শিক্ষা দেবে জনতা

ব্রিগেড থেকে মোদি হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের ডাক দিয়েছেন সব নেতা। বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ভাষণে যথার্থভাবেই বলেছেন, “মোদি সরকারকে হঠানোই এখন সবচেয়ে বড় কাজ”। দেশে বিকল্প সরকার কার নেতৃত্বে হবে তা নিয়ে এখনই ভাবার কোনও প্রয়োজন নেই। বিজেপিকে তথা মোদিকে হারানো গেলে দেশে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লোকের অভাব হবে না বলে বাংলার জননেত্রী ঘোষণা করেছেন। তবে দেশনেতা হিসেবে যে বাংলার জননেত্রীকেই আজ গোটা দেশ দেখতে চায়, তা স্পষ্ট হয়েছে ব্রিগেডের সভাতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতারা একবাক্যে বলেছেন, বাংলার জননেত্রী এই সংকটের মুহূর্তে দেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। ব্রিগেডে যে লাখো লাখো মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, তাঁরাও সকলে দিল্লিতে এবার দেখতে চান একজন বাঙালি প্রধানমন্ত্রীকে যিনি অবশ্যই তাদের প্রিয় বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্রিগেড সভা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। গোটা দেশের যা পরিস্থিতি তাতে মোদির বিদায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে। ব্রিগেডের সভায় দেশনেতারা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন দেশ বাঁচাতে মোদি হঠানো জরুরি হয়ে পড়েছে। পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। নোটবন্দি ও জিএসটি করে দেশের বিশাল অসংগঠিত ক্ষেত্রকে মোদি একেবারেই শেষ করে দিয়েছেন। ছোট শিল্প ও ব্যবসায় যুক্ত কোটি কোটি মানুষ আজ মোদির নীতির কারণে বেকার হয়ে গিয়েছে। আজ গোটা দেশজুড়ে এক ভয়াবহ বেকারত্ব নামিয়ে এনেছে মোদি সরকার।

ব্রিগেডের সভা থেকে সমস্ত বিরোধী দলনেতা একটি ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ আজকে ভাঙনের মুখে। মোদি সরকার দেশের আর্থিক উন্নতির জন্য কোনও কাজ করেনি। কিন্তু, ভোটে জেতার জন্য দেশের মানুষের মধ্যে তারা বিভাজন করে দিয়েছে। বিভাজনের মধ্যে দিয়েই নিজেদের ভোট সংগঠিত করতে চায় মোদি সরকার। নিজেদের ভোট সংগঠিত করার মধ্যে দিয়ে তারা ফের পাঁচ বছরের জন্য দেশের ক্ষমতায় ফেরার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী লোকসভা ভোটে কী হতে চলেছে? তার সুর বাঁধা হয়ে গিয়েছে ব্রিগেড সমাবেশ থেকে। ব্রিগেডের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশ। তাতে আরও আতঙ্কিত নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা। মোদি ব্রিগেডের সভার পর থেকে লাগাতার বিভিন্ন সভায় বাংলার জননেত্রীকে ইঙ্গিত করে আক্রমণ করে চলেছেন। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রুচিহীনভাবে বাংলার জননেত্রীকে আক্রমণ করছেন। আসলে ব্রিগেডের সভা দেখে মোদি ও শাহরা এখন আতঙ্কিত। তারা বুঝতে পেরেছে, তাদের হাত থেকে ক্ষমতা চলে যাচ্ছে। সে কারণে তারা উল্টোপাল্টা কথা বলে, নেতাদের রুচিহীনভাবে আক্রমণ করে নজর অন্যদিকে ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। মোদি-শাহরা যতই চেষ্টা করুন দেশের মানুষের নজর ঘোরাতে, তা আর সম্ভব হবে না। দেশের মানুষ আজ তাদের শিক্ষা দিতে প্রস্ততি নিয়ে ফেলেছেন।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers