সবাই থাকবে বাংলায়, কোনও এনআরসি হবে না

হিয়া রায়

শান্তি, সংহতি, সম্প্রীতির মেলবন্ধন বাংলা। এই বাংলায় সব মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক। ভাগাভাগি, বিভেদ বাংলার মানুষ পছন্দ করে না। উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িতে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টত জানিয়ে দিলেন, বাংলায় নাগরিকপঞ্জি হবে না। আমার উপর ভরসা রাখুন, বিজেপি নেতাদের ছড়ানো গুজবে কান দেবেন না। ভয় পাবেন না। আতঙ্কিত হবেন না। বাংলার একটা লোককেও অন্য কোথাও যেতে হবে না। আমরা আপনাদের পাশে আছি।

ভেদাতেদের রাজনীতির প্রবক্তা বিজেপির কড়া সমালোচনা করে বাংলার মানুষের প্রতি জননেত্রীর বার্তা, “নাগরিকপঞ্জি নিয়ে মানুষকে ভূল বোঝানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের আগে যে এখানে ছিলেন তার কাগজপত্র দেখাতে হবে। সব মিথ্যা কথা। বাংলায় যাঁরা দীর্ঘদিন বসবাস করছেন, তাঁদের একজনকেও  আমি তাড়াতে দেব না। এখানে নাগরিকপঞ্জি হবে না, হবে না, হবে না। রাজ্যের মানুষ রাজ্যেই ধাকবেন।” রাজ্য সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জননেত্রী বলেছেন, “এখানে নাগরিকপঞ্জি করতে হলে রাজ্য প্রশাসনের সাহায্য দরকার হবে। আমরা এনআরসির মতো এমন নাগরিক স্বার্থবিরোধী কর্মসূচিতে কিছুমাত্র সাহায্য করব না। আমরা মা-মাটি-মানুষের সরকার, মানুষের পাশে আছি।”

এনআরসি নিয়ে বিজেপি নেতারা মাঝেমধ্যেই বক্তব্য দেয়। বিভেদের উসকানি দেয়। কিন্তু বাংলার মানুষ ভাগাভাগির বিরুদ্ধে। রাজ্যের মানুষ সবসময় চান শান্তির বাংলায় সকলকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে থাকতে। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাংলাজুড়ে উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়নকেন এগিয়ে নিয়ে যেতে বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে আছে। কোনও বিভেদকামী শক্তিকে তারা বাংলায় মাটিতে ঠাঁই দিতে রাজি নন। ফলত, এনআরসি বাংলায় কোনওতাবেই হবে না, তা স্পষ্টত জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্গপুজো, কালীপুজো পর্ব বাংলায় শান্তিপূর্ণভাবে মিটেছে। উত্তরবঙ্গজুড়ে ঢেলে উন্নয়নের কাজ হচ্ছে। এই উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে অক্টোবর মাসের শেষের দিকে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে জননেত্রী বলেন, “অসমে বিজেপি ক্ষমতায় তাই এনআরসি করেছে। কিন্তু বাংলায় হবে না। এই রাজ্য থেকে কেউ কোথাও যাবে না। বাঙালি হোক বা অবাঙালি, বাংলায় যাঁরা রয়েছেন, ভোটার লিস্টে নাম আছে, সবাই এই রাজ্যের নাগরিক। কোনও ‘ডিটেনপন ক্যাম্প’-এর তাই প্রশ্মই ওঠে না।”

অসমে বাদ পড়েছে বহু পাহাড়ের মানুষের নাম। সেই সূত্রেই পাহাড়ের মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারও নাম ভোটার লিস্ট থেকে যেন বাদ না পড়ে, সে ব্যাপারে প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি মানুষের কাছে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তুমি থাকবে, আমি থাকব না, তা হয় নাকি। সবার সমান অধিকার। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা সবাই দেশের নাগরিক। বাংলায় কোনও এনআরসি হবে না। আমি থাকতে করতে দেব না। ভাগাভাগি হবে না এখানে। একজন মানুষও বাংলা থেকে কোথাও যাবেন না।” এই প্রসঙ্গেই জননেত্রী বলেছেন, “কীসের সিটিজেনশিপ? আমরা যারা ভোট দিই, বাংলার মাটিতে বাস করি, সবাই ভারতের নাগরিক। ভোটের অধিকার গণতান্ত্রিক অধিকার। এই অধিকার আমাদের দিয়েছেন গান্ধীজি-নেতাজিরা।” তিনি অভিযোগ করেন, অসমে বাদ দেওয়া হয়েছে রাজবংশী ও পাহাড়ের দু’লক্ষ মানুষকে। বাংলায় এই জিনিস হবে না। তৃণমূল কংগ্রেসই ক্ষমতায় থাকবে। আমাদের সরকার ছিল, আছে এবং থাকবেও।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial