‘মানব-নির্মিত’ অভূতপূর্ব বেকারত্ম ও অর্থনীতির সংকট 

ডঃ দেবনারায়ণ সরকার

চার্লস ডারউইন বিখ্যাত “জার্নাল অব রিস্যারচ” গ্রন্থে লিখেছিলেন “যদি দরিদ্রদের চরম দুর্দশা প্রাকৃতিক কারণে না ঘটে, বরং আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কারণে ঘটে তাহলে সেটা আমাদের পাপ” (If the misery of the poor be caused not by the laws of nature, but by our institutions, great is our sin)। অবশেষে মোদি সরকারের নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ রাজীব কুমারও ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্বীকার করতে বাধ্য হলেন, “আর্থিক ক্ষেত্রে এমন সঙ্কট অভূতপূর্ব, যা গত ৭০ বছরে দেখা যায়নি।” সরকারের ঘরের লোক হিসাবে চাহিদার অভাবের কারণে অর্থনীতির দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার বিষয়টি প্রথম তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রথীন রায়। গোড়ায় সেভাবে মুখ খোলেনি কেন্দ্র। কিন্তু ২০১৭-১৮র এমএসএসও’র তথ্যে ৪৫ বছরের মধ্যে ভারতে সর্বোচ্চ বেকারত্বের তথ্যকে সরকারিভাবে স্বীকার করতে বাধ্য হওয়া থেকে শুরু করে গত ছ’বছরে অর্থনীতির বৃদ্ধির গতি একেবারে সর্বনিন্নে পৌঁছে যাওয়া, গাড়ি শিল্পে চরম দুর্দশার জন্য বহু কর্মীর কাজ হারানো, বেসরকারি সংস্থাগুলির আর্থিক ফলাফল খারাপ থেকে খারাপতর হওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনীতির এমন বিবর্ণ ছবি ফুটে ওঠার পরই সমস্যার কথা কবুল করতে বাধ্য হল সরকার। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম শীর্ষ কর্তা নীতি আয়োগের সিইও ঘুরপথে কার্যত স্বীকার করতে বাধ্য হলেন নোট বাতিল, ক্রটিপূর্ণ জিএসটি ইত্যাদির মতো ভুল সংস্কারের ফলে আসলে ভুগতে হচ্ছে দেশের অর্থনীতিকে। মোদ্দা কথা হল, ২০১৬ সালের ৮ই নভেম্বর দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মুদ্রা এক ধাক্কায় বাতিল করে, দেশে জাল টাকা, কালো টাকা ও সন্ত্রাসবাদ নির্মুলের যে অভূতপূর্ব বিবেকবর্জিত ও চরম দাম্ভিকতায় মিশ্রিত যে সংক্ষিপ্ত রাস্তা মোদি তৈরি করেছিল, তাতে অর্থনীতি এমনভাবে তছনছ হয়েছে যে, কবে যে অর্থনীতির অবস্থা পুনরুদ্ধার হবে কেউ তা বলতে পারছে না। বরং অর্থনীতির দুর্দশার ছবি আরও খারাপতর হচ্ছে।

প্রথমে বেকারত্ব প্রসঙ্গে আসা যাক। কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা এনএসএসও’র রিপোর্টে বলা হয়েছিল ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ভারতের বেকারত্ব গত ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ। বেকারত্বের হার ৬.১ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই রিপোর্ট ধামাচাপা দেওয়া হলেও লোকসভা নির্বাচনের পরে মোদি সরকার স্বীকার করে নিল এর সত্যতা। গত প্রায় দেড় বছরে এই বেকারত্বের হার আরও বেড়েছে। স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমির (সিএমআইই) শেষোক্ত (জুলাই, ২০১৯) রিপোর্টে বলছে, ভারতে বেকারত্বের হার ৭.৫১ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা এনএসএসও’র ২০১৭-১৮-র রিপোর্টে যেখানে বেকারত্ব ছিল ৬.১ শতাংশ এবং গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, ২০১৯-এর জুলাইয়ের সিএমআইই’র রিপোর্টে এটি আরও অতিরিক্ত প্রায় দেড় শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৫১ শতাংশ। সিএমআইই’র ২০১৯-এর মার্চের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, গত একবছরে অতিরিক্ত ১ কোটিরও বেশি লোক কাজ হারিয়েছে। গত মার্চের পরে দেশে বেকারত্বের মাত্রা আরও বেড়েছে। দেশে বেকারত্ব যে আরও বাড়বে তার পুরোপুরি আভাস মিলেছে গত ৩-৪ মাসে গাড়ি শিল্পে ৩ লক্ষের বেশি কর্মী ছাঁটাই, রেলে ২০২০ সালের মধ্যে ৩ লক্ষ কর্মী কমানোর সদৃঢ় পরিকল্পনা, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে আরও অনেক বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বিএসএনএল ও এমটিএনএল কর্মী ছাঁটাই ইত্যাদি পরিকল্পনা থেকে। গাড়ি শিল্প সংস্থা সিয়াম ও ফান্ডার তথ্যানুযায়ী শুধুমাত্র বর্তমান বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ২ লক্ষ ৩০ হাজার লোক চাকরি হারিয়েছে। গাড়ি শিল্পে প্রায় ৩০০টি ডিলারশিপ কমেছে। গত মার্চের হিসাবে ১২ লক্ষ ৮০ হাজার গাড়ি অবিক্রিত। গাড়ি ও যন্ত্রাংশ শিল্পে চাহিদা কমেছে গত প্রায় ২০ বছরে সর্বনিন্ন। রেলে বর্তমানে ১৩ লক্ষের কাছাকাছি কর্মচারী রয়েছে। রেল সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে কর্মচারীর সংখ্যা ১০ লক্ষে নিয়ে আসা হবে। বর্তমান অর্থবছরের মধ্যেই রেলে ১ লক্ষ কর্মচারী কাজ হারাতে পারেন। কেন্দ্রীয় অধিকাংশ সরকারি সংস্থায়ও কর্মী ছাঁটাইয়ের হুলিয়া ঝুলছে। শুধু সরকারি সংস্থাগুলোই নয়, সংগঠিত সমস্ত ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাইয়ের হিড়িক পড়েছে কার্যত চাহিদার চরম ঘাটতির জন্য। অসংগঠিত শিল্পে কর্মী ছাঁটাই যে আরও বেশি মাত্রায় ঘটছে যা সংবাদের শিরোনামের বাইরে। আবাসন শিল্পে তিনবছর আগে নোট বাতিলের পর থেকে আবাসন ফ্ল্যাট বাড়ির বিক্রিবাটা শ্লথ হয়েছে। বর্তমানে তার মাত্রা এত নেমেছে যে বহু ফ্ল্যাট বাড়ি অবিক্রিত রয়েছে। বহু প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত হয়ে পড়ে আছে। এক্ষেত্রেও লক্ষ লক্ষ লোক বেকার। ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়ায় সম্প্রতি ১০টি ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণ করে ৪টি আনা হল। রাষ্ট্রায়ন্ত ব্যাঙ্কের সংখ্যা ১৮ থেকে কমে ১২তে আনা হল। এর ফলে অনেকেরই কাজ হারানোর আশঙ্কা করছে। কারণ অনেক ব্যাঙ্কের শাখা বন্ধ করা হয়েছে এবং বর্তমান সংযুক্তিকরণে আরও অনেক ব্যাঙ্কের শাখা বন্ধ করা হবে। তাই এক বিরাট সংখ্যক কর্মচারীর কাজ হারানোর খাঁড়া ঝুলছে ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রেও। বর্তমান বেকারত্বের চরম আশঙ্কা সর্বক্ষেত্রেই। কয়েক কোটি লোক বিমুদ্রাকরণের পরবর্তী সময়ে কাজ হারিয়েছে । আগামী দিনে তা যে আরও ভয়াবহ হতে চলেছে তা অনেকটা নিশ্চিত করে বলা যায়। এবারে মনে হচ্ছে স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতবর্ষে বর্তমান বেকারত্বই সর্বোচ্চ।

কেন বেকারত্বের মাত্রা বর্তমানে ভয়াবহ? বাজারে চাহিদা নেই, বিক্রি নেই, নতুন লগ্নি আসছে না। অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো কৃষিক্ষেত্রেও চরম দুর্বিপাক। তাই সামগ্রিক আর্থিক অবনমনের বর্তমান চিত্র মোদির গত ৬ বছরে যে সব থেকে ভয়াবহ তা বর্তমান বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের আর্থিক সমৃদ্ধির হার বা জিডিপি সমৃদ্ধির হার থেকেই স্পষ্ট। বৃদ্ধির হার মাত্র ৫ শতাংশ যা গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ন। কলকারখানার উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ০.৬ শতাংশ এবং সেটাই জিডিপি হ্রাসের প্রধান কারণ। কৃষিক্ষেত্রে সমৃদ্ধির হার মাত্র ২ শতাংশ। গত জুনে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ন। কোর সেক্টরের সমৃদ্ধিও গত জুনে গত ৫০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থাৎ একদিকে যেমন বেকারত্ব সর্বোচ্চ, তেমনই অন্যদিকে বাজারে চাহিদা নেই, বিক্রি নেই, নতুন লগ্নি আসছে না। তেমনই কৃষিক্ষেত্র চরম দুর্বিপাকে। নোটবন্দির পর সংসদে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিং বলেছিলেন, নোটবন্দির ধাকায় বৃদ্ধি ধাক্কা খাবে অন্তত ২ শতাংশ বিন্দু। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর আশঙ্কাকে তখন পান্তা দেননি নরেন্দ্র মোদি। দেশে অর্থনীতির চরম বেহাল দশা নিয়ে এবার ফের মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন মনমোহন। তিনি দাবি করলেন এটি ‘মানব নির্মিত’ সংকট। আর এজন্য দায়ী মোদি সরকারই। মনমোহন বললেন, “বৃদ্ধির হার ইঙ্গিত দিচ্ছে, দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। অথচ ভারতের আরও দ্রুতগতিতে উন্নতির সব ক্ষমতা আছে। কিন্ত মোদি সরকারের সবরকম অব্যবস্থাই এই সংকট ডেকে এনেছে। তিনি আরও বলেন যে উৎপাদন ক্ষেত্রের বৃদ্ধি মাত্র ০.৬ শতাংশ। স্পষ্ট, নোটবন্দির ভুল সিদ্ধান্ত ও তাড়াহুড়োয় রূপায়ণ করা জিএসটির লোকসান থেকে অর্থনীতি বেরোতে পারেনি। যে মূল্যবৃদ্ধির কমা নিয়ে বড়াই করে মোদি সরকার, সেটি কৃষকের আয় কম করে হাসিল করা হয়েছে। গ্রাম সংকটে, আয় কমেছে, কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি “অর্থনীতিকে এই মানব নির্মিত সংকট থেকে বের করা হোক।” রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভাঁড়ার থেকে ১.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা নেওয়া প্রসঙ্গে মনমোহন বলেন, “সংস্থার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি সরকারকে টাকা দেওয়ার পর এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আর্থিক অব্যবস্থা থেকে বেরোতে পারবে কি না, তার পরীক্ষা। সেই টাকা সরকার কীভাবে ব্যবহার করবে, তারও কোনও পরিকল্পনা নেই। বাজেটে ঘোষণা ও ‘রোলব্যাক’ ও বিদেশি লগ্নিকারীদের আস্থায় ধাক্কা দিয়েছে। সরকারের পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে।

ভারতীয় অর্থনীতির চাকা ঘুরবে কীভাবে? ভারতীয় অর্থনীতির কাঠামোগত সমস্যাটা কোথায়? বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা বাজেটের সময় অর্থনৈতিক সমীক্ষায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, অর্থনৈতিক চাকা ঘুরতে গেলে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও রফতানির গুণগত চক্রের চাকা অবশ্যই ঘোরাতে হবে। মোদ্দা কথা হল অর্থমন্ত্রীর ৩২ দফা সংস্কারে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও রফতানির গুণগত চক্রের কোন পরিবর্তন আসবে কি?

 ২০১১-১২ অর্থবর্ষে দেশের মোট সঞ্চয় ছিল ভারতের জিডিপির ৩৪.৬ শতাংশ। ২০১৭-১৮ তে কমে দাঁড়ায় ৩০.৫ শতাংশ। মোট স্থির মূলধন গঠনের অনুপাত (জিডিপির) ছিল ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৬.৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ তা নেমে দাঁড়ায় প্রায় ৩০ শতাংশে।

 রফতানির অবস্থাও মোদির আমলে খুবই বিবর্ণ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ইউপি আমলের শেষ বছরে দেশের পণ্য রফতানি আয় ছিল ৩১৪.৪ আমেরিকান বিলিয়ন ডলার। মোদি সরকার তার প্রথম ৪ বছরে অর্থাৎ ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত সময়কালেও ইউপি আমলের শেষ বছরের পণ্য রফতানি আয়ের সীমা স্পর্শ করতে পারেনি। শুধুমাত্র ২০১৮-১৯ অর্থবছরেই ২০১৩-১৪ অর্থবছরের রফতানি আয়ের সীমা অতিক্রম করতে পেরেছিল। বর্তমান বছরেও রফতানি আয় বৃদ্ধির আশা ক্ষীণ। বিশ্ব শুল্ক যুদ্ধে ভারতের পক্ষে সুবিধ পাওয়াও যথেষ্ট দুষ্কর। অন্যদিকে আমেরিকার চাপে আমদানি বাড়ার সম্ভাবনাও বেশি। তাহলে রফতানি আয়ের সম্ভাবনাও থাকছে কোথায়?

তাহলে প্রশ্ন হল, কেন্দ্রীয় সরকারের ৩২ দফা দাওয়াইয়ের ফলে কি দেশে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও রফতানির চাকা ঘুরবে? সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। মূল সমস্যা হল চাহিদার চরম বিবর্ণ অবস্থা। এ অবস্থা ফেরানোর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন কর্মসংস্থান ও চাকরির দ্রুত প্রসার ঘটানো এবং বর্তমান ছাঁটাই রদ করা। এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন বেসরকারি ও সরকারি বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ানো। গত ৫ বছরে বেসরকারি ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কার করেও বিনিয়োগ বাড়েনি। বরং বেসরকারি ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধার মাত্রা বাড়লেও তারা সাধারণত বিনিয়োগ করে না। সুদের হার যথেষ্ট কমালেও তারা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হয় না। তারা বিনিয়োগ করে বাজারের চাহিদা দেখে। তাহলে কীভাবে দেশের বিনিয়োগ বাড়বে? বাকি রইল সরকারি বিনিয়োগ।

গত ৫ বছরে মোদির আমলে সরকারি মূলধনী বিনিয়োগের মাত্রা জিডিপির অনুপাতে ক্রমশ কমছে। এবারে বাজেটে সরকারি মূলধনী বিনিয়োগ জিডিপির ১.৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। এই বিনিয়োগও যথেষ্ট কমার সম্ভাবনা। গত বছর কর থেকে আয় সংশোধিত বাজেটের চেয়ে দেড় লক্ষ কোটি টাকার বেশি কম আদায় হয়েছে। এবারে আদায় আরও কমবে। বর্তমান অর্থ বছরের গত ৪ মাসে রাজস্ব আদায় মাত্র ১.৪ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর এই সময়ে বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। এমনকী গত ৫ বছরে তথ্যে দেখা যাচ্ছে এবারে বৃদ্ধির হার সর্বনিম্ন। বাজেটে মাত্র ৩.৩ লক্ষ কোটি টাকা সরকারি মূলধনী ব্যয় ধরা হয়েছিল। এবারেও মূলধনী ব্যয়ে খরচ কমতে বাধ্য। একদিকে বেসরকারি বিনিয়োগের চরম বিবর্ণ অবস্থা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের যথেষ্ট সুবিধা দিয়েও বিনিয়োগ বাড়ানো যাচ্ছে না। কারণ ঢেলে সুবিধা দিলেও চাহিদা না বাড়লে তারা বিনিয়োগ করবে কেন? তাহলে চাকরি ও কর্মসংস্থানের জন্য সরকারি মূলধনী ক্ষেত্রে কার্যকরী বিনিয়োগ মাত্রা যথেষ্ট বাড়াতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক যে ১.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা সরকারকে দিচ্ছে সেটাও সম্পূর্ণ সরকারি মূলধনী ক্ষেত্রে ব্যবহার ব্যতীত গতি নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকার নিশ্চুপ, কারণ সরকার এর সিংহভাগ অর্থ রাজস্ব ক্ষেত্রে খরচ করতে চায়। এর ফলে সরকারি ক্ষেত্রের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও চাকরি সৃষ্টির আশা ক্ষীণ। বরং সরকার আগামী ২ বছরের মধ্যে কয়েক লক্ষ চাকরি ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে। রেল থেকে ছাঁটাই হতে চলেছে প্রায় ৩ লক্ষ। বেসরকারি ক্ষেত্রে ছাঁটাইয়ের প্রতিযোগিতা চলছে বলা যায়। ফলে অর্থনীতিতে ‘জোরে ধাক্কাটা’ দেবে কে? কর্মসংস্থান ও চাকরিভিত্তিক ইনসেনটিভ পরিকল্পনা বৃহত্তরভাবে কার্যকরী করতে হবে প্রথমে সরকারকেই। কিন্তু সরকারি তথ্যই বলছে সরকার বরং হাত গুটিয়েই নিচ্ছে (চাকরি ছাঁটছে)। অথচ বছরে ২ কোটি চাকরির মতো মোদির পাবলিসিটির ঢাক আরও উচ্চৈস্বরে বাজছে- ২০২৪ এ ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি। ১০০ লক্ষ কোটি টাকার মূলধনী বিনিয়োগ ইত্যাদি ইত্যাদি। বছরে ২ কোটি চাকরি ও ২০২২ এ কৃষকদের আয় দ্বিগুণ যে সম্ভব নয় তা সরকারিভাবে অবশেষে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। অবশ্য লোকসভা নির্বাচনের পরে (আগে নয়)। এবারেও দেশপ্রেম, ৩৭০, ৩৫এ, এনআরসি ইত্যাদি রাজনীতির তীব্র প্রচারেও দেশের অর্থনীতি চরম বিবর্ণ ছবিকে চাপা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন মোদি ও মোদির সেনাপতিরা। গত ৫ বছরে জনগণকে রাজনীতি, ধর্মনীতি ও দেশপ্রেম দিয়ে ভুলিয়ে অর্থনীতির বাস্তব তথ্য থেকে জনগণকে দূরে ঠেলে রাখতে পারলেও আগামী ৫ বছরে দ্বিতীয় মোদি সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতির প্রকৃত তথ্য থেকে জনগণকে দূরে ঠেলে রাখা যাবে না। তীব্র বেকারত্ব ও অর্থনীতির চরম দুর্দশার পরিণতির জবাব অবশ্যই মোদি সরকারকে পেতেই হবে।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial