ভয় ভাঙছে, উঠে দাঁড়াচ্ছে ঐক্যবদ্ধ ভারত  

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

পূর্ণেন্দু বসু

এনআরসি ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অবিরাম উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে রাজধানী দিল্লি-সহ অন্তত সতেরোটি রাজ্যে। উত্তাল হয়ে উঠল একের পর এক শহর। অশান্ত বিক্ষোভে চলল গুলি। ম্যাঙ্গালুরুতে দু’জন এবং লখনউয়ে একজন মারা গেলেন পুলিশের গুলিতে। উত্তরপ্রদেশে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিহত হলেন মোট ১৮ জন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৪৪ ধারা লাগু হয়েছে। জারি করা হয়েছে কার্ফুও। বহু জায়গায় বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা।

দেশজুড়ে আটক ও গ্রেফতার হয়েছেন শত শত মানুষ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিক থেকে ইতিহাসবিদ সবাই। বেঙ্গালুরুতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে জমায়েত থেকে ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহকে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ দিল্লিতে লালকেল্লা এলাকায় কয়েকশো প্রতিবাদীর সঙ্গে যোগেন্দ্র যাদবকে আটক করা হয়।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম পথে নামেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শান্তিপূর্ণ বিরাট বিরাট মিছিলে পথে হাঁটেন তিনি। তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র। উত্তাল হয়ে ওঠে নাগরিক প্রতিবাদ। প্রতিবাদ চলছে। প্রতিবাদ চলবে। এই আওয়াজে মুখরিত পশ্চিমবঙ্গের আকাশ-বাতাস। আইন প্রত্যাহারের দাবিতে নাগরিক আন্দোলন ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করছে। প্রতিবাদ আন্দোলনকে বিপথগামী করার সব চক্রান্তকে বানচাল করে দিয়ে রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উত্তরপ্রদেশ ক্রমশই অশান্ত হয়ে উঠছে। যোগী আদিত্যনাথের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে উত্তাল একের পর এক শহর। অশান্ত দিল্লি, মুম্বাই শহরে প্রতিবাদ আন্দোলন বড় আকার নিচ্ছে। আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে অসম-ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসি ইস্যুতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভের জন্য দায়ী মোদি দরকার। এই নতুন আইনটি সম্পূর্ণত এক বিভেদের আইন। এনআরসি নিয়ে আতঙ্কে ভুগছে গোটা দেশ। একটানা প্রতিবাদ বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে কাটছে আতঙ্কের পরিবেশ। হয় মোদি সরকার এই আইন ফিরিয়ে নেবে, এনআরসি প্রক্রিয়া বন্ধ করবে, নয়তো ভারত কার্যত হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত হবে-এই এসপার-ওসপার লড়াই গড়ে উঠছে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি পথে নেমেছে। পথে নেমেছে ছাত্র-যুব-মহিলাসহ বুদ্ধিজীবী ও বৃহত্তর নাগরিক সমাজ। মোদি-অমিত শাহের হিন্দু-মুসলিম হানাহানির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভারতের ছবিটা ক্রমশই উজ্জ্বল হচ্ছে। নতুন আইনের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ আন্দোলন সে কথাই বলছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এগিয়ে আসছে নাগরিক সমাজ।

সরকার যেভাবে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের উপর দমননীতি চালাচ্ছে, তা অত্যান্ত নিন্দনীয়। ছাত্রছাত্রীরা সরকারের বিভেদনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। তারা সরকারের দেশবিরোধী, সংবিধানবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা অনুযায়ী সেটাই স্বাভাবিক। সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হবেই। সেটাই ন্যায়সঙ্গত। মোদি সরকার সেই প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। সরকার যতই চেষ্টা করুক প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করা যাবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।

এ এক জনজাগরণ

ভারত জাগছে। সংশোধিত নাগরিক আইন এবং এনআরসির বিরুদ্ধে, দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু, কলকাতা নেমেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। পুলিশের রক্তচক্ষু অগ্রাহ্য করে, নির্যাতন, দমন-পীড়নের বিপদ মাথায় নিয়ে ঘর ছেড়েছেন প্রতিবাদীরা। বেঙ্গালুরুতে ১৪৪ ধারা অগ্রাহ্য করে রামচন্দ্র গুহ-সহ আটক হয়েছেন অগণিত মানুষ। দিল্লিতে পুলিশি নিপীড়ন প্রতিবাদীদের আটকাতে পারল না। কলকাতায় কাতারে কাতারে মানুষ পথে বেরিয়ে প্রতিবাদ করলেন মমতার ডাকে সাড়া দিয়ে। পার্ক সার্কাসের বিপুল আয়তনের সম্প্রীতির জনজমায়েত একটা ঐতিহাসিক দিনের সূচনা করল। দেশজুড়ে উঠল গান্ধী-নেহরু-আম্বেদকরের, নেতাজি সুভাষের স্বাধীন ভারতের আওয়াজ। অসমের মানুষ আগে অসমিয়া, পরে হিন্দু, কিংবা ভীম আর্মি দিল্লির পথে নেমে লড়তে পারে মুসলিমদের সঙ্গে এসবই দেখা গেল মোদি-অমিত শাহের ভারতে। সর্বধর্ম সমন্বয়ের ধারণা ব্যক্ত হচ্ছে সর্বত্র।

বার্তা স্পষ্ট। স্বাধীনতার আন্দোলন শুধুমাত্র ব্রিটিশ রাজশক্তিকে বিতাড়নের আন্দোলন ছিল না। দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব ও তাঁদের অনুগামীরা ভারতের এক অভিনব ভাবমূর্তি গড়েছিলেন। তাঁরা ব্রিটিশের গুলি-লাঠি খেয়েছেন, জেলে পচেছেন, ফাঁসির মঞ্চে জীবন দিয়েছেন, স্বীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নীরবে দেশ গঠনের কাজ করেছেন। কারণ দেশের সেই বৈষম্যহীন, গনতান্ত্রিক ধারণাকে তাঁরা হৃদয়ের শক্তি করে তুলেছিলেন। আজ যখন প্রশ্ন উঠছে, সেই ভারত কি বৈষম্যের ভারত, আধিপত্যবাদী ফ্যাসিস্ট হিন্দু ভারত হতে পারে? এই দেশ সমস্বরে বলছে: ঐক্য-এই কথাগুলি কেবল কথার কথা নয়। কথাগুলি আজও জনজীবনের উচ্চারিত মন্ত্র। যুগ যুগ ধরে যা মানুষের হৃদয়ে বিরাজ করছে। নাগরিকত্ব আইন ভারতকে সেই মন্ত্র থেকে, সেই জীবনবোধ থেকে বিচ্যুত করতে চায়। সেই অপমানে সারা দেশ উদ্বেল–উত্তাল। গুলবার্গ থেকে শিলং, বিজাপুর থেকে মথুরা, কানপুর, লখনউ, মুম্বই, কলকাতার মতো শহরে অগণিত মানুষ পথে নেমে প্রতিবাদ করছেন।

প্রতিবাদীরা কোনও বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন না। দাবি করছেন নাগরিক মর্যাদা। নাগরিকের মর্যাদা। শুধু আবেগ নয়, সব ধর্ম, সব শ্রেণি, সব বর্ণ, সব লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষ নাগরিকত্বের প্রশ্নে যেভাবে হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়েছেন তা এক বিশেষ বার্তা বহন করে। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হীন প্রবণতাকে এই ঐক্য প্রশ্রয় দেয় না। জাতি-সম্প্রদায় ভিত্তিক আর্থ- সামাজিক সাম্য, তথা রাষ্ট্র ক্ষমতায় সমস্ত জাতি-ধর্মের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। হিন্দুত্ববাদীরা যে নির্মাণ করতে চায় তাতে বিদ্বেষজনিত বৈষম্যের লক্ষ্যটি স্পষ্ট। তাদের লক্ষ্য একটি ধর্মীয় জাতির আধিপত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। যার নাম ‘সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ’। নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবি তুলে অগণিত ভারতবাসী সেই ঘৃণ্য লক্ষ্যকে বর্জন করছেন।

যাঁরা পথে নেমেছেন, তাঁদের একটা বড় অংশ ছাত্র। তাঁরা বয়সে তরুণ। কোনও প্রলোভনে তাঁরা পথে নামেনি। দিল্লি পুলিশের লাঠি বন্দুকের সামনে জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় তিন তরুণীর প্রতিবাদ যুব-সম্প্রদায়কে ঘা দিয়ে জাগিয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে, ভীত-সন্ত্রস্ত ও সন্দেহাচ্ছন্ন, বিভেদকামী এই মৃত্যু উপত্যকা, এই রাষ্ট্র তাদের দেশ নয়। স্ব-দেশের নাগরিকত্ব দাবি করে তাঁরা পথে নেমেছেন। তাঁদের নাগরিকত্বের পরীক্ষা করে কার সাধ্য?

একথা জোরের সঙ্গেই বলা যায় যে, এদেশে গণতান্ত্রিক বহুত্বের আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়েছে। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আরও অনেকদিন লড়তে হবে। লড়াই কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। নবীন প্রজন্মের দেশব্যাপী প্রবল দৃপ্ত, সরব সংগ্রামী ভূমিকা ভরসা দেয়, এখনও সব শেষ হয়নি। ভয়ের অবসান তার সূচনা লগ্নের বিউগল বাজিয়ে গিয়েছে। রুদ্ধ কণ্ঠের অর্গল খুলছে। একেই তো নবজাগরণ বলে।

রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তিতে আঘাত

মোদি সরকারের দ্বিতীয় দফার শাসনে ছয় মাসের মধ্যে একের পর এক সিদ্ধান্তে কেঁপে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি। দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে চলে আসা ভারতের সাংবিধানিক ভিতের উপর নেমেছে ভয়ংকর আঘাত। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা লোপ করে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছে। তিন তালাক রদ আইন সংসদে পাস করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের পরিবর্তন ঘটিয়ে তথ্য কমিশনের কাজে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সংসদে পাস করানোর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যা মামলায় রামমন্দির গঠনের রায় বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের পক্ষে গিয়েছে। এ সব কিছুর প্রভাবে ৭০ বছর ধরে চলে আসা দেশের মৌলিক চিন্তাভাবনা ও রাজনৈতিক কাঠামোতে বড়সড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। যা একেবারেই অবাঞ্ছিত ও অন্যায় বলে প্রতিবাদ উঠেছে সারা দেশ জুড়ে। দেশের উদার ধর্ম-নিরপেক্ষ ধারণার উপর চরম আঘাত নেমেছে। হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাবনায় পরিচালিত বিংশ শতাব্দীর হিন্দু মহাসভা পরে জনসংঘ ১৯৮০ সালের পর থেকে বিজেপি হিন্দু জাতীয়তাবাদের নিরিখে, দেশ-সমাজ-সংবিধান-আইনকানুন সবকিছুকেই নতুন করে নিজেদের চিন্তাভাবনার ভিত্তিতে পরিবর্তন করতে চেয়েছে। এর জন্য আরএসএস কাজ করছে ১৯২৫ সাল থেকে।

১৯৮০ সাল থেকে বিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অযোধ্যায় রামমন্দির গঠন, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা, তিন তালাক রদ বা নাগরিক সংশোধনী বিল এনে নিজের শক্তিকে সংহত করার দিকে এগিয়েছে সংঘপন্থীরা। ১৯৯৭ ও ১৯৯৯-এ পরপর দু’বার বিজেপির নেতৃত্বে কেন্দ্রে সরকার গঠন হলেও দলের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায়, বিজেপির ভাবনাগুলি কার্যকারী করতে পারেনি বাজপেয়ীজির সরকার।

২০১৪-তে লোকসভা নির্বাচনেও নরেন্দ্র মোদি বিকাশের প্রশ্নকে সামনে রেখে দিল্লি দখল করেন। ফল হয় আশাতীত। ২০১৯-এর নির্বাচনে বিপুল সংখ্যায় আসন পেয়ে নরেন্দ্র মোদি আরএসএসের বিশ্বস্ত সৈনিক অমিত শাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। তার পর থেকেই একের পর এক বিজেপি সংঘ পরিবারের ধারণাগুলিকে আইনগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পরিণত করে। এর প্রতিটি সিদ্ধান্তই ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও বহুত্বের ধারণাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এনআরসির পর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন হল তার শেষ পদক্ষেপ। যার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন।

প্রতিবাদ ন্যায়সঙ্গত

বিজেপির কাছে নাগরিকত্বের সংজ্ঞাটি ধর্মভিত্তিক। অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অধিবাসীদের কাছে সমস্যাটি সাংস্কৃতিক ও ভাষাভিত্তিক। সংঘাতটি কিন্তু একেবারেই গোড়ায়। বিজেপি ভাবছে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পেরোতে সাহায্য করবে। আর মানুষ ভাবছে তাঁর নাগরিকত্ব থাকবে কি না, তা নিয়ে। বিজেপির নাগরিকত্বের অবস্থান মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মুসলমান সমাজ আতঙ্কিত। কে ‘শরণার্থী’ আর কে ‘অনুপ্রবেশকারী’, তা ঠিক করবে হিন্দুত্ববাদী সরকার। আর তাতেই আতঙ্ক।

আমাদের দেশে খুব স্পষ্টভাবে এমন আইন আছে, যে আইনে যে কোনও ব্যক্তি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। হিন্দু বা মুসলিম যে কেউ। আবেদনপত্র বিচার করে ভারত সরকার চাইলে নাগরিকত্ব দিতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মনিরপেক্ষ উদ্ধাস্তু নীতিও তৈরি হতে পারে। কিন্তু বিজেপির উদ্দেশ্য যেখানে শুধু মুসলিমদের চিহ্নিত করা, সেখানে বিজেপি সরকার সেই ধর্মনিরপেক্ষ পথে হাঁটবে কেন?

নয়া সংশোধিত আইনে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অ-মুসলিমরা যাতে ভারতের নাগরিকত্ব সহজেই পেতে পারে তার পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে শুধু মুসলিমরা বাদ কেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হচ্ছে। শুধু সিএএ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ঘোষণায় আতঙ্ক বাড়ছে। ২০২৪ সালের মধ্যে এনআরসি চালু হবেই বলে অমিত শাহর হুংকার আমরা শুনেছি। এখন আবার ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে। তাতে ভরসা করার কিছু নেই। অসমে যে চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। এর মধ্যে ১২ লক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়ের ফলে উগ্র হিন্দত্ববাদের জিগির তোলা সাম্প্রদায়িক বিজেপি বিপাকে পড়েছে। তাদের মধ্যে থেকে আওয়াজ উঠছে, অসমে এনআরসি বাতিল করা হোক। একদিকে কয়েক দশক সময় লেগেছে এই এনআরসি রুপায়ণে, অন্যদিকে এর পিছনে খরচ হয়েছে ১৬০০ কোটি টাকা। তাই দেশজুড়ে এনআরসি করার ঘোষণা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বলা হল অসমের এনআরসি নাকি খারাপ। ওটা ফেলে দিয়ে নতুন এনআরসি হবে। এর মানে কী? অসমে তিন কোটি মানুষের জন্য এনআরসি করতে খরচ হল ১৬০০ কোটি। সারা দেশের জন্য খরচ হবে প্রায় ৭০ হাজার কোটি। এ টাকা আসবে কোথা থেকে?

কেউ যদি ধরেও নেয় আইন কার্যকারী হবে। কয়েক কোটি মুসলিমকে বলা হবে ‘বহিরাগত’। তারপর? বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনও লোক নেবে না। কারণ তাদের দেশের কেউ ভারতে বেআইনিভাবে নেই। মোদি-শাহ জুটির সরকার জোর করে কি কয়েক কোটি মানুষকে প্রতিবেশী কোনও দেশে ঢুকিয়ে দিতে পারবে? দু’কোটিরও বেশি লোককে ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে তার খরচ বহন করা ভেঙে পড়া অর্থনীতির ভারতের পক্ষে কি সম্ভব হবে? তাহলে কেন এনআরসি আর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে এত বাড়াবাড়ি? এর উদ্দেশ্য একটাই। হিন্দু-মুসলমানের বিভাজনের রাজনীতি করে ভোটে জেতা। বাংলা দখল ওদের লক্ষ্য। আমাদের সংবিধানে নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও ধর্মের কথা লেখা ছিল না।

সংশোধিত আইন অমুসলিম ধর্মগুলির নাম লিখে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানকে কলঙ্কিত করা ন্যায়সংগত। এই আইন বাতিলের দাবিও যুক্তিযুক্ত। এই লড়াই তাই ভারত রক্ষার লড়াই। সংবিধান রক্ষার লড়াই।

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial