রাজ্যে শান্তিতে পালিত ইদ

মেঘাংশী দাস

দেশজুড়ে বিজেপির ধর্মীয় উসকানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো বাংলা। উৎসব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে আরও একবার ব্যতিক্রমী ভূমিকা নিল জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ। যে চাঁদ দেখে আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে পবিত্র ইদ পালিত হল সেই এক চাঁদেই দু’ দিন পর রাখি পূর্ণিমা পালিত হল বাংলায়। যেদিন আত্মত্যাগের মহান ইদুজ্জোহা পালিত হল বাংলায়, সেদিনই হাজারে হাজারে মানুষ সার দিয়ে শ্রাবণী মেলায় অংশ নিয়েছেন, তারকেশ্বরে গিয়ে বাবা তারকনাথের মাথায় জল ঢেলেছেন। সকালে রেড রোড থেকে শুরু করে বাংলা জুড়ে লক্ষ লক্ষ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নমাজ পড়েছেন। দলে দলে পাড়ায় পাড়ায় ধর্মীয় রীতি পালনের পাশাপাশি আত্মত্যাগের উৎসবে অংশ নিয়েছেন সংখ্যালঘুরা। আবার ইদের পরের দিনই ধর্মীয় শান্তি ও সহিষ্ণুতার প্রতীক শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু মিউজিয়াম উদ্বোধন করেছেন জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইদের দিন মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় পৌঁছে গিয়েছিলেন দলের নেতা-কর্মীরা। কলকাতার মেয়র পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম চেতলায় মসজিদে নমাজের পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষের মনের মধ্যে ভেদাভেদের মনোবৃত্তি ত্যাগ করার আবেদন জানিয়েছেন। এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। সরকারি বাসও অনেক বেশি সংখ্যায় নামানো হয়েছিল। লক্ষ্য রাখা হয়েছিল শ্রাবণী মেলায় যোগদান করা পুণ্যার্থীদের যাতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা না হয়। তারকেশ্বর যাওয়ার পথে দিল্লি রোডে এবং অন্য সমস্ত রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুণ্যার্থীদের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকেও নানা সহায়তা, মেডিক্যাল সরঞ্জাম এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পুলিশ ও প্রশাসনও পুণ্যার্থীদের বিশেষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। নমাজ শেষে কাশ্মীর নিয়েও ইদের দিন মেয়র বলেছেন, “উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য এই সময়ে ভূস্বর্গের যে সমস্ত বাসিন্দা নিজের বাড়িতে যেতে পারলেন না, তাদের সকলকেও শুভেচ্ছা।” জম্মু কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ওই রাজ্যের এলাকাবাসীদের সুরক্ষিত রাখার জন্যও প্রার্থনা করেছেন মেয়র। পরে ফিরহাদ বলেছেন, “এই ইদ হল কুরবানির ইদ, অর্থাৎ ত্যাগের ইদ। খারাপ যে সকল চিন্তা তা ত্যাগ করতে হবে। এই ত্যাগের দিনে সবার কাছে অনুরোধ, নিজের ক্রোধ ত্যাগ করুন। নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদের যে মনোবৃত্তি তা ত্যাগ করুন। মানুষ এক হয়ে থাকুক। ধর্ম আমার, ধর্ম আপনার, কিন্তু উৎসব সবার।” কাশ্মীর নিয়ে ফিরহাদের আবেদন, “এই কার্ফু, এই হতাহত, সবাই যেন এর হাত থেকে মুক্তি পায়। সবাই ভাল থাকুন, সবাইকে ভাল রাখুন।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial