ভেদাভেদের রাজনীতি নয়, বোঝাল করিমপুর

সুব্রত ভট্টাচার্য

জয় প্রত্যাশিত ছিলই। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ব্যবধান বাড়িয়ে বিরাট সাফল্য এল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘরে। উপনির্বাচনে বাংলার তিনটি কেন্দ্রে জয় পেয়েছে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তার মধ্যে জয়ের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি করিমপুর কেন্দ্রে। প্রায় ২৪ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহরায়। গণনা শুরু হতেই ট্রেন্ড বুঝিয়ে দিয়েছিল পাল্লা কার দিকে ভারী। কয়েক রাউন্ড যেতেই ছবিটা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সবুজ আবিরে ঢেকে যায় গোটা এলাকা। চারদিক থেকে স্লোগান ওঠে, এ জয় মা মাটি মানুষের জয়। এ জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়।

করিমপুরে একাদশ রাউন্ড শেষে তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায় এগিয়ে ছিলেন ২০ হাজার ৮৫৬ ভোটে। গণনা শেষে জয়ের ব্যবধানে বেড়ে দাঁড়ায় ২৪১১৯। লোকসভা ভোটের পর মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যবেক্ষক করে নদিয়ায় পাঠিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন ঘোষণার পর নেত্রীর বার্তা নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার করেছিলেন। মাটি কামড়ে পড়েছিলেন প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহরায় নিজেও।

এদিন ফল ঘোষণা হওয়ার আগেই করিপুরের ফলাফল জেনে গিয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। গণনা শুরুর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্লা ভারী ছিল। শুরু হয় আবির খেলা। এরপর যত বেলা গড়ায় সবুজ ঝড়ে খড়কুটোর মতো ভেসে যায় বিরোধী দলগুলি। বাম-কংগ্রেস জোট করেও বাকি দুই কেন্দ্রের মতো করিমপুরেও তেমন কোনও দাগ কাটতে পারেনি। গত বিধানসভা নির্বাচন বা লোকসভা নির্বাচনের থেকে উপনির্বাচনে বেশি ব্যবধানে জয় হয়েছে তৃণমূলের। এবারের লোকসভা নির্বাচনে করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ১৫ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। সেই নিরিখে উপনির্বাচনে প্রায় ন’হাজার ভোট বেড়েছে তৃণমূলের । করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে টানা ৪৯ বছর বামেদের দখলে ছিল। ২০১৬ সালের সেই কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ধ্বজা ওড়ান মহুয়া মৈত্র। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে করিমপুর কেন্দ্রে ১৫৯৮৯ ভোটে জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে বিপুল অনেকের ভোটে জয়লাভ করলেন বিমলেন্দু সিংহরায়। এই বিপুল জয়ে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা আপ্লুত। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাহুবল এবং ধর্মের ভিত্তিতে যে এখানে ভোট হয় না তা প্রমাণিত হল। এনআরসির ভয় দেখিয়ে বিজেপি রাজনৈতিক চাল দিয়েছিল। বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রেখেছেন। ধর্মের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন মানুষ।”

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial