সংকটে দেশ

কেন্দ্রের ভ্রান্ত অর্থনীতির বিরুদ্ধে বরাবরই সরব হয়েছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে রাতারাতি কেন্দ্রের নোটবন্দির সিদ্ধান্ত ঘোষণা হোক, বা প্রস্ততি ছাড়া কেন্দ্রের জিএসটি কার্যকর। কেন্দ্র একগুঁয়েমি মনোভাব দেখিয়ে নোটবন্দি কার্যকর বা জিএসটি কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেনি ঠিকই, কিন্তু জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুই সিদ্ধান্তের কারণে যে বিপুল অর্থনৈতিক ধ্বসের আশঙ্কা করেছিলেন, পরে তা সত্য হয়েছে। দেশ-বিদেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই একই আশঙ্কা করেছিলেন। কেন্দ্র ফের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে দেশ আবার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। কেন্দ্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার আপৎকালীন তহবিলের টাকাতেও ভাগ বসাচ্ছে কেন্দ্র। নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত, ভুল পদক্ষেপের জন্য আর্থিক ঘাটতি পূরণ করতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ওই তহবিলে কেন্দ্রকে হাত দিতে হচ্ছে। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, “দেশের বিপদের জন্য সরিয়ে রাখা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এমারজেন্সি টাকা নিয়ে নেওয়া হল। দেশের যদি কোনও ক্ষতি হয়, তখন আর টাকা থাকবে না। দেশটাকে শেষ করে দিচ্ছে এরা।” সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জরুরিকালীন তহবিল থেকে কেন্দ্রকে ১.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এই ব্যাপারে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “ধর্মান্ধতার বাজার চলছে। ধর্মের নামে ভেজাল ধর্মের বাজার চলছে। এরা স্বদেশ থেকে বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর এই দেশে কিছু অবসরপ্রাপ্ত লোককে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার তো কোনও দায়বদ্ধতা নেই। একদিন বলে দিল ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা চাইছে দিয়ে দাও। কার টাকা, কীসের টাকা! দেশের টাকা। জানার দরকার নেই। ওই এমার্জেন্সি টাকা সরিয়ে রাখা হয়।

যখন দেশে বিপদ আসে তখন ওটা কাজে লাগে। আজ সেটাও নেই। ফলে দেশের যদি কোনও ক্ষতি হয় তখন আর টাকা থাকবে না। সব চলে গিয়েছে। আজ কারও কথা বলার অধিকার নেই।” ২০১৬ সালের নভেম্বরে কেন্দ্র আচমকা ৫০০ ও  হাজার টাকার নোট রাতারাতি নিষিদ্ধ ঘাষণা করে। কারণ হিসাবে দেশে “বিপুল আর্থিক বিকাশের” কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারপর প্রায় তিন বছর পেরিয়েও দেশবাসী আজও বুঝতে পারল না, তাদের টানা এতগুলো দিন হয়রানি করে দেশের কোন লাভ হল। কটা কালো টাকা ফেরত এল। কেন্দ্র বলল, সারা দেশের জন্য অভিন্ন পরোক্ষ কর ব্যাবস্থা, পণ্য ও পরিষেবা কর চালু করা হবে। কিন্তু কেন্দ্রকে বলা হয়েছিল, এত তাড়াহুড়ো করে জিএসটি কার্যকর করা না হোক। কারণ, বেশিরভাগ ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী এখনও এই নিয়ে প্রস্তুতি সেরে উঠতে পারেনি। কিন্তু কেন্দ্র সরকার নিজেদের জেদ ধরে রেখে ঘোষিত নির্দিষ্ট দিনে জিএসটি কার্যকর করেছে। কেন্দ্রের জেদে বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, বহু মানুষ কর্মহীন হয়েছে। অর্থনীতির প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতি আরও বাড়বে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের জরুরি তহবিলে হাত পড়ায়।

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial