মমতার হাত ধরেই খেলাধুলায় সাফল্য বেড়েছে: অভিষেক

শঙ্খ রায়

বাম আমলে রাজ্যে খেলাধুলোর কোনও পরিবেশ ছিল না। এখন সমাজকে এক করার প্রবণতা ফিরিয়ে আনছে এই খেলাধুলো। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমা ক্রীড়াঙ্গনে পুলিশের জঙ্গলমহল ও সৈকত কাপের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “রাজ্যে পালাবদলের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে জঙ্গলমহল কাপ, সুন্দরবন কাপ, তরাই-ডুয়ার্স কাপ, সৈকত কাপ চালু হয়। এই খেলাগুলি শুধু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করছে না, প্রত্যন্ত গ্রামগুলি থেকে ক্রীড়া প্রতিভা তুলে আনছে। বাম আমলে এইরকম খেলাধুলোর সংস্কৃতি ছিল না রাজ্যে। খেলাধুলার প্রসার ঘটাতেই মুখ্যমন্ত্রী ক্লাবগুলিকে আর্থিক সহায়তাও করেছেন।”

পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে যে রাজ্যের আক্ষরিক অর্থেই পরিবর্তন হয়েছে। সেই কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দেন ডায়মন্ডহারাবরের সাংসদ। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ফাঁকা কলসি নয়, আমরা যা বলি তাই করি। যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, সরকার তা করে দেখিয়ে দেয়।”

জঙ্গলমহলে বদলে যাওয়ার পেছনে যে খেলাধুলো অন্যতম বিষয় তা পুরুলিয়া জেলা পুলিশের অনুষ্ঠানে এই জঙ্গলমহল ও সৈকত কাপে অংশ নেওয়া এথলিটদের উচ্ছাস ও উদ্দীপনা দেখেই বোঝা যায়। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই দু’টি কাপে অংশ নেওয়া ১,১১৪টি ক্লাবের প্রায় আট হাজার এথলিট সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই সভা থেকেই সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহল ও সৈকত কাপের সফল প্রতিযোগিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। খেলোয়াড়রা সাংসদের হাতে ট্রফি, চেক, সাইকেল, মোটরবাইক, স্কুটি, টিভি পেয়ে খুশিতে উপচে পড়েন। এই দুটি খেলায় ফুটবল, ক্রিকেট, তীরন্দাজি, সাঁতার, ছৌজাম্প, পাতা নাচ-সহ আরও বহু ক্রীড়া ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের পুরুলিয়া জেলা পর্যবেক্ষক তথা সাংসদ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ঢালাও উন্নয়নের পাশাপাশি যেভাবে খেলাধুলো ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তাতে জঙ্গলমহল এখন শান্ত। তাই গত আট বছরে এখানে আর কোনও মাওবাদী শক্তি মাথা চারা দিয়ে উঠতে পারেনি।”

সামগ্রিক উন্নয়ন, খেলাধুলো, সাংষ্কৃতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি জঙ্গলমহলে যে বিপুল কর্মসংস্থান হয়েছে সেই কথাও তুলে ধরেন সাংসদ। তাঁর কথায়, “এই জেলায় আরও ৩৫ জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে নিয়োগ করা হবে। আগে সিভিকের বেতন ছিল ৫,৫০০ টাকা। এখন মুখ্যমন্ত্রী সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন আট হাজার টাকা করে দিয়েছেন।”

এই মঞ্চ থেকেই পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের ২০টি ব্লকের উন্নয়নের কাজ নিয়ে ‘উত্তরণ’ নামে একটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন সাংসদ। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, সন্ধ্যারানি টুডু, সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়ার সাংসদ মৃগাঙ্ক মাহাতো, বাঁকুড়ার সাংসদ মুনমুন সেন, জেলাশাসক রাহুল মজুমদার, পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়া ও সমাজকর্মী সুশান্ত মাহাতো প্রমুখ।

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers