সমালোচকই চিকিৎসক সমালোচনাই ওষুধ

প্রবীর ঘোষাল

 রাজনীতিতে এবং সরকারি কাজে সমালোচকরাই চিকিৎসকের কাজ করেন। রোগ নির্ণয় করেই চিকিৎসকের কাজ শেষ হয় না। রোগ নিরাময়ের উপযূক্ত ওযুধও চিকিৎসক লিখে দেন। রাজনীতি ও প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করতে ওই দু’টি যুগলবন্দি অপরিহার্য অন্যথায় বদ্ধ জলে শ্যাওলা জমার মতো ব্যাপার ঘটে। কথায় আছে, প্রবহমান জলে শ্যাওলা জমতে পারে না। “দিদিকে বলো” কর্মসূচি এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ। এটা কোন পুঁথিগত বক্তব্য নয়। ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে এটা তারই অনুভূতি। এর ভিত্তি আকাশে নয়, মাটিতে।  সমালোচনা এবং সমালোচক এক প্রকার নয়। দুই প্রকার। প্রথম প্রকারটি হচ্ছে, বন্ধুত্বমুলকভাবে ক্রটি নির্দেশ এবং তার সমাধানের পথ বাতলে দেওয়া। এই ধরনের সমালোচনা এবং সমালোচক স্বাগত। দ্বিতীয় প্রকারটি হচ্ছে, কুৎসা-দুরভিসন্ধিমূলক বক্তব্য। এই ধরনের বক্তব্য বর্জনীয়। কারণ, তাতে জনগণের কোনও উপকার হয় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেস এবং মা মাটি মানুষের সরকারের গায়ে নোংরা ছিটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা পাওয়ার চেষ্টা করা সস্তা রাজনীতি। এ্রই ধরনের চেষ্টায় প্রতিপক্ষের বিশেষ লাভ হচ্ছে না।

প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে লোকসভার সর্বশেষ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে গেল কেন? তৃণমূল কংগ্রেসের আপিস বা পাড়ার রোয়াক গরম করে এই প্রশ্নের যথার্থ উত্তর পাওয়া যাবে না। তা পেতে হলে দলীয় লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করে সরাসরি মানুষের কাছে যেতে হবে। সেই মানুষ যদি শত্রুও হয়। প্রতিবাদী হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের ঝান্ডাবাহী নাও হয় তাতে ক্ষতি নেই, বরং ভালই হয়।

 “দিদিকে বলো” কর্মসূচির নির্দেশ মেনেই আমরা সেই কাজ করছি। তাতে নিশ্চিতভাবে উপকৃত হচ্ছি। নানা অজানা বিষয় জানতে পারছি। বিছানার তলায় কোনও নোংরা চাপা থাকলে তার সন্ধান দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাঁরা আমাদের চিকিৎসকের কাজ করছেন।

এই প্রসঙ্গে চিনের একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। কমিউনিস্ট চিনের ঘটনা আমার একটি বিশেষ আকর্ষণের জায়গা। তাই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে শুনে বা প্রাসঙ্গিক বইপত্র পড়ে যতটা সম্ভব জানার চেষ্টা করেছি। যে ঘটনাটির কথা মনে পড়ছে সেটি “শত পুষ্প বিকশিত হোক” আন্দোলন নামে পরিচিত। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সর্বেসর্বা মাও সে তুং এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। চিনে কমিউনিস্ট পার্টির একদলীয় শাসন কায়েম হওয়ার পর নয়-দশ বছর কেটে গেছে। কমিউনিস্ট পার্টির একদলীয় শাসনে চিন কেমন বোধ করছে চেয়ারম্যান মাও সেটা জানার তাগিদ অনুভব করলেন। তখনই তিনি ডাক দিয়েছিলেন। “শত পুষ্প বিকশিত হোক, সহস্র চিন্তার বিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় নামুক”। অর্থাৎ চিনের মানুষ মনের কথা মনে বন্দি না রেখে মুখে প্রকাশ করুক।

“দিদিকে বলো” এবং “শত পুষ্প” আন্দোলনের মধ্যে মিল এই একটাই । বাকি সবই গরমিল। একটা উদাহরণ দিই। দিদি সাধারণ মানুষের কথা জানতে চান। চেয়ারম্যান মাওয়ের শত পুষ্প আন্দোলনে আম জনতার ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তা দেওয়া হয়েছিল বুদ্ধিজীবীদের । আর একটা উদাহরণ সাংস্কৃতিক এবং তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবীদের কোনও সমস্যা থাকলে এবং সে সব সমাধান কোন পথে চেয়ারম্যান সে সব কথা জানতে চেয়েছিলেন। এ সব উচ্চমার্গের ব্যাপার “দিদিকে বলো” কর্মসূচিতে নেই। এতে আছে উন্নয়নের সমস্যা, সরকারি জনকল্যাণ প্রকল্পের সমস্যা এইরকম সব বিষয়। অর্থাৎ, আম জনতা প্রাত্যহিক জীবনে, এই ধরনের কোনও সমস্যায় পীড়িত বোধ করলে দিদি সরাসরি জানতে চান। সীমাবদ্ধ ক্ষমতায় তার সুরাহা করতে চান। করছেনও।

এ কোনও রূপকথা নয়। বাস্তব। মাওয়ের শত পুষ্প আন্দোলনের পরিণতিটা এবার বলি। সেটাও বেশ আকর্ষণীয়। এই আন্দোলনের এক বছর কাটার মুখে কমিউনিস্ট দুনিয়া কাঁপানো দুটি ঘটনা ঘটেছিল। হাঙ্গেরিতে কমিউনিস্টদের একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন ছিল। সেই সরকার ছিল নামেই স্বাধীন। আসলে তা ছিল মস্কোর অধীন। হাঙ্গেরির মানুষ সেই তাঁবেদারি শাসনের অবসান করার সংকল্প করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হাঙ্গেরির শাসক কমিউনিস্ট পার্টির হয়নি। সুতরাং তা দমন করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের লালফৌজ রাজধানী বুদাপেস্ট এবং আন্দোলনের অন্যান্য কেন্দ্রে ট্যাঙ্ক বাহিনী নামিয়ে দিয়েছিল। তারা বেপরোয়াভাবে হাঙ্গেরিয়ান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। কয়েক হাজার লোককে হত্যা করেছিল। সাধারণ সম্পাদক এন এস ক্রুশ্চেভের গোপন রিপোর্ট । এই রিপোর্ট স্ট্যালিনের মানবতা বিরোধী হাজার হাজার অপরাধের কুকীর্তির বিবরণ ছিল।

স্ট্যালিন ছিলেন চিন বাদে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের কমিউনিস্টদের মহাগুরু। সিপিএমও স্ট্যালিনভক্ত দল। হাঙ্গেরির মুক্তি সংগ্রাম এবং স্ট্যালিনবিরোধী ক্রুশ্চেভের রিপোর্টে মাও সে তুং উদ্বিগ্ন হন। সতর্ক হয়ে যান। তাঁর আশঙ্কা হয়, শত পুষ্প বিকশিত করতে গিয়ে লাগাম ছেড়ে দিলে চিনেও কমিউনিস্ট শাসন বরবাদ করার জন্য বিদ্রোহ ঘটে যেতে পারে। তাই তিনি বছর ঘোরার পর শত পুষ্প আন্দোলনে ইতি টেনে দক্ষিণপন্থী শত্রুদের খুঁজে বার করে শায়েস্তা করার কর্মসূচি নিয়েছিলেন।

 “দিদিকে বলো” কর্মসূচিতে এমন কোনও ব্যাপার নেই। এক দলের পদানত চিনে কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া বহু দল দূরে থাক, দ্বিতীয় দলেরই অস্তিত্ব নেই। স্বাধীন সংবাদপত্রের কথা ভাবাটাই মহা অপরাধ। বহু দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের সুযোগ নেই। উকিল নেই, আপিল নেই, আদালত নেই। পার্টির কর্তাই মিলিটারির কর্তা। বাকি রইল কী? কিছুই নয়। ভারত এবং ভারত ইউনিয়নের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ওই একদলীয় কালচারের বাইরে। এখানে দিদিকে ৯১১৩৭০৯১৩৭০ নম্বরে ফোন করে বা www.didikebolo.com ওয়েবসাইটে কোনও অপ্রিয় সত্য লিখলে তাঁকে খুঁজে বার করে ড্যাং করে কেটে ফেলা তো অসম্ভব, তাঁকে একটি চিমটি কাটাও সম্ভব নয়।

কারণ তেমন কিছু ঘটলে বিরোধী দলগুলি এবং মিডিয়া তিলকে তাল করে মহা হট্টগোল বাঁধিয়ে দেবে। আদালত ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই কথাগুলি বলা খুবই দরকার ছিল। কারণ কয়েকটা লোক মানুষকে ভড়কে দেওয়ার জন্য মিথ্যা বলছে, ‘সাবধান, ওদের কথায় ভুলে “দিদিকে বলো” য় ফোনে বা লিখে জানিয়ো না। ওরা তোমাকে ঠিক খুঁজে বার করবে এবং তোমার সর্বনাশ করবে। সুতরাং এই ফাঁদে পা দিলে মরবে, কেউ বাঁচাতে পারবে না।‘

এই প্রচার যে কত মিথ্যা তার প্রমাণ মানুষের অভিজ্ঞতা। দেড় মাসের উপর এই কর্মসূচি চলছে। দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের জন্য একটা বড় অংশ নানা গলদ ও ক্রটির কথা জানিয়েছেন। এ সবই তো অপ্রিয় সত্য। তার জন্য একজনকেও খুঁজে বার করে তার কেশাগ্র স্পর্শ করা হয়নি। হয়ে থাকলে প্রতিবাদের চিল চিৎকারে আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠত। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হবে। আজাদ আলি মণ্ডল কোন দিকপাল নন। খেটে খাওয়া সাধারণ গৃহস্থ। আজাদ আলির বৃত্তান্ত আমাদের বিধানসভার মাননীয় অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে শুনেছি। তিনি আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিপিএম বিরোধী অতি বিপজ্জনক সংগ্রামের অকুতোভয় সাথী । দিদিকে সঙ্গ দিতে গিয়ে তিনি জীবন বিপন্ন করেছিলেন। তারপরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। তারও পরে বিধায়ক। পরে তিনি অধ্যক্ষ। তা অধ্যক্ষ হিসাবে নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক রূপে তিনি বারুইপুর (পশ্চিম) কেন্দ্রে দিদিকে বলো কর্মসূচিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। সেই সময়ে আরও অনেকের সঙ্গে তাঁদের প্রতিনিধি বিমানবাবুর সঙ্গে আজাদ আলিও দেখা করেন। বিমানবাবু জানতে চেয়েছিলেন, বলুন, কী বলতে চান। তিনি বলেছিলেন, একটা নালিশ আছে। তবে বলতে ভয় করছে। যদি কোনও বিপদ হয়।

বিমানবাবু অভয় দিয়েছিলেন, কোনও ভয় নেই বলুননা। ভরসা পেয়ে আজাদ আলির মুখ খুলেছিল। বিমানবাবু জানতে পেরেছিলেন একটা ভদ্রস্থ রোজগারের আশায় তিনি একটা টোটো কিনেছিলেন। ইচ্ছা ছিল বারুইপুর-মল্লিকপুর রুটে তিনি গাড়ি চালাবেন। ওই রুটে গাড়ি চালাবার অনুমতি পেতে গেলে কিছু লোকের দ্বারস্থ হতে হয়। তা আজাদ তাদের কাছে গিয়েছিল । তারা অভয় দিয়েছিল হয়ে যাবে। কোনও সমস্যা নেই। তবে খরচ আছে। বেশি নয়, মাত্র দশ হাজার টাকা। আজাদ অনেক কষ্টে দশ হাজার টাকা সেই লোকের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারপর বছর ঘুরে গেছে। তার মধ্যে ওই টাকা হজম হয়ে গেছে। কিন্তু আজাদ ওই রুটে গাড়ি বার করার অনুমতি পায় না। বিমানবাবু নালিশটা উড়িয়ে দেননি। বরং দলের বিশ্বস্ত ও সৎ কর্মীদের দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে গোপনে তদন্ত করিয়ে জেনেছিলেন, আজাদের অভিযোগ সত্য । সেদিন কেন্দ্র ছাড়ার আগে তিনি বলে গেছেন, কোনও কথা নয়। আজাদের টাকা তো ফেরত দিতেই হবে। সেই সঙ্গে ও যাতে পছন্দের রুটে গাড়ি চালাতে পারে তার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

এখানে কোন কোন অঞ্চলে নিকাশি ব্যবস্থা সুষ্ঠু নয়। পরিশ্রত পানীয় জলেরও অভাব আছে। এমন কয়েকটি অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দারা বিমানবাবুকে জানিয়েছেন। আমি জানতে চেয়েছিলাম , ওইসব শুনে তিনি কী ব্যবস্থা নিলেন? তিনি বলেছিলেন, সব ঠিক করে দিচ্ছি বলে কেন্দ্র ছেড়ে চলে এলে সেটা ধাপ্পাবাজি হতো। ধাপ্পাবাজিতে নেত্রীর কড়া নিষেধ আছে। তাই আমি মানুষের কথা আন্তরিকতার সঙ্গে শুনেছি। তাঁদের বলেছি, যত তাড়াতাড়ি যা করা সম্ভব তা করা হবে। কেবল এই কথাটুকু দিয়েছি। তারপর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে বলেছি, সমস্যা যখন আছে তখন তার সমাধানও আছে। কোনও সমস্যাই সমাধানের উর্ধ্বে নয়। সুতরাং কাজগুলো যেন পড়ে না থাকে। এলাকার মানুষ যেন দেখে কাজে হাত পড়েছে।

টোটো নিয়ে আরও কয়েক জায়গায় সমস্যা ছিল। যেমন চুঁচুড়া ও পাণ্ডুয়া। “দিদিকে বলো” কর্মসূচির সুবাদে স্থানীয় নেতারা জানতে পারেন , দলের নাম করে চুঁচুড়ায় টোটো চালকদের কাছ থেকে কিছু লোক টাকা তুলছে। দায়িত্বশীল নেতাদের কড়া হস্তক্ষেপে ওই সব লোকেরা পিছিয়েছে। পান্ডুয়ার একটি জনবহুল ও কর্মব্যস্ত এলাকায় টোটো এবং অটোচালকরা যাত্রী তোলার জন্য গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখত। ফলে যানজট। মানুষের কাজ পণ্ড। মানুষ কষ্ট পায় কিন্তু মুখ খুলে বিপদের ভয়ে প্রতিকার চাইতে পারে না।  “দিদিকে বলো” কর্মসূচিতে এই সমস্যাটিও দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানতে পারেন। তাঁরা আলোচনা করে ঠিক করেন সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে যা করতে হয় করা হোক। সেটা হলো পুলিশকে রং না দেখে, দাদা না দেখে বলে দিতে হবে এ সব আর চলবে না। যাত্রী তোলার জন্য রাস্তা আটকে রাখা বন্ধ করতে হবে। না হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। কোনও দাদাকে দেখিয়ে ছাড় পাওয়া যাবে না। এ তো মাত্র কয়েকটি ঘটনা বললাম। এ সবের দ্বারা আমি বুঝেছি, “দিদিকে বলো” কর্মসূচি একটি ভালরকম সাড়া জাগিয়েছে। এর ফলে মানুষের ন্যায্য অভিযোগের সুরাহা করার রাস্তা খুলে যাচ্ছে। কারণ, এই কর্মসূচি দলীয় অঙ্গনের বাইরে দলকে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা বুঝতে পারছে, তাঁদের কথা শোনার লোকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তাঁদের দিদি।  এই কর্মসূচিতে আমি যত মানুষের কথা শুনেছি তাঁদের কারও দিদির বিরুদ্ধে এবং তিনি যত জলকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়েছেন সে সবের বিরুদ্ধে কোনও সমালোচনা নেই। সমালোচনা আছে স্থানীয় ভাবে কিছু কিছু প্রয়োজনে । এই সমালোচনা স্বাগত। আমরা খোলা মনে তা গ্রহণ করছি এবং যতটা সম্ভব সে সব সমাধান করার দিকে নজর দিচ্ছি। দিদি সেটাই চান।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial