ভোটের স্বার্থে ধর্মীয় আবেগকে অপব্যবহার করছে বিজেপি

শঙ্খ রায়

ভগবান রামচন্দ্রের নাম নিয়ে রাজনীতি করার তীব্র সমালোচনায় সরব হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একেবারে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন ধর্মীয় আবেগের বশবর্তী মানুষের একটি স্লোগানকে কীভাবে রাজনীতির আঙিনায় নিয়ে এসে তার মর্যাদাহানি করছে দেশের সাম্প্রদায়িক শক্তি। মানুষের সেই আবেগকে তিনি সম্মান করেন। কিন্তু দেশের সাম্প্রদায়িক সরকার তাকে অনবরত আঘাত করছে।

সম্প্রতি এমন অনেক ঘটনা কখনও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে, কখনও রাজ্যের নেতাদের সামনে ঘটেছে। মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগকে কেন্দ্রের সরকারি দল অপব্যবহার করেছে। একইসঙ্গে জননেত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন কোনও রাজনৈতিক স্লোগানের বিরুদ্ধেই তিনি নন। সবার স্লোগান আলাদা । প্রত্যেক স্লোগানকে তিনি শ্রদ্ধা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী সেই ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা তুলে ধরেছেন। বলেছেন, “জয় সিয়ারাম, জয় রামজি কি, রাম নাম সত্য হ্যায়- এর মতো একাধিক ধর্মীয় এবং সামাজিক স্লোগান রয়েছে। আমি

এই আবেগকে সন্মান করি। বিজেপি এইধর্মীয় স্লোগানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের স্লোগান হিসাবে ব্যবহার করছে। ধর্মের সঙ্গে তারা রাজনীতিকে মেশাচ্ছে।” তাঁর কথায়, “জোর করে কোনও রাজনৈতিক স্লোগানকে চাপিয়ে দেওয়ার আরএসএসের এই রাজনীতির আমরা ঘোর বিরোধী। বাংলার মানুষ একে গ্রহণ করবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে ঘৃণার রাজনীতি প্রবেশ করানো আর হিংসা ছড়ানোর এই ঘৃণ্য রাজনীতিকে আমরা একসঙ্গে রুখব। কাউকে একবার বোকা বানানো যায়। বারবার বানানো যায় না।”

প্রথম ঘটনা চন্দ্রকোনার। পরের ঘটনা ভাটপাড়ায়। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে এসে বিজেপি সমর্থকরা স্লোগান দেন। এভাবে একটি ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করে স্লোগান দেওয়ার জন্য তীত্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জননেত্রী। তার পর একই ঘটনা ঘটে তৃণমূলের মন্ত্রী ও নেতাদের লক্ষ্য করেও। নৈহাটির সভা থেকে দলীয় কর্মীদের নেত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, এমন ঘটলে পাল্টা ‘জয় হিন্দ’ বলুন। এর পরই এই সাম্প্রদায়িক শক্তির এমন অভব্য আচরণ থেকে মানুষ যাতে ভয় না পায়, তাই পরিস্থিতি সামলানোর প্রয়োজন ছিল। সেই কাজটাই করলেন নেত্রী। একটি ফেসবুক পোস্ট করে তিনি বলেন, “কোনও রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কোনও স্লোগান, যা তারা দলীয় কর্মসূচি বা র‍্যালিতে ব্যবহার করে, তা নিয়ে আমার আপত্তি নেই। প্রত্যেক দলের নিজস্ব স্লোগান রয়েছে। আমার দলের যেমন রয়েছে জয় হিন্দ, বন্দে মাতরম। বামেদের আছে ইনকিলাব জিন্দাবাদ । বাকিদেরও নানা স্লোগান রয়েছে। আমরা প্রত্যেকটি দলের স্লোগানকে সম্মান করি।”

নিজের টুইটার হ্যান্ডেলের প্রোফাইল ছবিও ইতিমধ্যে বদলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মনীষীদের ছবি দিয়ে ‘জয় হিন্দ’ লেখা একটি পোস্টার সেটি। অন্যদিকে, ফেসবুকে নিজের পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে বিজেপি কর্মীরা ঘৃণার মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ভুয়া ভিডিও, ভুয়া খবর, ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। রামমোহন রায় থেকে শুরু করে বিদ্যাসাগর পর্যন্ত সমস্ত সমাজ সংস্কারকরা, প্রত্যেকেই বাংলার সম্প্রীতি, বাংলার উন্নতি আর বাংলার অগ্রগতির কথা বলেছেন। কিন্তু বর্তমানে বিজেপির ঘৃণ্য পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাকে খুব খারাপভাবে টার্গেট করার।” একইসঙ্গে জননেত্রী বলেন, “সময় এসেছে এসবের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপে করার। কোনও রাজনৈতিক কর্মীরই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে কারও সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানো বা হিংসা ছড়ানো উচিত নয়। সব দলেরই উচিত, শান্তি বজায় রাখতে নিজেদের মতো উদ্যোগ নেওয়া।”

দলনেত্রী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, “ব্যর্থ আদর্শের রাজনীতির ধারণা নিয়ে বিভাজনের রাজনীতির ধ্বংসাত্মক কাজ করা উচিত নয়। তেমন হলে সমস্ত পরিবেশটা কলুষিত হয়ে উঠবে। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে রক্ষা করতে আমরা বিজেপির এই অপচেষ্টাকে রুখে দেওয়ার সবরকম প্রয়াস করব।”

এর প্রেক্ষিতেই দেশের মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, “ঘৃণার রাজনীতিকে যোগ্য জবাব দিন। দেশের সমৃদ্ধিশালী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সম্মান করুন। আমরা যেন নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য গর্ববোধ করি।” পোস্টে একেবারে শেষে “জয় হিন্দ, জয় বাংলা, জয় হে’ শ্লোগান তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial