ব্যাপক প্রচার রাজ্যজুড়ে ‘দিদিকে বলো’, ঘরে ঘরে নেতৃত্ব

হিয়া রায়

‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, কর্মীরা এই কর্মসূচি নিয়ে রাজ্যজুড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সাধারণ মানুষও স্বাগত জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই কর্মসূচিকে। এমনকী, ‘দিদিকে বলো’ নম্বরে সাধারণ মানুষ ফোন করছেন। তাঁদের মতামত জানাচ্ছেন। জননেত্রীর কাছে একটা ফোনের মারফত কীভাবে তাদের মতামত পৌঁছে দেওয়া যাবে, তা গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রচার করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিরা। পাশাপাশি মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার গর্ব, জননেত্রীর হাত ধরে বাংলায় যে বিপুল উন্নয়ন হয়েছে, তা ভিডিও বার্তার মাধামেও তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষ। ফলত সবমিলিয়ে রাজ্যজুড়ে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যজুড়ে বিপুল উন্নয়ন করে চলেছেন। মানুষ সেই উন্নয়নকে প্রত্যক্ষ করছেন। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানে বিপুল উন্নয়ন হয়েছে। বাংলার মানুষের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করেছেন জননেত্রী। সেই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের মানুষ। এরপরই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন জননেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষ যাতে জননেত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন, তাঁদের মতামত পৌঁছে দিতে পারেন, তার জন্য চালু করেছেন ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি। ৯১৩৭০৯১৩৭০ টোল-ফ্রি নম্বর এবং ওয়েবসাইট www.didikebolo.com। ‘দিদিকে বলো’ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল প্রথম দিনই। দিন যত এগিয়েছে, তত সাধারণ মানুষের সমর্থন আরও বেড়েছে। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে প্রথম তিনদিনে ২ লাখেরও বেশি মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁরা তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। এই ধরনের জনসংযোগ পর্বে আরও একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘আমার গর্ব মমতা’ নামে আরও একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গর্ব অনুভব করেন, তা জানাতে বলা হয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব সর্বত্র পেজ বা চ্যানেল খোলা হয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গায় মন্তব্য করে মতামত জানানো যাবে। বার্তা এটাই, দিদি আপনাদের জন্য লড়েছেন, আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, আমাদের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের গর্ব আমাদের দিদি।

মানুষের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক নিবিড়। সেই সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে রাজ্যজুড়ে প্রচার কর্মসূচিতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ ‘দিদিকে বলো’। টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে সাধারণ মানুষ তাঁদের মতামত, কোনও সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। সেইসঙ্গে ওয়েবসাইটেও জানানো যাবে মতামত। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হল জনসংযোগ। আর দলনেত্রীর নির্দেশমতো ‘দিদিকে বলো’ উদ্যোগ সফল করতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন দলের নেতা-মন্ত্রী-বিধায়করা। রাজ্যজুড়ে প্রচার অভিযানে শামিল হলেন সব স্তরের নেতা-কর্মীরা। রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের কাছে ‘দিদিকে বলো’ লেখা ফোন নম্বরের ভিজিটিং কার্ড, মোবাইল স্টিকার তুলে দিলেন বিধায়ক, জনপ্রতিনিধি, কর্মীরা। সমস্যা, মতামত থাকলে সরাসরি ‘দিদি’কে জানানোর পরামর্শ দিল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। ‘দিদিকে বলো’ লোগো দেওয়া টি-শার্ট পরে জনসংযোগের কর্মসূচিতে শামিল হয়েছেন সকলে। তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এখন জনগণের সঙ্গে দিদির একটি ফোনের ব্যবধান। দিদিকে বললে অনায়াসে মনের শান্তি হয়। মানুষ তাঁর মতামত জানাতে পারবেন দিদিকে।”

২৯ জুলাই ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে প্রতিদিনই জেলায় জেলায় এই কর্মসূচিতে শামিল হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীরা। তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছেন ‘দিদিকে বলো’-এর বিষয়টি বোঝাচ্ছেন। কীভাবে জননেত্রীর কাছে মতামত পৌঁছে দেওয়া যাবে, তার বিস্তারিতভাবে জানাচ্ছেন। ‘দিদিকে বলো’ ফোন নম্বরটি সাধারণ মানুষকে জানাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। পাশাপাশি এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। বিশিষ্ট মানুষজন বাংলার উন্নয়ন নিয়ে যে মতামত দিচ্ছেন, তা লিপিবন্ধ করছেন তাঁরা।

সেইসঙ্গে কর্মী, সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে থাকছেন বিধায়করা। রাত্রিবাস করছেন। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় বলেন, কর্মীরাই দলের সম্পদ। সেই বার্তাটা এলাকায় এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। কর্মীর বাড়িতে থেকে দলকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা সারছেন। উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গ সর্বত্র এক ছবি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীরা। এলাকায় জনসংযোগ করছেন। ‘দিদিকে বলো’ ফোন নম্বর লেখা কার্ড তুলে দিচ্ছেন। দলের সব বিধায়করা ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে শামিল। এলাকায় সাধারণ মানুষকে নিয়ে বৈঠক করছেন, মানুষের ঘরে যাচ্ছেন, মিটিং, মিছিল করছেন, দলের কথা ও জননেত্রীর উন্নয়নের কথা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছেন। কর্মী, সমর্থকদের বাড়িতে থাকছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। বাংলার মানুষও স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, জননেত্রীর হাত ধরে বাংলায় উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়নের পাশে তাঁরা থাকবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবেন। ‘দিদিকে বলো’ ফোন নম্বরটি ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। মানুষ বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বাংলার মাটির টান। জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার গর্ব। তিনি বাংলার আপামর মানুষের পাশে রয়েছেন। তাই তাঁর পাশেও রয়েছেন বাংলার মানুষ।

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers