মমতা ডায়নামিক লেডি, বলে গেলেন মীরা কুমার 

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

হিয়া রায়

সংবিধান দিবসে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করলেন লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ মীরা কুমার। তিনি বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়নামিক লেডি। তিনি মানুষের জন্য আন্দোলন করে উঠে এসেছেন। মানুষের জন্য কাজ করেন তিনি।”

বিধানসভায় সংবিধান দিবস উদযাপন করা হয়। যেখানে সংবিধানের উপর দু’দিনব্যাপী আলোচনা হয়। বিশিষ্ট মানুষরা বক্তব্য রাখেন। লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার ভারতীয় সংবিধানের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের সংবিধান অর্থনৈতিক, সামাজিক ন্যায়বিচার দিয়েছে। সংবিধান জীবন্ত নথি। এটা কোনও আইনি নথি নয়। মানুষ তাঁর  কন্ঠস্বর খুঁজে পায় এখানে। সংবিধানকে রক্ষা করা আমাদের সকলের কর্তব্য।” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে দেশে দলিতদের অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। উল্লেখ করেছেন, দলিতদের শিরাদাঁড়া দিয়েছে সংবিধান।

২০১০-২০১৪ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজাপাল ছিলেন এম কে নারায়ণন। বিধানসভায় সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে এম এক নারায়ণন তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন কেন্দ্র ও রাজ্য দু’টি পৃথক সরকার। বলেছেন, “রাজ্যের সরকার কেন্দ্রের অধীনে নয়। গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কে ভারসাম্য নষ্ট হলে তা সংবিধানের মূল ভাবনাকেই ধ্বংস করে। এক্ষেত্রে রাজ্যকে যেন কেন্দ্র তার অধস্তন বলে মনে না করে।” রাজ্যের সরকারের উপর কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে এর আগে একাধিকবার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলের সরকার। এবার সেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন এম কে নারায়ণন।

একইরকমভাবে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যপালের ভূমিকাও স্মরণ করিয়ে দেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন মুখ্য বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য। বর্তমান রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যপালের নাম না করে সে প্রসঙ্গ তুলে ধরে জোতির্ময় ভট্টাচার্য বলেন, “রাজাপাল কোনও বিষয়ে কোনও তথ্য সরকারের কাছে জানতে চাইতে পারেন। কিন্তু রাজ্যপালের কাজ কখনওই সমান্তরাল প্রশাসন চালানো নয়।” বিধানসভায় আয়োজিত বিশেষ অধিবেশনে যোগ দিয়ে ইভিএমের হয়ে সওয়াল করে গেলেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি। বললেন, “১০০ শতাংশ বুথে ভিডিপ্যাট ব্যবহার করা হোক” নির্বাচনী দুর্নীতি রুখতে প্রতিটি রাজ্যের স্বাধীন নির্বাচনী তহবিল গড়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন কুরেশি। তাঁর কথায়, “অনেকেই নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে দাবি জানিয়ে আসছেন অনেক দিন ধরে। কিন্তু আমি মনে করি, প্রতিটি রাজ্যের স্বাধীন নির্বাচনী তহবিল থাকা উচিত। নির্বাচনী খরচের মাত্রাও বেঁধে দেওয়া উচিত। তাতে অনুদান নিয়ে নিদিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। আয়কর দেওয়া নিয়েও স্বচ্ছ  থাকা যায়।” সংসদে মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূলনেত্রীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন কুরেশি। তাঁর আক্ষেপ, “দেশের নির্বাচনে মহিলাদের অংশগ্রহণ খুব কম। সংসদে ৩৩ শতাংশ মহিলার অংশগ্রহণ করার নিয়ম রয়েছে। আমি প্রশংসা করব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর। উনি ইতিহাস তৈরি করেছেন। ৫০ শতাংশ মহিলা সদস্যকে সংসদে পাঠিয়েছেন।”

 

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial