রাজ্যে ৪২-এর মধ্যে ওরা পাবে জিরো

বিজেপির আয়ু শেষ- জননেত্রী

মা-মাটি-মানুষ যারা মাটির সঙ্গে কাজ করেন তাঁদের সরকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন ও নতুন বছরের শুভকামনা । আমার খুব পরিচিত জায়গা রামপুরহাট। আমাদের বঙ্গভূমি, আমাদের রাঙামাটি, যে রাঙামাটিকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্রনাথ গান লিখেছিলেন, ‘গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথ, আমার মন ভূলায় রে’। অথবা আমাদের বাউল ভাই-বোনেরা যাঁরা রাস্তায় গান গেয়ে বেড়ান, ‘তোমায় হৃদমাঝারে রাখব, ছেড়ে দেব না’। অথবা এই বাংলায় রাঢ় মাটি, লাল মাটি একেবারে বোলপুর থেকে সিউড়ি থেকে সাঁইথিয়া থেকে ইলামবাজার থেকে, নলহাটি, রামপুরহাট থেকে বক্রেশ্বর, নানুর থেকে আউশগ্রাম, কাঁকসা আশপাশে যত গ্রাম আছে আমি মনে করি এ মাটি পবিত্র মাটি। এ মাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনার মাটি। চিন্তা এবং দর্শনের মাটি। এই মাটিতে রামপুরহাটে মা তারার মন্দির আছে। এই বীরভূমে সতীপীঠ আছে পাঁচটা । যার মধ্যে বক্রেশ্বরও আছে, নলাটেশ্বরীও, কঙ্কালীতলাও আছে, তারাপীঠও আছে। আবার পাথরচাপড়ি আছে। সেখানেও গিয়েছিলাম। আমাদের পবিত্র দরগা। কী সুন্দর। দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। বীরভূমে তিনটি কাজ। সরকারি মিটিং থেকে ১০ হাজার মানুষকে সরকারি পরিষেবা তুলে দেওয়া হল। কয়েকদিন আগে এসেছিলাম জয়দেবের কেন্দুলি মেলা উপলক্ষে। সেখানেও বোলপুরের ১২ হাজার লোকের হাতে নানারকম পরিষেবা তুলে দিয়েছি। সরকারের কালেক্টিভ কাজ আছে। অনেক রাস্তা, ব্রিজ তৈরি হচ্ছে, হবে। অনেক আবাসন তৈরি হচ্ছে। কর্মতীর্থ তৈরী হচ্ছে। পলিটেকনিক কলেজ, আইটিআই তৈরী হচ্ছে। অনেক তীর্থক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কৃষক, শ্রমিকদের কাজ করা হয় ছাত্র-যুবর কাজ করা হয়। তা ছাড়াও আমি এই ধরনের সভার মধ্যে দিয়ে লোকপ্রসার শিল্পী,ধামসা-মাদল-বাউল, কন্যাশ্রী যুবশ্রী, সামাজিক সুরক্ষার সব কাজ সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে করতে পারি। বীরভূম জেলায় ঢেলে কাজ হচ্ছে। এক সময় আমি আসতাম ছোটবেলায় মামাবাড়িতে। ছ”ফুকোটা দিয়ে যখন আসতাম, সাইকেল-রিকশা করে কী হাল ছিল তার। এখন দেখছি তারও রাস্তা সুন্দর হয়েছে। নতুন ব্রিজ হচ্ছে। বেরিয়াল গ্রাউন্ড হোক বা শ্মশান, আমরা সব করে দিয়েছি। প্রায় দের হাজার শ্মশান করে দিয়েছি। বাদ বাকিটা আস্তে আস্তে করছি। তারাপীঠ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি আমরা তৈরী করেছি। কৃষ মন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় তার চেয়ারম্যান। কোটি কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে তারাপীঠের উন্নয়নের জন্য। স্বাগত তোরণ, পানীয় জল, রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ, প্রশাসনিক ভবন, বিশ্ববাংলা ঘাট, মুন্ডমালিনীতলা ঘাট অনেক কাজ করে দেওয়া হয়েছে। আমি যখন রেলমন্ত্রী ছিলামে, তখন এই তারাপীঠ স্টেশনটাও তারাপীঠ মন্দিরের আদলে করে দিয়েছিলাম। তারাপীঠ মন্দির উন্নয়নের প্রথম কাজও হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও হয়ে যাবে । কত
সুন্দর লাগছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে আসে । নলহাটি, বাক্রেশ্বর, কঙ্কালীতলায় আসে। কিন্তু কেউ কোনওদিন জায়গাগুলোর উন্নয়ন করেনি। আমি নিজে যখন এইগ্রামে আসতাম, ক্লাস ফাইভে পড়তাম। ফাইভ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি বছর পরীক্ষার পর এক মাস করে এই গ্রামে এসে থাকতাম। তাই আমি জানি, কোন পুকুরটার কী নাম।

আমার এখনও মনে আছে এক হাটু করে গর্ত। কীভাবে আমরা আসতাম। মানুষের কত কষ্ট ছিল। অনেক রাস্তা তৈরি হয়ে গিয়েছে। অনেক মানুষের ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। বাংলার আবাস যোজনা প্রকল্পে, গীতাঞ্জলি-সহ নগরোন্নয়ন দফতর ৩০ লক্ষ বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে গরিব মানুষকে। কত রাস্তা আমরা তৈরী করে দিয়েছি। ৯০ শতাংশ টয়লেট পর্যন্ত তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। আমি ভেবে পাই না, দিল্লির ওই কিছু নেতা আছে, যেগুলো অর্ধশিক্ষিত না গর্ধশিক্ষিত আমি তা জানি না। শিক্ষা মানুষকে মুক্তির আলো দেয়। সুন্দর তৈরি করে। যারা বাংলার সংস্কৃতি জানে না, বাংলার রাস্তাঘাট চেনে না, বাংলার শিক্ষা-সভ্যতা জানে না। অর্ধশিক্ষিত এবং গর্ধশিক্ষিতরা কেউ কেউ এসে বলে যাচ্ছে কন্যাশ্রী প্রকল্প নাকি আমরা অনুকরণ করেছি। আমি গার্ধশিক্ষিতদের চ্যালেঞ্জ করছি পাবলিকলি। সরকারি মিটিংয়ে দাঁড়িয়ে, সরকারি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে । কন্যাশ্রী শুরু হয়েছিল কবে? ২০১৩ সালে। আর আপনাদের ন্যাকামোর প্রোগ্রাম, নাটের গুরুর প্রোগ্রাম ১০০ কোটি টাকার বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও শুরু হয়েছিল কবে? ২০১৫ সালে। মনে রাখবেন আমরা আপনাদের টুকলি করি না। আপনারা আমাদের টুকলি করে কাজটাও করতে পারেন না। টুকলিবাজরা কাজটাও ভাল করে করতে পারে না। বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও-এর কত বাজেট? সারা দেশে মাত্র ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ একটা মেয়ে ৩ পয়সা করে পাবে না। মোদির সরকার! আর আমাদের কন্যাশ্রী প্রকল্পে কত খরচ হয়েছে এখনও পর্যন্ত? সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে ।আমরা এই কাজটা করি তার কারণ, আমরা ৩ পয়সা ভিক্ষা দিই না। আমরা তার পড়াশোনা চালিয়ে দিই। অর্ধশিক্ষিতদের জীজ্ঞাসা করুন। নির্মল বাংলা শুরু হয়েছিল কবে? আর তোমরা নাচ-গান গেয়ে রাস্তায় নেমেছ কবে? নাচ-গান যারা গায়, তাদের আমরা সম্মান করি। এরা রাজনৈতিক নাচ-গান গায়। তাই এদের আমরা সম্মান করি না। এরা মিথ্যা কথা বলে।

কমরেড তারাপীঠ মন্দির তো অনেকদিন হয়েছে। তোমরা তো ছিলে। তারাপীঠে একটা ইট গাঁথতে এসেছ কোনও দিনও? একটা ইট গেঁথে দেখেছ? তারাপীঠের মন্দিরটা ভালো করে করা যায় কি না? একটা ইট গেঁথেছ কোনও দিনও ? রাস্তাঘাটগুলো করা যায় কি না? একটা ইট গেঁথেছ কোনও দিনও? পাথরচাপড়িটা ভাল করে করা যায় কি না? একটা ভাষা ভেবেছ কোনওদিনও? যে ভাষায় সব মাটি কথা বলে, সব মানুষ কথা বলে?

মহাত্মা গান্ধীজির মৃত্যুদিবস। মহাত্না গান্ধীজি যারা মেরে ফেলেছিল, তারা আজ সাধুর ভূমিকা নিয়ে বড় বড় কথা বলছে। শুনে রাখুন বাংলার মাটি পথ দেখায়, বাংলার মাটি আগেও পথ দেখিয়েছে। আগামিদিনেও পথ দেখাবে। বাংলা মাথা নত করে না। বাংলা নিজেকে বিকিয়ে দেয় না। বাংলাকে ধমকে লাভ নেই । চমকে লাভ নেই। ভয় দেখিয়ে লাভ নেই । সিবিআই দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা লড়ে নেব। আমরা করে বলি। আমরা মিথ্যা কথা বলি না নির্বাচনের আগে—এই করব, সেই করব। আমরা করে দেখাই।

এই তো দেখলেন কৃষকবন্ধু প্রোগ্রাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হবে। অফিসিয়ালি শুরু করে দিয়েছি। কৃষকবন্ধুরা টাকা পেতে শুরু করেছে। সরকার থেকে প্রান্তিক চাষিকৃষক সবাইকে রবি চাষ হোক, খরিফ চাষ হোক, বছরে আমরা পাঁচ হাজার টাকা করে দু’বারে দেব। আর যাদের দু’চার-পাঁচ কাঠার মতো কম জমি, ১০০০ টাকার কমে কেউ পাবে না। যার এক একর জমি পাঁচ হাজার টাকা করে পাবে। সেই রেশিওতে পাবে। আমরা প্রোগ্রাম। ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে যদি স্বাভাবিকভাবে মারা যান তার পরিবার ২ লক্ষ টাকা করে সরকার থেকে পাবেন। তাদের নামে আমরা সবাই ইনসিওরেন্স করে দিয়েছি। কৃষকবন্ধুরা জেনে রাখবেন শস্যবিমার কথা। আপনাকে বিমার টাকা দিতে হয়? হয় না। এই টাকা কে দেয়? আমাদের সরকার দেয়। দিল্লির সরকার নয়, রাজ্য সরকার। ১০০ শতাংশ দেবে। আর দালালি করে ছবি পাঠাচ্ছেন। ব্যাঙ্কটা আপনার আন্ডারে। ব্যাঙ্ককে দিয়ে ছবি পাঠাচ্ছেন। লজ্জা করে না? আমরা ৮০ টাকা দিতাম। ৬২৫ কোটি টাকা আগের বছরও দেওয়া হয়েছে শস্যবিমার জন্য। চাষিদের ভাগের টাকা আমরা দিয়েছি। আর ছবি পাঠিয়ে দিয়েছ? ব্যাঙ্কটা তোমার হাতে বলে? পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মিথ্যা কথা বলে। একটা কথা জেনে রাখবেন কৃষকদের বিমার টাকা রাজ্য সরকার দেয়। রাজ্য সরকার দেয়। রাজ্য সরকার দেয়। আমি ভ্যালেঞ্জ করে আপনাদের সামনে বলে গেলাম। ক্ষমতা থাকলে বলবেন আমার গর্দান কেটে নিতে। কৃষকদের বিমার টাকা আমরা শোধ করি। কৃষিজমিতে খাজনা মুকুব করে দিয়েছি আমরা। কৃষিজমিতে মিউটেশন হলে যে টাকাটা লাগে তা-ও আমরা মুকুব করে দিয়েছি আর কী করেছি? কৃষকদের ভাতা সাড়ে সাতশো টাকা ছিল। বাড়িয়ে দিয়েছি। ১০০০ টাকা করেছি। ৬৫ হাজার কৃষক পেনশন পেত। আমরা ওটা ১ লক্ষ করে দিয়েছি।

আমার শ্রমিক বন্ধুরা সামাজিক সুরক্ষা প্রজেক্টে চলে এসেছে। প্রেস-মিডিয়াও পেনশন পায়। মাভৈ পায়। কেবল টিভি অপারেটরদের পর্যন্ত আমি স্বাস্থ্যসাথীতে ঢুকিয়ে দিয়েছি। আইসিডিএস আছেন, আশা কর্মী আছেন, শিক্ষক-অশিক্ষকরা আছেন। পাঁচ লক্ষ টাকা করে স্বাস্থ্যসাথী স্কিমে দিই। এমনকী, হোমগার্ড থেকে সিভিক ভলিউন্টিয়ার থেকে শুরু করে সবার। একমাত্র রাজ্য বাংলা মনে রাখবেন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গেলে একপয়সা লাগে না। কোথায় ছিল? রামপুরহাটে মেডিক্যাল কলেজ তোইরী হচ্ছে নতুন। সুপার স্পেশ্যালিটি তৈরী হয়েছে। বোলপুরেও হয়েছে। এইচডিইউ, আইসিসিইউ, এসএনসিইউ, এসএনএসইউ তৈরী হয়েছে। কোথায় ছিলেন বামফ্রন্ট, সিপিএম-এর লোকেরা ৩৪ বছর? সেটাআকে শূন্য করে রেখে দিয়েছিলেন। কংগ্রেস জীবনে বাংলার দিকে তাকায়নি। আর বিজেপি? বাংলাকে শুধু গালাগালি দিয়ে গিয়েছে। আর দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করেছেন। কোনওদিন কিছু করেননি। বড় বড় কথা। বাংলার দুর্গাপুজো হয় কি হয় না? স্কুল-কলেজে সরস্বতী পুজো হয়য় কি হয়য় না? হলে জোরে বলুন। অর্ধশিক্ষিত গর্ধশিক্ষিতদের কানে যাক। ইদের নামাজ পড়া হয় কি হয় কি হয় না? বড়দিন হয় কি হয় না? কালীপুজো হয় কি হয় না? তারাপীঠের পুজো হয় কি হয় না? হরিদাস সব ক্রীতদাস সব বন্ডেড লেবার। দাঙ্গাবাজি করে আর গুন্ডাবাজি করে ক্ষমতায় এসেছে। বলছে বাংলায় নাকি দুর্গাপুজো করতে দেওয়া হয় না। বাংলায় নাকি সরস্বতী পুজো হয়য় না। চ্যালেঞ্জ করে বলছি হয়য় প্রমাণ করবেন না হয় রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। বলুন অর্ধশিক্ষিত আর গর্ধশিক্ষিতরা। বাংলায় কয়েক কোটি বাড়িতে ঘরে ঘরে ‘এসো মা লক্ষী, বসো ঘরে’ বলে লক্ষী পুজো হয়য় কি হয়য় না? গর্ধশিক্ষিত। হঠাৎ করে তুমি উড়ে এসে বলবে, বাংলায় নাকি দুর্গাপুজো হয়য় না। দুর্গাপুজো এখানে যারা করে তাদের ইনকাম ট্যাক্সের নোটিস দেওয়া হয়েছে। লজ্জা করে না? ক্লাবগুলোকে উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তারজন্য হাইকোর্টে কেস করা হয়েছে। কেন দেওয়া হয়েছে। আর কলকাতায় ৪০টা পুজো প্যান্ডেলকে ইনকাম ট্যাক্সের নোটিস পাঠিয়েছেন। কী কমরেড? পারবেন অন্যান্য জায়গায় এটা পাঠাতে? পারবেন ইউপিতে পাঠাতে? পারবেন মুম্বাইতে পাঠাতে? ওখানে তো গণপতি পুজো হউ। আমি সাপোর্ট করি। গণপতি আমাদেরও হউ। পারবেন? যাত রাগ বাংলার উপর? গুন্ডামি দেখাচ্ছেন? মিথা কথা বলছেন। চরিত্র হরণ করছেন। বাংলার সংস্কৃতিকে, পুজোকে অপমান করছেন। বাঙালি-বাঙালিতে যুদ্ধ লাগাচ্ছেন। কখনও বলছেন বাঙালিদের তাড়িয়ে দেব। গায়ের জোর? হাত দিয়ে দেখুন একটা বাংলার লোকের উপর। তারপর বুঝবেন।

মাথায় রাখবেন অত সহজ নয়। ভাষণ দিলেন আর টাকা নিয়ে এলেন চুরি করা টাকা, ডাকাতি করা টাকা। আর কয়েকটা গদ্দার আর গুন্ডাকে নিয়ে এসে বলে দিচ্ছেন ইলেকশানের রেজাল্ট কবে বেরোবে। কটা সিট পাবে। এমনকী, কটার সময় রেজাল্ট বেরোবে। ইলেকশন ও মনে হচ্ছে বিজেপি চালাচ্ছে। ইলেকশন কমিশনের কাছে প্রশ্ন থাকবে। আপনার পুরো বিশ্বাস আছে। সম্মান আছে। বলুন তো আপনারা । আপনারা ঠিক করবেন কবে ইলেকশন হবে, কবে রেজাল্ট বেরবে। কী রেজাল্ট হল মানুষ ভোট দিয়ে ঠিক করবে। তুমি কে বলে দিচ্ছ ভাই হরিদাস, গণ্ডমুর্খ? অর্ধশিক্ষিত-গর্ধশিক্ষিত। তুমি কী করে বলছ দেড়টার মধ্যে রেজাল্ট বেরিয়ে যাবে। হাউ ডু ইউ নো দ্যাট। চ্যালেঞ্জ করছি। তোমার ক্ষমতা থাকলে করে দেখাও। ৪২-এ জিরো পাবে। একটা সিটও এবার পাবে না।

বাংলার মাটি অন্য মাটি। গান্ধীজি শিখিয়েছিলেন সবাইকে নিয়ে চলতে। তোমরা কেন বলবে বাংলায় দুর্গাপুজো করতে হয় না। বলেন, “হামলোগ পাকিস্তানমে যাকে পুজা করেগা?” লজ্জা করে না? বেহায়ার দল। জানেই না বাংলার সংস্কৃতি। আদিবাসীদের পরব হয়। ওরা জহর থানে যায়। জানে জয় জহর কাকে বলে? জানে অলচিকি, মৈথিলি, রাজবংশী, কামতাপুরি, উর্দু, নেপালি ভাষা? কিচ্ছু জানে না। বড় বড় ভাষণ । ভাবছে মিথ্যা দিয়ে সব জয় করব। জানেন আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছিলেন, ছাত্রছাত্রী বন্ধুরা মনে রাখবেন। একদিন বা কিছুদিনের জন্য করতে পারে। চিরদিনের জন্য কাউকে বোকা বানানো যায় না। আমরা পাহারাদার। তোমার মতো মিথ্যা কথা বলার পাহারাদার নই যে, ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে দেব ফেরত ক্ষমতায় আসার পর। আমরা জনগনের সঠিক অর্থে পাহারাদার। আমরা জনগনের টাকা লুঠ করি না। ক্ষমতা থাকলে চ্যালেঞ্জ করে বলি। আজ নয়, চিরকাল বাংলায় রাজনীতি করছি। বাংলার মানুষ আমাকে জানে। তাদের কাছে আমি ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নেব। তোমার কাছে নয়। হরিদাস, চোর-ডাকাত-গুন্ডাদের সব নেতা। এখানে ঠিক করতে এসেছে। আমি আঁকলেও নাকি চুরি। আমি লিখলেও নাকি ওটা চুরি। হরিদাস, চোরের দল। আমার কাছে প্রশ্ন করে। এত বড় স্পর্ধা। আমি কারও খাই না, পড়ি না। ছোটবেলা থেকে রাজনীতি করেছি মার খেতে খেতে এসে । আমার সারা গায়ে চোট । আমাকে মেরেছে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোট। মাথা নত করিনি কারও কাছে। তোমরা আমাকে অনেকদিন অনেক ভয় দেখিয়েছ। ধমকে চমকে ভয় পাই না। যতদিন বাঁচব মাথা তুলে বাঁচব। জেনে রেখে দাও এটা বাংলার মাটি। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল, বিবেকানন্দ-রামকৃষ্ণের মাটি। গান্ধীজি এই মাটিতে অনশন করেছে। গান্ধীজি বেলেঘাটায় এসেছিলেন। তোমরা আমায় শিখিও না। মা তারা ক্ষমা করবে না। দক্ষিণেশ্বরের কালী ক্ষমা করবে না।

দক্ষিণেশ্বর, বক্রেশ্বের, তারাপীঠ, কঙ্কালীতলা মন্দির, পাথরচাপড়ি উন্নয়ন করল কে? আমাদের সরকার। দক্ষিণেশ্বর থেকে তারকেশ্বর, পাথরচাপড়ি, থেকে তারাগীঠ আমরা করেছি। তোমরা কোনও দিনও করোনি । তোমরা একটা ইট পর্যন্ত কোনও দিনও গাঁথোনি। আর মিথ্যা কথা বলে মানুষে মানুষে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছ। একটা মিটিং হতেই পারে । করো না। কে বারণ করেছে। তোমরা একটা মিটিং করলে, আমাদের কর্মীরা উৎসাহিত হয়। পাল্টা আরেকটা মিটিং করতে পারে। আমরা খুশি হই। মিটিং করার পরে গাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের গাড়ি ভাঙচুর করছে। বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে, তাদের গাড়ি ভেঙে দিচ্ছে। ভাবুন এরা কারা? ভক্তির যোগ্য? না সরকার চালানোর যোগ্য? মনে রাখবেন ৩৪ বছর লড়াই করে আমরা এখানে এসেছি। তার পরও একটা দিন ঘুমোতে পারিনি। প্রতিদিন বাংলায় কাজ করতে হয়। তাই সাত বছরের মধ্যে আমরা কৃষকবন্ধু করতে পেরেছি, শিক্ষাশ্রী, যুবশ্রী, কন্যাশ্রী করতে পেরেছি। আদিবাসী ভাইবোনেদের জন্য, ক্লাস এইট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনার দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর তৈরি হবে। সারা বিশ্ব জয় করবে। এগুলো তোমাদের টাকা নয়। মিথ্যা কথা বলব। এগুলো রাজ্য সরকারের স্কিম।

গরিব মেয়েরা। তাদের বাবা-মায়েরা চিন্তা করে কী করে বিয়ে দেব? আমরা একটা স্কিম করে দিয়েছি ২৫ হাজার টাকা করে তারা পাবে। কন্যাশ্রীর বড় বোন রূপশ্রী। ২৫ হাজার টাকা করে গরিব মেয়েরা, তাদের বাবা-মায়েরা পাবেন। বিডিওর কাছে দরখাস্ত করলেই পেয়ে যাবে। এমনকী, কেউ মারা গেলে তাদের জন্যও ব্যবস্থা আছে। আমি এসে দেখলাম কফনে দেবে একটা সাদা কাপড় কিনবে, বা পোড়ানোর জন্য কাপড় কেনার পয়সা নেই। আমি নিজে সাদা কাপড়টা কিনে দিয়েছিলাম। তাই আমাদের সরকার, কেউ মারা গেলে, তাকে পোড়ানোর জন্য বা কবর দেওয়ার জন্য সাহায্য চাইলে দু’হাজার টাকা করে তাকেও দিই। সেই স্কিমটার নাম সমব্যাথী। কবরস্থান দু’হাজারের বেশি তৈরি করে দিয়েছি। বার্নিং ঘাট তৈরি করে দিয়েছি। বাউল ভাই-বোনেরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াত। কেউ পাত্তা দিত না। এখন ভোটের সময় বলবে আমাদের অনেক টাকা। নাও আর আমাদের হয়ে গান গাও। একটাও টাকা নেবেন না, আর ওদের হয়ে গান গাইবেন না, অনুরোধ থাকবে। কেন গাইবেন? ৩৬৫ দিন খেতে দেয়? ৩৬৫ দিন দেখে? ৩৬৫ দিন পাশে থাকে? থাকে না। আপনার শিল্পীসত্তা নষ্ট হতে দেবেন না। এরা মারাত্মক।

নোটবন্দির নাম করে সব টাকা লুঠে নিয়েছে। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রীর একটা স্টেটমেন্ট দেখছিলাম। কেউ সারাজীবন সঞ্চয় করে ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে, ১ লক্ষ টাকার বেশি তুলতে দেওয়া হবে না। কেউ জানে না, আপনার টাকা আগামিদিনে সুরক্ষিত থাকবে কি না। কারা এসেছে? দেশটাকে শেষ করে দিয়ে যাচ্ছে। ভারতবর্ষ আজ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলায় তো আপনাদের আমি বুঝতে দিই না। সারাক্ষণ পাহারা দিয়ে রেখে দিই, সকাল থেকে রাত। অনেক চেষ্টা করে। কখনও পাকুড় থেকে ঢুকে যায়। কখনও ঝাড়গ্রাম, ঝাড়খন্ড থেকে ঢুকে যায়। ঢুকে গিয়ে কখনও আদিবাসীদের সঙ্গে তপসিলিদের দাঙ্গা লাগিয়ে দেয়। কখনও হিন্দু-মুসলমানে লাগিয়ে দেয়। কখনও বাঙালি-বাঙালির মধ্যে ভেদাভেদ করে দেয়। মনে রাখবেন অনেক কষ্ট করে শান্তি রক্ষা করি আমরা । আমরা শান্তি চাই। আমরা সংহতি চাই। আমরা সম্প্রীতি চাই। আমরা সবাইকে নিয়ে এক জায়গায় বসবাস করতে চাই। তাই মনে রাখবেন আমাদের ছেলেমেয়েরা ভাল আছে দেখলে ওদের হিংসা হয়। এত হিংসরা চিহ্ন কখনও দেখি না। নাইনে উঠলে আমাদের ছেলেমেয়েরা সাইকেল পাচ্ছে। বিনা পয়সায়। শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপ তপসিলি জাতি-উপজাতির ছেলেমেয়েরা পাচ্ছে। প্রায় ৭০ লক্ষ পেয়েছে। কন্যাশ্রী পেয়েছে ৫৬ লক্ষ। এখন আরও বেশি পাবে। কলেজে পড়লে পাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবে। আর্টসে পড়লে দু’হাজার পাবে, সায়েন্স পড়লে আড়াই হাজার পাবে। সংখ্যালঘু ছেলেমেয়েদের জন্য ১৭ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণ পাচ্ছে। ৭০ হাজার ছেলেমেয়ে পাচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় সুযোগ পাচ্ছে। তাদের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা রেখে দিয়েছি। ১ কোটি ৭২ লক্ষ সংখ্যালঘু ছেলেমেয়েরা স্কলারশিপ পাচ্ছে। কেন সংখ্যাটা বেশি? বাংলায় মুসলিমদের শতাংশ ৩০। সংখ্যালঘু ছেলেমেয়েরা দেশের মাপে সব থেকে বেশি। তপসিলি জাতি- উপজাতির শতাংশ ২৩। আদিবাসী শতাংশ ৬ শতাংশ। কাজেই আমরা আদিবাসী, তপসিলিদের তাদের মতো করে সাহায্য করি। এমনকী, জেনারেল কাস্ট তারাও যাতে শিক্ষাক্ষেত্রে বঞ্চিত না হয়, তার জন্য স্বামী বিবেকানন্দের নামে প্রোগ্রাম তৈরি করেছি। লোক প্রসার শিল্পী ১ লক্ষ ৯৪ হাজার। প্রায় ২ লক্ষ শিল্পী আমি নিয়োগ করেছি। যাতে তারা সরকারি কাজ করতে পারে। সম্মান নিয়ে বীচে। সিপিএম ক্ষমতায় থাকার ফলে কোনওদিন বিজেপি সাহায্য করেনি, কংপ্রেসও সাহায্য করেনি । ৪৮ হাজার কোটি টাকা কেটে নিয়ে যাওয়া হয় বছরে। শুনুন আমি বলি না যে, করব। যেটা করতে পারি, করে বলি করব। শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, খাদ্যসাহী, কৃষকবন্ধু, কৃষক ভাতা এসব করে দিয়েছি কি দিইনি। আর ওরা বলে করব। মানে ভাওতা দেব। যেটা করতে হয় করতে হয়। স্বপ্ন দেখতে জানতে হয়। সঠিকভাবে দেখতে হয়। না হলে বুমেরাং হয়। আমরা যে স্বপ্নটা দেখাই, সেটা বাস্তবে পরিণত করে তবে দেখাই। আর তোমরা ভাওতা দাও। তাই স্বপ্ন সফল হয় না। এটা তোমাদের লোকেরাই বলছে। বাংলার মাটিতে সারা ভারতের নিরিখে স্কিল ইন্ডাস্ট্রিতে এক নম্বর। দেখে নিন গড় হিসাব । কাজ চলে গিয়েছে। ২ কোটি মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছে। ৪০ শতাংশ আমরা বেকারি কমিয়ে দিয়েছি। আমরা গর্বিত আমাদের ছেলেমেয়েরা আরও কাজ পাক। ছাত্র-যৌবন নিজের পায় দাড়াক। এটা আমরা চাই। কর্মসৃষ্টি তৈরি করি। যে কথা গান্ধিজী বলে গিয়েছিলেন,

আজ সেই কথা স্মরণ করে সংহতি দিবস পালন করি। গান্ধিজী, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, আম্বেদকরদের মৃত্যু হয় না। এরা দেশের মনীবী। দেশের কাজের মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকে । নেতা এমনি তৈরী হয় না। গাছ থেকে পড়ে না। কাজের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়। দাঙ্গার মধ্যে দিয়ে তৈরি হয় না। মানুষের জন্য কাজ করে সবাইকে ভালবেসে তৈরী হয়। বাংলার মাটি সোনার মাটি। যতই সিবিআই আর এজেন্সি দেখাও। ভদ্রতা করে এনকোয়ারিতে যাব। কিন্তু মনে রাখবে যে আয়নায় আয়না দেখাচ্ছ, সেই আয়না তোমাদেরও দেখতে হবে। আমাদের পিছুটান নই। চালন নই আমরা । আমরা ছুচ। তোমরা চালন। একটা রাফেল বেরবে। গেল। একটা নোটবন্দি বেরবে। গেল। একটা জিএসটি বেরবে। গেল। মোদিবাবু। মমতা ব্যানার্জি পেন্টিং করে টাকা নিয়েছে? প্রমাণ করুন এক পয়সা তার ত্যাকাউন্টে নিয়েছে। আই ক্যান চ্যালেঞ্জ ইউ। অসভ্যের মতো, অভদ্রের মতো কথা বলে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers