সবুজ ঝড় মানুষের জবাব ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

উপনির্বাচনে তিন বিধানসভা কেন্দ্রে মানুষের রায় প্রমাণ করে দিল, মানুষকে অসম্মান করলে, অত্যাচার করলে, ভয় দেখালে, মানুষই তার জবাব দেয়। লোকসভা ভোটের পর থেকে বাংলায় বিজেপি নেতারা প্রতিদিনই নানাভাবে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছিলেন, ভয় দেখাচ্ছিলেন, মানুষ ভোটে ইভিএম টিপে তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন। বিজেপির অহংকার ও ঔদ্ধত্যকে চূর্ণ করে দিয়েছেন ভোটাররা। মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রে মানুষই সব। মানুষের প্রতি আগেও ভরসা ছিল। এখনও আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা মানুষকেই বিচারের ভার দিই। ভুল করলে তাঁরাই সংশোধন করে দেন। মানুষ বুঝতে পেরেছেন বিজেপি কাউকে সন্মান দেয় না, শুধু ভয় দেখায়, অত্যাচার করে। তৃণমূল মানুষকে সন্মান দেয় বলেই তিন কেন্দ্রের ভোটাররা এত বিপুল ভাবে জোড়াফুল প্রার্থীদের আশীর্বাদ করেছেন।

নাগরিকদের অধিকার নিয়ে বিজেপি মানুষের সঙ্গে ছেলেখেলা শুরু করেছে। মনে রাখবেন মানুষকে তার অধিকার দিতে হয়। স্কুল-কলেজ-ব্যবসা-সহ সব কিছু স্বাভাবিক চলছে। সবারই রেশন কার্ড আছে, ভোটার কার্ড আছে, আবার নতুন করে নাগরিক অধিকার দেওয়ার কথা বলছে বিজেপি। এটা কী ধরনের নতুন নাটক? হঠাৎ এনআরসির ভয় দেখানো শুরু হল। সন্ত্রাস শুরু হল। সর্বনাশের খেলা শুরু করল বিজেপি। মানুষ এবারের ভোটে তার জবাব দিয়েছে। এই দেখুন, কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়ে পাঁচজন বাঙালি জঙ্গিদের গুলিতে মারা গেল, কেন্দ্রীয় সরকার একটা কিছু করল না। বিজেপি নেতারা একবারের জন্যও শোকপ্রকাশও করলেন না। রাজ্য সরকার প্রতিটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস দলীয়ভাবেও ওই সমস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে। সরকারের তরফে কাশ্মীর ফেরত অসহায় শ্রমিকদের সাহায্য করা হচ্ছে। আর এটাই মানুষের পাশে থাকার নীতি ও আদর্শ, আমরা এটা চালিয়ে যাবো।

বিজেপির বিভেদের রাজনীতি এখানে চলে না, চলবে না। ধর্মের মেরুকরণের বিরুদ্ধে মানুষ এই ভোটের রায় দিয়েছে। বাংলায় সমস্ত ধর্ম-বর্ণ ও জাতির মানুষ সবাই এখানে একসঙ্গে থাকে, একসঙ্গে রুটিরুজি জোগাড় করে চলেছেন। খড়্গপুরে প্রচুর অবাঙালি মানুষ থাকেন। বিজেপি তাদের নিয়ে মেরুকরণের রাজনীতি করতে গিয়েছিল। কিন্তু বাংলার মানুষের মানবিকতাকে ভিনরাজ্যের বাসিন্দারও সন্মান দিয়ে এবার ভোটে তৃণমূলকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন। কালিয়াগঞ্জে প্রচুর সংখ্যালঘু ও রাজবংশী মানুষ থাকেন। লোকসভা ভোটে তাঁদের ভুল বোঝানো হয়েছিল। তিন কেন্দ্রের ভোটের রায় প্রমাণ করে দিল, সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের পাশে আছেন। করিমপুরে দুই ব্লকেই তৃণমূল অনেক বেশি ভোটে জিতেছে।

আমি দীর্ঘদিন সংসদীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সাতবার সাংসদ হয়েছি। চার-পাঁচবার কেন্দ্রের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। মানুষের সমর্থন নিয়ে আটবছর হয়ে গেল একটা নির্বাচিত রাজ্য সরকার পরিচালনা করছি। কিন্তু বিজেপি নেতারা যাঁরা একটা পঞ্চায়েত ভোটেও জেতেননি তাঁরা এখন সরকার পরিচালনা নিয়ে শুধু জ্ঞান দিচ্ছেন, ভয় দেখাচ্ছেন। সকাল-বিকেল নানাভাবে বিজেপি নেতারা হুমকি দিচ্ছেন। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা এটা বুঝেছে, তাই তারাও জোট থেকে বেরিয়ে এল। দেশজুড়ে আওয়াজ উঠেছে, বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও। দেশকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে ঠেলে দেওয়া এই বিজেপিকে আর চাইছে না ভারতবাসী। এখন মানুষের স্বার্থে, মানুষের মঙ্গলে একটাই কথা বলব, এক-দুই-তিন, বিজেপিকে বিদায় দিন।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial