মমতার উন্নয়নে আস্থা মানুষের, মুর্শিদাবাদে বিপুল জয় তৃণমূলের

হিয়া রায়

মুর্শিদাবাদে দুর্দান্ত ফল তৃণমূল কংগ্রেসের। বিরোধীদের ছেড়ে মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের উপরই আস্থা রাখলেন বাংলার মানুষ। মুর্শিদাবাদ জেলায় আগেই জেলা পরিষদ, পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেছেন সেখানকার মানুষ। এবার লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠালেন।

বলা হত, মুর্শিদাবাদ জেলা নাকি কংগ্রেসের শক্ত জায়গা। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর দেখা গেল, মুর্শিদাবাদ জেলায় সাফ কংগ্রেস। এই জেলায় বিপুল সাফল্য গেল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই জেলায় একটি আসনও তৃণমূল কংগ্রেসের ছিল না। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জিতল দু’টি আসনে। জঙ্গিপুর কেন্দ্রে জিতলেন দলীয় প্রার্থী খলিলুর রহমান। আর মুর্শিদাবাদ আসনে জয়ী হন দলীয় প্রার্থী আবু তাহের খান। একইসঙ্গে নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ছিল। সেখানেও জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সাহিনা মমতাজ বেগম। মুর্শিদাবাদে দলের বিপুল জয়ের জন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পরিশ্রম করেছেন দলের শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের উন্নয়ন ও শক্তিশালী সংগঠনের জোরে বিরোধীদের হারিয়ে জয় এল। জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় হল। কংগ্রেসের হাত থেকে আসনটি ছিনিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী খলিলুর রহমান বিপুল ভোটে জিতলেন। বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে তৃণমূল প্রার্থী খলিলুর রহমান লক্ষাধিকের বেশি ভোটে জয়লাভ করলেন। সাংগঠনিক দিক দিয়ে কংগ্রেস ও সিপিআইএমকে ধুলিসাৎ করে তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চায়েত ভোটের পর লোকসভা নির্বাচনেও রাখল। ২০০৪ সাল থেকে জঙ্গিপুর কেন্দ্রটি কংগ্রেসের দখলে ছিল। পরপর দু’বার এই কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ২০১২ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি হওয়ায় সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হন প্রণব পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। সেবার উপনির্বাচনে জয়লাভ করেন অভিজিৎ। ২০১৪ সালে নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। তৃতীয় বার এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে শুধু পরাজিতই হলেন না, একেবারে তৃতীয় স্থানে নেমে এলেন। সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি হল তৃণমূল কংগ্রেসের। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী খলিলুর রহমান জানান, এই জয় জঙ্গিপুরবাসীর জয়। পিছিয়ে পড়া জঙ্গিপুরে নতুন করে গড়ায় তার একমাত্র লক্ষ্য।

অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আবু তাহের খান জিতেছেন দুই লক্ষাধিক ভোটে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসন বামেদের দখলে ছিল। কিন্তু এবার সেখানকার মানুষ ভরসা রাখলেন তৃণমূল কংগ্রেসের উপর। আরও স্পষ্ট করে বলা চলে, বিপুল ভোটে মুর্শিদাবাদের মানুষ জয়ী করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আবু তাহের খানকে। জয়ের পর দলীয় প্রার্থী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যজুড়ে যে উন্নয়ন করছেন। তার উপর ভরসা রেখেই মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছেন। এই জয় মা-মাটি-মানুষের জয়। এই জয় মুর্শিবাদাবাদ মানুষের জয়। আমার লক্ষ্য।” দেখা গিয়েছে, বহরমপুর আসনেও তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট বৃদ্ধি হয়েছে বিপুল হারে। নিজের গড় পূর্ব মেদিনীপুর ধরে রেখে মুর্শিদাবাদে দুই প্রার্থীকে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম ভোট সেনাপতি পরিবেশ ও পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যে মুর্শিদাবাদে গত তিন দশক ধরে কংগ্রেস এবং বামেরাই নিজেদের গুরুত্ব ধরে রেখেছিল, সেই জেলায় এবার তিনটির মধ্যে দু’টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা জয়ী হলেন। এখানেই শেষ নয়, মুর্শিদাবাদের কান্দি ও নওদা, দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছে। দুটিই ছিল কংগ্রেসের দখলে। এর মধ্যে নওদা আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জিতলেন প্রায় ৩২ হাজার ভোটে। সবমিলিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে ভাল ফল করেছে দল। আগামিদিনে মানুষের পাশে থেকে দলীয় সংগঠনকে নেতা-কর্মী ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers