ব্রিগেড চলো

জননেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আহ্বানে ‘উনিশের ব্রিগেড’- এর দিন যত এগিয়ে আসছে বাংলা-সহ জাতীয় রাজনিতিতে ততই উত্তেজনার পারদ চড়ছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আর বিশেষ দেরি নেই। সময় মাত্র কয়েকটা মাস। সেই লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে বিজেপি সরকারকে হঠাতে তৎপর হয়েছে বিজেপি-বিরোধীসমস্ত দল। তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিরোধী দলগুলি একত্রিত ভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি জোট-মঞ্চ তৈরি করেছেন।

 

চলতি বছরের মাঝামাঝিতে আগামী বছরের ১৯ জানুয়ারি কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। যে সমাবেশে দেশের সমস্ত বিজেপি-বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনেক দলের নেতা আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সেই সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিতও করেছেন আগেই। কিন্তু তার মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে অনেক ওঠা-পড়া ঘটে গিয়েছে। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়- তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারিয়েছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। কারণ, এই তিন রাজ্যের ভোটে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, সাধারণ মানুষের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সম্পর্কে মোহভঙ্গ হয়েছে। তারা যে ‘আছে দিন’-এর স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, তা যে আসলে ‘বড় অসত্যছিল, তা আজ মর্মে মৰ্মে বুঝতে পেরেছে দেশের মানুষ। তাই যে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের জবাবের সুযোগ পেয়েছে, মানুষ সেখানে বিজেপিকে জবাব দিয়েছে। ক্ষমতা থেকে টেনে নামিয়ে দিয়েছে বিজেপিকে। আর এই ফল থেকেই পরিষ্কার আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচনের ফল কী হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে এই ব্রিগেড সমাবেশের গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে।

 

সব গণতন্ত্ৰপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ব্রিগেডের জনসমাবেশের প্রস্তুতি তুঙ্গে রাজ্যজুড়ে। সেই জনসমাবেশের গুরুত্ব ও তাৎপর্য যে অপরিসীম, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই সমাবেশের প্রচার শুরু করে দিয়েছেন জননেত্রী। সেই মতো জেলায়-জেলায় ব্লকস্তরেও সমাবেশকে সফল করতে প্রচারে নেমে পড়ছেন দলের নেতা-মন্ত্ৰী থেকে শুরু করে সবস্তরের কর্মীরা। বাংলার মাটি থেকে কেন্দ্রে পরিবর্তনের ডাক দিতে ১৯ জানুয়ারি তার ব্রিগেড সমাবেশ ঐতিহাসিক রূপ নিতে চলেছে। কেন্দ্র-বিরোধী প্রায় আঠারোটি বিরোধী শক্তি উপস্থিত থাকবে জননেত্রীর ডাকা ব্রিগেডের মঞ্চে।

 

সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন অস্ত্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও টিডিপি নেতা এন চন্দ্রবাবু নায়ডু, এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার, জেডি (ইউ) নেতা শরদ যাদব, ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, গুজরাতের নেতা হার্দিক প্যাটেলের মতো নেতা। মঞ্চে জননেত্রীর হুশিয়ারি, রাজ্যে দু’টো আসন ছিল, এবার শূন্য হয়ে যাবে। বিজেপি বাংলা থেকে আর কোনও আসন পাবে না। কর্নাটক, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়—সব জায়গায় পরাজিত হয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রেও আর ফিরবে না। উল্লেখ্যজাতীয় রাজনীতি এই মুহুর্তে জননেত্রীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। কেন্দ্রে বিজেপিকে রুখতে বিরোধী জোট গড়ে তুলেছেন জননেত্রী। আর সেই কারণেই কেন্দ্রে নতুন সরকার গড়তে এবার বৃহত্তর ভূমিকা নেবে বাংলা।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers