লোক দেখানো প্রতিবাদের নামে বাম ধর্মঘট, আবার প্রত্যাখ্যান

তীর্থ রায়

গত সাড়ে চার বছর ধরে প্রধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার যিনি প্রতিবাদ করে গিয়েছেন, লড়াই করে গিয়েছেন, তিনি হলেন বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কখনও মোদির নীতির সঙ্গে এক মিনিটের জন্যও আপস করেননি। সকলেরই মনে আছে, মোদি যখন টেলিভিশনে জাতীয় উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত যোষণা করলেন, তখন কলকাতায় বসে সবার আগে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন বাংলার জননেত্রী দেশের তাবড় অর্থনীতিবিদরা তখনও কেউ মুখ খোলেননি। অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাও তখনও বুঝে উঠতে পারেননি কী বলা উচিত। সবাই যখন নানারকম রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ করছে, তখন নোটবন্দির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ খোলেন বাংলার জননেত্রী। সেদিনই তিনি বলেছিলেন, এই নীতি ধ্বংস করে দেবে দেশের অর্থনীতিকে।

মোদি নোটবন্দির ঘোষণার এক ঘন্টার মধ্যে তা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছিলেন বাংলার জননেত্রী। তাড়াহুড়ো করে মোদি সরকার যখন জিএসটি চালু করেছিল, তখনও প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন বাংলার জননেত্রী। গত সাড়ে চার বছরে এমন একটা দিন যায়নি, যেদিন তিনি  মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হননি। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রতি মুহুর্তে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির, যা জনবিরোধী, তার প্রতিবাদ করে এসেছেন। লাগাতার এই প্রতিবাদের জন্য মোদি সরকার দেশে যে দলটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ নামিয়ে এসেছে, তা তৃণমূল। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জনসমক্ষে হেনস্তা করা হয়েছে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের। যিনি এইভাবে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, আজ তাঁর রাজ্যেই গুটি কয়েক বামপন্থী বনধ ডেকে জনজীবন স্তব্ধ করে দিয়ে, মোদির বিরুদ্ধে লড়াই-লড়াই খেলার চেষ্টা করছে। মানুষ জানে কে মোদির বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থে লড়াই করে। কে মোদির বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থে প্রতিবাদ করে।

৩৪ বছর ধরে সিপিএম হার্মাদরা বনধ ডেকে ডেকে বাংলার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সিপিএম হার্মাদরা কোনও কাজ করত না। তাদের কোনও কাজের পরিকল্পনা ছিল না। উন্নয়ন করার বিষয়ে তাদের কোনও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছিল না। কোনও দিশা ছিল না। তাদের একমাত্র কাজ ছিল যেনতেনপ্রকারে ভোট করে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় টিকে থাকা। ক্ষমতায় টিকে থেকে তারা সরকারি কোষাগার লুঠ করত। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা বছরে কয়েকদিন ধরে কর্মনাশা বনধ পালন করত। সিপিএম হার্মাদদের আমলে এই রাজ্যের কোনও উন্নতি হয়নি। কোনও পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। কৃষিতে উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এই রাজ্য থেকে সমস্ত শিল্প চলে গিয়েছিল। রাজ্যে পাহাড়প্রমাণ বেকারত্ব দেখা দিয়েছিল। গোটা রাজ্যে এক অন্ধকার নেমে এসেছিল। ক্ষমতায় আসার আগে বাংলার জননেত্রী বলেছিলেন, তিনি কর্মনাশা বনধের সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেবেন না। বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাত বছর আগে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর বাংলা থেকে কর্মনাশা বনধ বিদায় নিয়েছে। এখন আর কোনও রাজনৈতিক দলের ডাকে বাংলায় বনধ হয় না। সাত বছর ধরে মানুষ রাজ্যে উন্নয়ন দেখছে। সরকারের কাজ দেখছে। মানুষ প্রত্যক্ষ করছে কীভাবে গোটা রাজ্য আজ কৰ্মনাশা বনধের সংস্কৃতিকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।

ক্ষমতা থেকে উৎখাত হলেও সিপিএম এখনও বনধের সংস্কৃতিকে ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারছে না। এত বনধ করেও গোটা দেশে সিপিএমের কোনও রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি হয়নি। ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও আজ মাত্র সাত বছর ক্ষমতাহীন হয়েই সিপিএম রাজ্যে সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে। তবু এই দলটির লজ্জাশরম কিছু নেই। মোদির জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধারাবাহিক লড়াই চালিয়ে আসছেন, তাকে সমর্থন না করে বনধ করার নামে বাংলায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ফিরিয়ে আনতে চাইছে। সিপিএম আসলে রাজ্যে বিজেপির এজেন্ট হিসাবেই কাজ করতে চাইছে। তারা চাইছে, বনধ-অবরোধের নামে  রাজ্যে একটা বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি করতে। যে বিশৃঙ্খল হল বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে চলেছে। রাজ্যে অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা তৈরি করতেই সিপিএম ৪৮ ঘন্টা বনধের কর্মসূচি নিয়েছে। মানুষ সিপিএমের এই কৌশল ও ষড়যন্ত্র ধরে ফেলেছে। সিপিএমের মুখোশ খুলে দিতে মানুষ আজ সচেষ্ট। সিপিএম যেদিন বনধ ডাকে, সেদিন দেখা যায় অন্যদিনের চেয়ে বেশি মানুষ রাস্তা নামে। অফিসকাছারিতে সিপিএমের বনধের দিন স্বাভাবিক দিনের চেয়ে বেশি হাজিরা হয়। অর্থাৎ মানুষ কাজে অংশ নিয়ে, জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রেখে সিপিএমের বধের প্রতিবাদ জানায়। বাংলা আজ উন্নয়নের পথে। গত সাত বছরে এই রাজ্যের মানুষ দেখেছে উন্নয়ন কাকে বলে। বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিনরাত এক করে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। তাকে প্রতিটি পদে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। একদিকে তার বিরুদ্ধে লাগাতার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে সিপিএম হার্মাদরা। অন্যদিকে, বিজেপি নানাভাবে বাংলার প্রতি বঞ্চনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিজেপি একদিকে যেমন তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করছে, তেমন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার বাংলার প্রতি প্রতিহিংসামূলক মনোভাব নিয়ে চলছে। বাংলার জননেত্রী তাদের সমস্ত জনবিরোধী কাজের প্রথম ও প্রধান সমালোচক বলে বিজেপি নিশানা করে নিয়েছে তৃণমূলকে।

এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখনও সিপিএম-কংগ্রেসকে বলতে শোনা যায় না। বাংলার বঞ্চনার বিরুদ্ধে সিপিএম কংগ্রেস কখনও মুখ খোলে না। তারা বনধ-বনধ নাটক করে বাংলায় অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। তাদের মূল উদ্দেশ্য নরেন্দ্র মোদিদের খুশি রাখা। মোদিকে খুশি রেখে সিপিএম ও কংগ্রেস দিল্লির লাড্ডু খেতে চায়। বাংলার মানুষের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তবে এটা নতুন নয়। সিপিএমের রাজনীতিই হল বিশ্বাসঘাতকতার রাজনীতি। ৩৪ বছর তারা বাংলায় ক্ষমতায় থেকে মানুষের সঙ্গে শুধু বিশ্বাসঘাতকতাই করে গিয়েছে। সেই বিশ্বাসঘাতকতা আজও চলছে। বাংলার মানুষ আর কোনওদিন সিপিএম, কংগ্রেসকে বাংলায় ঠাঁই দেবে না। ১০-জন হার্মাদ রেল আটকে, বাস আটকে ভাবছে বিরাট বিপ্লব করে ফেলেছে। কিন্তু ভোটের ব্যালট বাক্স খুললেই বোঝা যায় আজ এ রাজ্যের মানুষ সিপিএম হার্মাদ ও তাদের দোসর কংগ্রেসকে কীরকম ঘৃণার চোখে দেখে। বাসে আগুন দিয়ে, বাসে ঢিল ছুঁড়ে মিডিয়ার নজরে আসা যেতে পারে। আজকের দিনে মানুষ আর এই নৈরাজ্যকে প্রশ্রয় দেয় না। মানুষ জানে বিজেপির বিরুদ্ধে এদের আন্দোলন লোক দেখানো। এরাই বিজেপিকে মদত দিয়ে রাজ্যে তাদের বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছে। আজ যারা বিজেপির হয়ে রাজ্যে গুন্ডামি করে বেড়ায় তারাই একসময় সিপিএমের হার্মাদ ছিল, তা মানুষের অজানা নয়। আজ বাংলার যে মানুষ বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায়, সেই মানুষ তৃণমূলের ছাতার তলায় রয়েছে। সেই মানুষ বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্ৰী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers