সর্বজনীন

বাংলায় দীর্ঘ সময় ধরে দুর্গোৎসব পালিত হয়ে আসছে। বাড়ির পুজোর পাশাপাশি হয় অসংখ্য বারোয়ারি পুজো। বাংলার সব শ্রেণির মানুষ এই মহা উৎসবে মেতে ওঠে। কিন্ত ইদানীং কেউ কেউ এই মহাপুজো নিয়ে রাজনীতিতে নেমেছে। তাদের প্রতি জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, সর্বজনীন দুর্গাপুজো নিয়ে রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না। হিন্দুত্ববাদের জিগির তোলা দল দুর্গাপুজো নিয়েও রাজনীতির খেলায় নেমেছে। প্রচার করা হচ্ছে, এ রাজ্যে পুজো করতে দেওয়া হয় না! আগেও জননেত্রী এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, প্রমাণ করুন, নয় তো রাজনীতি ছাড়ুন। এবারও জননেত্রীর বার্তা, এটা বাংলা। এখানে দুর্গাপুজো হয়। আমরা ছোট থেকে বড় সবাই এই উৎসবের অপেক্ষায় থাকি। তিনি মিলেমিশে বাংলায় সব ধর্মের উৎসব পালনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এখানে দুর্গাপুজোর বিসর্জন আর মহরমের মিছিল একসঙ্গে হয়। আপনারা সারা দেশে এমন দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন? মহারাষ্ট্রে গণেশপুজো আর মহরম একসঙ্গে হতে পারে? আসলে তিনি এই বাংলায় “সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের” বার্তাটিই দিয়েছেন। জননেত্রী একাধিকবার বলেছেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।”

বাংলার এই ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়েই জননেত্রী বলেছেন, রেড রোডে চার ঘণ্টা ধরে যে কার্নিভাল আমরা করি তা গর্বের। এই কার্নিভাল সারা বিশ্বের কাছে সমাদৃত। বিদেশি চ্যানেলগুলিতেও দেখানো হয়। বহু বিদেশি দর্শক কার্নিভাল দেখতে আসেন। এবারে সংখ্যাটি আরও বাড়বে। গত পাঁচ বছর ধরে মহরম ও পুজো একইসঙ্গে পড়ত। এবার তা আর হচ্ছে না। তবু আমরা একইসঙ্গে মহরম ও পুজো সামলে এসেছি। এটা বাংলার ঐতিহ্য। প্রত্যেকে দায়িত্ব পালন করেছে। আমাকে নাকি বলা হয়, আমি বাংলায় দুর্গাপুজো করতে দিই না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছোটবেলা থেকেই পূজো আসার আগে বাবার কাছে নতুন জামা, জুতো কিনে দেওয়ার জন্য বায়না করতাম। আমি সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাই । আমার ভাল লাগে।” তিনি পুজোয় কর বসানোরও বিরোধিতা করেছেন। আসলে, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরকালই দুর্গাপুজোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। রাজ্যে মা-মাটি-মানুষের সরকার আসার পর তাঁর উদ্যোগেই দুর্গাপুজো জাতীয় উৎসবের পর্যায়ে উঠে এসেছে। তিনি নিজে অনেকগুলি পুজোর উদ্বোধন করেন। মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে উদ্যোক্তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেন। এই সময় আইন-শৃঙ্খলা, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা ইত্যাদি বিষয়ে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন, পরামর্শ দেন। তিনিই জনগণের উৎসব বারোয়ারি পুজোয় আর্থিক অনুদান দেওয়া শুরু করেছেন। এবার সেই অনুদান বেড়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। মহিলা পরিচালিত পুজোয় আরও অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা করে দেবে কলকাতা পুলিশ। বস্তুত, দুর্গাপুজোয় সার্বিকভাবে সরকারি সহযোগিতার দরজা খুলে দিয়েছেন জননেত্রী।

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial