শপথের ব্রিগেড

জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ব্রিগেডের জনসমাবেশের নয়া ইতিহাস রচনার জন্য অধীর অপেক্ষায় বাংলা, গোটা ভারতবর্ষ। ১৯শে জানুয়ারির এই জনসমাবেশের গুরুত্ব ও তাৎপর্য যে অপরিসীম। কেন্দ্র-বিরোধী প্রায় সব শক্তি উপস্থিত থাকবে কলকাতার মঞ্চে। সমাবেশে আসবেন বলে ইতিবধ্যেই সম্মতি দিয়েছেন প্রায় সব দলের তাবড় নেতা। জাতীয় রাজনীতি এই মুহূর্তে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। কেন্দ্রে বিজেপিকে রুখতে বিরোধী জোট গড়ে তুলেছেন জননেত্রী। আর সেই কারণেই কেন্দ্রে নতুন সরকার গড়তে এবার বৃহত্তর ভূমিকা নেবে বাংলা।

একদিকে, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মা-মাটি-মানুষের সরকার যখন রাজ্যজুড়ে সার্বিক উন্নয়নযজ্ঞে নেমেছে, সেই সময় সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেস্য নিয়ে রাজ্যে জমি খুঁজতে নেমেছে বিজেপি। রাজনীতির নামে তারা রাজ্যে অশান্ত পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়কতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে শাসন ক্ষমতা হারিয়ে বিজেপি এখন হন্যে হয়ে বাংলার রাজনৈতিক মাটি খুঁজছে। আসলে জননেত্রীকে ভয় পেয়েছে তারা। কারণ, আগামী লোকসভা ভোটে কেন্দ্রে বিজেপির পরাজয়ের ঘন্টা বেজে গিয়েছে। জননেত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য বাংলায় বিজেপির ঠাঁই নেই। কেন্দ্রেও এই জনবিরোধী সরকারকে সরাতে হবে। রাজনৈতিক পথে ঐক্যবদ্ধভাবেই সে কাজ হবে। বাংলা উন্নয়ন কাকে বলে দেখেছে। বাংলা গনতন্ত্র কী তা বুঝেছে। কিন্তু বিভেদ, সাম্প্রদায়িকতার উসকানি নিয়ে যে শক্তি উন্নয়নে বাধা দিতে চায়, রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, বাংলার সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে নেই। রাজ্যের সাম্প্রতিক সমস্ত নির্বাচনে তার যোগ্য জবাব দিয়েছে বাংলার গনতন্ত্রপ্রিয়, শান্তিপ্রিয় মানুষ। ভবিষ্যতেও রাজ্যের মানুষ এভাবেই সমস্ত অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করবে। এই যে কেন্দ্রের সরকার বাংলাকে বিভিন্নভাবে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে, এর জবাবও মানুষ দেবে আগামী নির্বাচনে।

কোনও একটি রাজ্য সরকারের পক্ষে এই অল্প সময়ে উন্নয়নের কাজ দেখানোর পক্ষে যথেষ্ট কঠিন। এখানে বিগত ৩৪ বছর ধরে সিপিএমের সরকার এমন এমন প্রশাসন চালিয়েছে, যারা রাজ্যে কেবল অপশাসনই কায়েম রেখেছিল। যাদের বন্ধ্যা নীতি , অকর্মণ্যতা আর দুর্নীতি বাংলাকে সমস্ত দিক থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। বন্ধ থেকেছে উন্নয়নের সব পথ। রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বৈমাতৃসুলভ আচরণ, বঞ্চনা, অবজ্ঞার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে সীমিত ক্ষমতার মধ্যে রাজ্যকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছেন জননেত্রী। বাংলার শাসন ক্ষমতায় এসে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সুপ্রশাসনের মাধ্যমে বাংলাকে যেভাবে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে এসেছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাতে দেশবাসী অভিভূত। সেই পথেই এগিয়ে যাবে বাংলা। আর বাংলার পথে চলবে সারা ভারতবর্ষ। দেশকে পথ দেখাবেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯শে জানুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশ দেখিয়ে দেবে, কেন্দ্রে বিজেপির দিন শেষ। এক সমৃদ্ধ, ঐক্যবদ্ধ, গণতান্ত্রিক ভারত গঠনের কাজ শুরু হবে ওই ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকেই। আর সেখানে বড় ভূমিকা থাকবে বাংলারই, বাংলার জননেত্রীরই।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers