শারদোৎসব শান্তিতেই

মেঘাংশী দাস

ভোরের আলো ফুটতেই ঘাসের উপর চকচক করে উঠছে বিন্দু বিন্দু জমা শিশির। আলো ঝলমল প্রতিটি শিশিরবিন্দুকে পাশাপাশি মনে হচ্ছে লক্ষ আলোর ঝলকানি। বাংলায় উৎসবের আনন্দ ও আলোর প্রতিবিম্ব ফুটে উঠছে সেখানে। মানুষ জানিয়ে দিচ্ছে, সম্প্রীতি ও শান্তির মরূদ্যানের অপর নাম বাংলা। আর যাঁরা সুদক্ষ প্রশাসনিক পরিচালনায় উৎসবের দিনগুলিতে মানুষ এতটাই নিরুদ্বেগ এবং নিশ্চিন্তে কাটাতে পারলেন তাঁর নাম অবশ্যই জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমদিকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা সমস্যায় ফেললেও সপ্তমী কাটতেই রোদ ঝলমল আকাশ স্বস্তি দিয়েছিল উৎসবমুখর বাংলাকে। বিভেদপন্থীদের ষড়যন্ত্রকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করে দিলেন, সর্বধর্মের, সর্বজাতির মিলনক্ষেত্র এই বাংলায় উৎসবে সবাই একাকার হয়ে যান। কারণ, উৎসবের দিনে একসঙ্গে দেশমাতৃকাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে দেবী দুর্গাকে সামনে রেখে সবাইকে তিনি বাংলার আনন্দযজ্ঞে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আর তাই দুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো, দীপাবলি সবই নিরুত্তাপে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে কাটিয়ে দিল বাংলা।

উৎসবের মরশুমে বাংলার প্রতিটি গ্রামে-শহরে যাতে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে তার জন্য পুলিশকে কড়া নির্দেশও দিয়েছিলেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে প্রতিমুহূর্তে, প্রতিদিন ফোনে প্রতিটি জেলার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রশাসনকে সক্রিয় রেখেছিলেন। উৎসবের দিনগুলিতে কেউ যাতে এই সময় অশান্তি পাকাতে না পারে, ষড়যন্ত্র করে অপপ্রচারকে হাতিয়ার করে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াতে না পারে তা দেখতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সমস্ত আধিকারিকদের বাড়তি সতর্ক করেছিলেন মা-মাটি-মানুষের নেত্রী। একইসঙ্গে দলের সমস্ত স্তরের নেতা-কর্মীদের সজাগ থেকে বিভেদকামীদের ষড়যন্ত্রের উপর নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিরোধীরা নানারকম চক্রান্ত করে, প্ররোচনা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে গোলমাল পাকানোর যদি চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে নিয়ে প্রতিরোধ করার জন্য দলের কর্মীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছিলেন জননেত্রী। খিদিরপুরে প্রতিমার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছিলেন, “বাংলায় উৎসব দেখার জন্য সকলকে স্বাগত। এই উৎসব সকলে দেখতে আসুন। এখানকার আতিথেয়তার তুলনা হয় না। কিন্তু বিভেদ ছড়াবেন না। গুজবও নয়। বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেকের ধারণা নেই। এখানকার পুজো কোনও বাধা মানে না। হতাশার কোনও জায়গা নেই। শান্তিতে মানুষ পুজো দেখতে পারবেন ।” গান্ধী জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম না করে ভাগাভাগির রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহাত্মা গান্ধীকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ভাগাভাগি মারামারি ও রক্তের আগুন ঝরানো কোনও নেতার উদ্দেশ্য হতে পারে না। এরপরই নাম না করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মা-মাটি-মানুষের নেত্রী বলেন, “নতুন করে উপদেশ দেবেন না। উপদেশ দেওয়ার অধিকার থাকতে হয়।” বিজেপির ভাগাভাগির রাজনীতিরও তুমুল সমালোচনা করেন জননেত্রী। মা-মাটি-মানুষের নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী বাংলার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮-৯ বছরে বাংলায় মানুষের আনন্দ-উৎসবের রং আর উজ্জ্বল হয়েছে। পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল, সুলতানি শাসনের স্মৃতিবিজড়িত গৌড়বঙ্গ থেকে শুরু করে বাঘ-হরিণ আরও সুন্দরী-গরান-গেঁওয়ার জঙ্গলের সুন্দরবন- সর্বত্রই মানুষ আজ নিশ্চিন্তে-নিরাপদে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন।

এবছরও পুজোয় কলকাতার পাশাপাশি গোটা রাজ্যেই দমকলের ‘ফি’ মকুব করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যুতের বিলে কলকাতায় ছাড় ঘোষণা করেছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, বাংলার প্রতিটি সর্বজনীন অনুমোদিত পুজোকে গতবারের তুলনায় বাড়িয়ে এবছর ২৫ হাজার টাকা করে সরকারের তরফে দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। পরিবর্তনের পর দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে বাংলার প্রতিটি গ্রামে প্রতিটি সম্প্রদায়ের উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মণ্ডপে মণ্ডপে মহালয়া থেকে তিনি যেমন ঘুরে বেড়িয়েছেন তেমনই দলের সমস্ত মন্ত্রী-সাংসদ ও বিধায়কদের উৎসবের দিনগুলিতে মানুষের সঙ্গে থাকার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। সবাই যখন উৎসবের আনন্দে ব্যস্ত থাকেন সেই সময় স্বয়ং জননেত্রী নিজের বাড়িতে বসেই প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি এলাকায় নজরদারি করেছেন। আর তাই লক্ষ লক্ষ মানুষ উৎসবের সময় রাস্তায় নিশ্চিন্তে নেমে আনন্দ উপভোগ করেছেন। মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি উদ্যোগেই বিশ্ব বাংলা সম্মান ও প্রতিযোগিতা চালু হয়েছে। দু’বছর আগে থেকেই কলকাতা তথা রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের অন্য প্রদেশ এবং বিদেশের পুজোগুলিকেও বিশ্ব বাংলা সম্মান দেওয়া চালু হয়েছে মা-মাটি-মানুষ সরকারের প্রধানের নির্দেশে। এবছরও সেই সম্মান দিয়েছে মা-মাটি-মানুষের সরকার। পুজোর সুচনায় বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছিলেন জননেত্রী। বলেছিলেন, “বাংলায় সর্বধর্মের মানুষ এই উৎসবে শামিল হন। এখানে কোনও ভেদাভেদ নেই। ধর্ম আপনার, উৎসব সকলের।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial