সব উদ্বাস্তুকেই জমির মালিকানা মুখ্যমন্ত্রীর

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

রানার চক্রবর্তী

রাজ্য সরকারের জমিতে গড়ে ওঠা উদ্ধাস্তু কলোনিগুলির স্বীকৃতি আগেই দিয়েছিলেন তিনি। এতে উপকৃত হয়েছিলেন ৯৪টি কলোনির ১৩ হাজার ৩৫৩টি পরিবার। সংখ্যার হিসাবে প্রায় ৭০ হাজার। এবার তাঁর হস্তক্ষেপে স্বীকৃতি দিল এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্র ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে গড়ে ওঠা কলোনিগুলি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় সরকারের ৯৭৩.৩ একর ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ১১৯.৫৭২ একর জমিতে মোট ২৩৭টি উদ্বাস্তু কলোনি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এতে মোট ১১ হাজার ৯৮৬টি পরিবার রয়েছেন। আসলে, এই সব কলোনির বয়স ৪৫ থেকে ৪৮ বছর। সেখানে ঘরবাড়ি বানিয়ে রয়েছেন যাঁরা, তাঁদের সেই পরিবারগুলিকে একটি করে শংসাপত্র দেবে সরকার। সেখানেই বিস্তারিত লেখা থাকবে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার আইন অনুযায়ী, যে কোনও জমিতে কমপক্ষে ৩০ বছর কেউ বাস করলে তাকে ‘আ্যাডভার্স পজেশন” হিসাবে গণ্য করা হয়। এক্ষেত্রেও তাই ধরা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বীকৃতি তো মিলছেই না। উল্টে উচ্ছেদের জন্য অনেক জায়গায় নোটিস পাঠানো হচ্ছে। ওপার বাংলা থেকে ১৯৭১ সাল এপারে আসা উদ্ধাস্ত মানুষের কষ্ট-যন্ত্রণা লাঘব করার জন্য এবং ভালোভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিতেই সব কলোনিগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়া হল।

রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাস করা রাজ্যের সব কলোনির মানুষ জমি-বাড়ি ও জীবনযাপনের অধিকার পাবেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজ্য সরকারের জমিতে গড়ে উদ্বাস্তু কলোনিগুলি রেগুলারাইজ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে সেই ঘোষণা করেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, তিনএকর পর্যন্ত জমি যাদের রয়েছে, তাদের বিভিন্নভাবে রেগুলারাইজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৪৮ বছর যারা রয়েছেন, তারা ‘না ঘরকা, না ঘাটকা’ হয়ে রয়েছেন, তাদের নিজস্ব অধিকার থাকবে। তাঁর কথায়, “এমনিতেই ১২ বছর একই জায়গায় থাকলে অধিকার হয়ে যায়। কিন্তু এঁরা পাত্তা পান না। তাঁদের জমি বাড়ির, জীবন যাপনের অধিকার হবে। নাগরিকত্বের অধিকার পাবেন। তিন একরের বেশি জমির ক্ষেত্রে সমীক্ষা হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, ৯৪টি উদ্ধাস্তু কলোনিকে মাঝে মাঝে উচ্ছেদের চিঠি দিচ্ছে কেন্দ্র। ওরা “না ঘরকা, না ঘাটকা’ হয়ে পড়ে। আগে ১৩৩৫৩ পরিবার ছিল। মোট ৭০ হাজার মানুষকে রেগুলারাইজ করা হয়েছে। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি অধিকারের জন্য উন্নয়ন কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্তও সিলমোহর দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিধানসভায় এ ব্যাপারে বিল আনা হবে। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মা-মাটি-মনুষের সরকার। আগেও বাংলার তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের কল্যাণে বিভিন্ন কল্যাণ পর্যদ গঠন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পস্ট করে নির্দেশ দিয়েছেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনওভাবেই আপস করা যাবে না। প্রশাসনকেও সব ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আগে মানুষের উন্নয়ন। প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে পরিদর্শন করতে হবে।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial