রক্তচাপ মাপার শিক্ষাও স্কুলপাঠ্যে

রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বাড়িতে কিনে রাখা আছে, কিন্তু সেটা ব্যবহারের কৌশল জানা নেই। নেবুলাইজার আছে বটে,তবে কারও শ্বাসকষ্ট হলে সেটা চালানোর জন্য পাড়ার ওষুধের দোকান থেকে লোক ডাকতে হয়। তা হলে উপায়? এইসব সরঞ্জাম ব্যবহারে কোনও একজন, বিশেষ করে কমবয়সী কেউ পারদর্শী হলে সমস্যার সহজ সমাধান। আর এই বিদ্যা যদি স্কুলের পাঠক্রমে থাকে,তা হলে তো কথাই নেই। রাজ্যে সেটাই শুরু হয়েছে উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরে। ‘হেলথ কেয়ার’-কে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে পড়ার সুযোগ এবছর প্রথম দিয়েছে উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।

কিছুকাল আগেও সাধারণ গৃহস্থ ঘরে চিকিৎসার সরঞ্জাম বলতে থাকতো বড়োজোর একটা থার্মোমিটার। এর অতিরিক্ত কোনও কোনও পরিবারে ওজন মাপার মেশিন থাকতো। কিন্তু ডায়াবিটিস,হাঁপানি,হাইব্লাড প্রেসারের মতো রোগ এখন ঘরে ঘরে। রোগের জটিলতার কারণে রোজ তো বটেই, প্রয়োজনে একাধিক বার রক্তচাপ,রক্তে শর্করার পরিমান মেপে দেখা জরুরি। আবার বাতাসে দূষণের কারণে এখন বহু মানুষকে,বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানিতে ভুগতে হয় বলে নেবুলাইজারের মাধ্যমে ওই সব রোগীকে একাধিকবার ফুসফুসে সরাসরি ওষুধ দিতে হয়। গ্লুকোমিটার ও রক্তচাপ মাপার ডিজিটাল সরঞ্জামও এখন বহু পরিবারে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু রোজ একাধিক বার ওই সব যন্ত্র ব্যবহারের জন্য বাইরে যেতে বা বাইরে কাউকে ডাকতে হলে সময় যেমন নষ্ট, তেমন আবার তা খরচ সাপেক্ষ।

চলতি বছরে ‘অপশনাল ইলেকটিভ’ হিসাবে উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরে পড়ানো শুরু হয়েছে ‘হেলথ কেয়ার’। স্কুলগুলি এই বিষয়টি স্বভাবতই পেয়েছে সাংসদের মাধ্যমে। তবে এর পাঠ্যক্রম তৈরি থেকে শুরু করে উপযুক্ত শিক্ষক দেওয়ার কাজ করছে রাজ্য সরকারের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দপ্তর। উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা সাংসদের সভাপতি মহুয়া দাসের কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ই স্কুলে চিরাচরিত পড়াশোনার পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট করানোর কাজে আমাদের মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্তির ভাবনা তাঁরই। এতে ছাত্র-ছাত্রীরা যেমন প্রশিক্ষিত হতে পারছে, তেমনই তাদের অভিজ্ঞতা পরিবার ও পরিচিতদের কাজে লাগছে।‘ সভাপতির দাবি, ‘ছাত্রছাত্রীরা ইচ্ছুক ও উদ্যোগী হলে এই ধরনের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা তাদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করে দিচ্ছে। উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরে পড়ার পর তারা চাইলে এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষাও নিতে পারে’।

‘হেলথ কেয়ার’ বিষয়টির পাঠ্যক্রম যেভাবে সাজানো হয়েছে, তাতে কোনও পড়ুয়া একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে এই নিয়ে পড়ার পর বিভিন্ন রোগের কারণ, পথ্য, পরিচর্যা, এমনকী তার চিকিৎসার ধরণ ধারণ করতে পারবেন। রোগীর বিছানা কীভাবে পাততে হয়, গেটে বাতে কোন ধরনের মালিশ কাজে আসতে পারে, প্যাথোলজিকাল পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে সেই মতো রোগীর প্রাথমিক শুশ্রূষা- এই সব বিষয়েও কোনও ছাত্র বা ছাত্রী প্রশিক্ষিত হতে পারবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ার সুযোগও তার রয়েছে। কারণ, প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসে স্টেথোস্কোপ, ব্রেস্ট মিল্ক সাকার (মায়ের দুধ স্তনে জমে গেলে বার করার যন্ত্র), নেবুলাইজারের ব্যবহার হাতেকলমে শিখতে পারবে পড়ুয়ারা। ভেন্টিলেটর, মনিটর, এক্স-রে, ইসিজি’র সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রাথমিক পাঠ দেওয়ার ব্যাবস্থাও এই বিষয়ে আছে। রয়েছে শরীর ও রোগ, জীবনশৈলি সম্পর্কে পাঠ্যক্রমও। থাকছে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা।

এ বছর কত ছাত্রছাত্রী একাদশ শ্রেণীতে হেলথ কেয়ার নিয়েছে সেটা নভেম্বরের শেষে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর জানা

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers