শিক্ষকদের অসম্মান করবেন না 

রানার চক্রবর্তী

তাঁর নেতৃত্বে সরকার শিক্ষকদের সম্মান দিয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বাস্থ্যের পরিষেবায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ই-পেনশনের ব্যবস্থাও। মাসের শুরুতেই দেওয়া হচ্ছে বেতন। যদিও কেন্দ্রকে বিপুল অঙ্কের ঋণ শোধ করতে হচ্ছে আগের সরকারের দেনার কারণে। তবু দাঁড়িয়ে জনস্বার্থমূলক প্রকল্পে কোনওরকম খামতি রাখছে না মা-মাটি-মানুষের সরকার।

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে আবারও শিক্ষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের শিক্ষকদের শিক্ষারত্ন প্রদানও করা হয়। সবাইকে শিক্ষকদের সম্মান করতে আবেদন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষকদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে এদিন মমতা বলেছেন, কেন্দ্র সর্বশিক্ষা অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে। ইউজিসি গবেষণামূলক কাজে ছাত্রছাত্রীদের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের কাছে একথা জানতে পেরে রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের জন্য ২০ কোটি টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা কে১, কে২ এবং কে৩ স্তরে টাকা পাবে। এদিন বেশ কয়েকজন শিক্ষকের হাতে শিল্পরত্ন পুরষ্কার তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি।

এই মঞ্চ থেকে কেন্দ্রকে একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের উপর চাপ তৈরি করতে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনুদান কমিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাজ্যের শিক্ষকদের কথা মাথায় রেখে একাধিক পরিষেবার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাধাকৃষ্ণনের মূর্তিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষাক্ষেত্রে বিগত আট বছরে ঠিক কী কী উন্নতি হয়েছে, সেই খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের প্রধানের দাবি, “স্বাধীনতার পর থেকে ৭০ বছরে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছিল। তবে ৮ বছরে রাজ্যে ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছি আমরা।” শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পার্থদা, আপনারা শিক্ষকদের বদলির বিষয়টা মানবিক দিক থেকে দেখুন। যে শিক্ষকদের বাড়ি মেদিনীপুরে অথচ শিক্ষকতা করেন বাঁকুড়ায়, তাঁর অসুবিধে হয়। যদি তাঁকে নিজের জেলায় আনা যায় সেটা দেখতে হবে।”

কেন্দ্রের ঋণ শোধ করেও তাঁদের দাবিদাওয়া মেটানোর চেষ্টা করছেন বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনও রাজ্য গ্র্যাচুইটি দেওয়া হয় না। কিন্তু আমরাই একমাত্র পেনশন, গ্র্যাচুইটি দিচ্ছি। অবসরের পর যাতে শিক্ষকদের কোনও অসুবিধা না হয় তাই ই-পেনশনও চালু করেছি আমরা। ১৩ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। তাঁদের উচ্চশিক্ষার জন্য সবেতন ছুটির বন্দোবস্ত করেছি। শিক্ষকরা আগে কবে বেতন পাবেন, তা জানতেন না। কিন্তু মাসের ১ তারিখে বেতন পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। স্বাস্থ্যসাথীর অন্তর্ভুক্ত করেছি শিক্ষকদের। মাতৃত্বকালীন এবং পিতৃত্বকালীন ছুটির বন্দোবস্তও করেছি আমরা।”

রাজ্যের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প তুলে ধরার পাশাপাশি কেন্দ্র জোট সরকারকে একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কেন্দ্রের হাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আছে। যখন খুশি টাকা তুলে নিচ্ছে। আর আমাদের থেকে বিপুল পরিমাণ সুদ নেওয়া হচ্ছে।” তবে সব শেষে তাঁর একটাই বক্তব্য, “যতদিন ক্ষমটায় থাকব, ততদিন সাধারণ মানুষের জন্যই কাজ করে যাব।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial