মেট্রোর কাজে ভূগর্ভে বিপর্যয়, বউবাজারে ঘরছাড়া মানুষের পাশে মুখ্যমন্ত্রী

মেঘাংশী দাস

গঙ্গাসাগরে লঞ্চ ডুবি থেকে শুরু করে পার্ক স্ট্রিটের স্টিফেন কোর্টে আগুন লাগার মতো বিপর্যয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে ত্রাতার ভূমিকায় গত পাঁচ দশকে বাংলার মানুষ একজনকেই দেখতে পেয়েছেন। এবার তিনি ছুটে গেলেন বউবাজারে মেট্রোর সুড়ঙ্গ তৈরির ধাক্কায় বিপর্যস্ত ভেঙে পড়া বাড়ির বাসিন্দাদের পাশে।

তিনি মানবিকতার অপর নাম, মা-মাটি-মানুষের নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু অন্তর দিয়ে সরকারি সাহায্য নিয়ে পাশে দাঁড়ানো নয়, মেট্রো রেলের কাছ থেকে পরিবার-পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও আদায় করে নিলেন
তিনি। নবান্নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং মেট্রো রেল ও পুলিশ-পুরসভাকে পাশে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করে আগামিদিনে প্রকল্পের রুটম্যাপ বেঁধে দিলেন। স্পষ্ট বলে দিলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ির বদলে বাড়ি, দোকানদারদের ফের একই জায়গায় দোকানও বানিয়ে দিতে হবে। এখানেই শেষ নয়, প্রতিদিন দফায় দফায় পুলিশ ও পুরসভার মেয়র মারফত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুরির নিয়মিত খবর রাখছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ-মানসিকতায় অভিভূত বউবাজারের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলি।

বিপন্নদের তরফে একাধিক পরিবার এখন প্রকাশ্যেই বলছেন, মা যেমন সন্তানকে আগলে রাখে, তেমনই মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে ঘটনাস্থলে এসে এবং পরে নবান্নের বৈঠকে আমাদের সমস্ত কথা তিনিই বলেছেন। আমরা যে সমস্ত দাবিদাওয়া রাখব বলে ভেবেছিলাম, তা বৈঠকের শুরুতেই স্বয়ং মুখামন্ত্রী বলে দিয়েছেন। শুধুমাত্র পুলিশকে দিয়ে নিরাপত্তা নয়, হেলে পড়া বাড়ির ভিতর থেকে সাংসারিক জিনিসপত্র বাইরে আনতে সুরক্ষারও ব্যবস্থা করেছেন তিনি। বউবাজারের শীল পরিবারের মেয়ের বিয়ে জানুয়ারি মাসে। এক কাপড়ে তাঁরা মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছেড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শীল পরিবারকে মেয়ের বিয়ের জন্য রাজ্য সরকার ৫ লাখ টাকা সাহায্য করবে।”

বউবাজারের দুর্গা পিতুরি লেনের পিয়ালি সেন মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পর বলেছেন, “ম! যেমন সন্তানের  না-বলা কথা আপনা আপনি বুঝে যান, তেমনই মুখ্যমন্ত্রী আমাদের প্রতিটি যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছেন। মেট্রোর কাছ থেকে আমাদের সমস্ত পাওনাগণ্ডা তিনি দাবি করে আদায় করেছেন।” আরেক বাসিন্দা বিজয়ভূষণ জয়সওয়াল বলেছেন, “দিদি ভগবানের মতো কাজ করেছেন। উনি আমাদের প্রত্যেকের মনের কথা কীভাবে যে আগে থেকে জেনে গেলেন, তা ভেবেই পাচ্ছি না?” বিপন্ন পরিবারগুলির সন্তানদের স্কুল-কলেজের কথা ভেবে কাছাকাছি জেমস সিনেমার লাগোয়া বাড়িতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ তৈরির জেরে বউবাজারে একশোর বেশি বাড়ি বিপজ্জনক হয়ে পড়ায় উদ্ধিগ্ন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। বস্তুত, এই কারণে ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও রবিবারই পুরমন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বিপন্ন পরিবারগুলি যাতে হোটেলে থেকে নির্বিঘ্নে খাওয়াদাওয়া করতে পারেন, তারও ব্যবস্থা করেছেন মেয়র। পরদিন নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্গত পরিবারগুলির দেখা করেছেন, এবং বিপন্নদের যন্ত্রণার কথা মন দিয়ে শুনেছেন। ঘটনায় বাড়ি ভেঙে পড়ার জেরে নবান্নে বৈঠক ডেকেছেন। সভার শুরুতেই তিনি বলেছেন, “একটি ঘটনা ঘটেছে, কার গুণ, কার দোষ, কার ভাল, কার মন্দ, তা এখন দেখার সময় নয়। এখন যে মানুষগুলি বিপদে পড়েছেন, তাঁদের সাহায্য করাই প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর এই প্রকল্পটাও সম্পূর্ণ করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে।” ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চালানোর জন্য নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মুখ্যসচিবের নেতৃত্ব একটি কোর কমিটিও তৈরি করে দেন। তাঁর কথায়, “এক কাপড়ে অনেকেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। অধিকাংশেরই দ্বিতীয় পোশাক সঙ্গে নেই। তাই দৈনন্দিন জীবনে যা প্রয়োজন তার সবটাই মানবিকতার দিক থেকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেওয়া জরুরি।”

 

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial