথায়, বাংলা সর্বধর্মসমন্বয়ের জায়গা। সাড়ে পাঁচশো বছর আগে চৈতন্যদেব সর্বধর্মসমন্বয়ের প্রচার শুরু করেছিলেন এই বাংলা থেকে। সেই পথেই বাংলা লড়াই করবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বড় মানুষ হওয়া এত সহজ নয়। হৃদয় যার বড়, সে-ই বড়। অত্যাচার সহ্য করে, ভালবাসা দিয়ে, অনেক অন্যায় দেখেও দমে না গিয়ে মাথা উঁচু করে চলেন তিনিই বড় মানুষ।”

চৈতন্যদেবের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাড়ে পাঁচশো বছর আগে চৈতন্যদেব সর্বধর্মসমন্বয়ের কথা বলেছিলেন বলে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অত্যাচার করে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। তবু তিনি সবাইকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন।” এর পরই মুখ্যমন্ত্রী বলে দেন, “বাংলা সভ্যতায় উদার, সংস্কৃতিতে উদার। বাংলা সর্বধর্মসমন্বয়ের জায়গা। আর হিন্দু ধর্ম কারও কেনা নয়। হিন্দু সবার ধর্ম।”

চ্যালেঞ্জ ছোড়েন দিল্লির সরকারকে নিশানা করে। বলেন, “যারা দিল্লিতে বসে বলে বাংলায় দুর্গাপুজো করতে দেওয়া হবে না, তাদের বলি বাংলাতেই লক্ষ লক্ষ দুর্গাপুজো হয়। লক্ষ্মীপুজো হয়, ছটপুজো হয়। ১০০ সেরা পুজো পুরস্কার পায়।” ধর্মীয় স্থানে উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি করছে কেন্দ্রের সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা চোখে দেখতে পায় না, তাদের জন্য দুঃখ হয়। নিজের চেয়ারের দিকে তাকিয়ে দেখুন দেশের জন্য আপনারা কী করেছেন। আর দেখুন বাংলায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য আমরা কী করেছি। আপনাদের চ্যালেঞ্জ করছি।”

৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে সংগ্রহশালাটি। থাকবে চৈতন্যদেবের পায়ের চিহ্নের মতো একাধিক মূল্যবান জিনিস। দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে গত প্রায় ৮ বছরের চেষ্টায় যা তৈরি হয়েছে বলে জানান মঠের সভাপতি ভক্তিসুন্দর মহারাজ। ৪ হাজার বইয়ের ইতিমধ্যে ডিজিটাইজেশন হয়ে গিয়েছে। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই সংগ্রহশালা তৈরির আবেদন নিয়ে তাঁর কাছে গিয়েছিলেন সভাপতি মহারাজ। কেন্দ্রের আর্থিক সহযোগিতার জন্য তখন রাজ্যের তদ্বিরের প্রয়োজন ছিল। তৎক্ষণাৎ মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন। মঠের ও সংগ্রহশালার উন্নয়নে আরও দেড় লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মঠ ও সংগ্রহশালাটি পুরনো উত্তর কলকাতার একটি গলির মধ্যে। যার জেরে তার প্রায় গায়েই একটি বসতবাড়ি রয়েছে। সেই বাড়িটিও কেনার চেষ্টা করেছিল মঠ। প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা অর্থ দাবি করা হয়। সেই বাড়িটিও কিনে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা পুরসভা একটি গেটও বানিয়ে দেবে। রাজ্যের ধর্মীয় পর্যটন হাবেও একে যুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial