বৈঠক শেষে মমতার ভূয়সী প্রশংসা করলেন হাসিনা

Share, Comment
EmailFacebookTwitterWhatsApp

সুব্রত ভট্টাচার্য

পিঙ্ক বলের দৌলতে আবার দেখা হল দু’জনের। এপার বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ওপারের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ভারত-বাংলাদেশ দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচ ঘিরে উৎসবে মেতেছিল কলকাতা। ঢাকাতেও শুরু হয়েছিল প্রবল উন্মাদনা। তারই মাঝে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

একান্তে কথা বলার জন্য সন্ধ্যার সময়টিকেই চিহ্নিত করা হয়। কেননা, দুপুরে ইডেনে অনুষ্ঠানের ব্যস্ততা। ডিনারেও কোনও সুযোগ নেই। বৈঠকের শুরুতে হাসিনার সঙ্গে আসা বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী আবদুল মোমেন, পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নাগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, কলকাতায় বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রিভা গঙ্গোপাধ্যায় দাশের মতো অনেকেই সৌজন্য বিনিময় পর্বে ছিলেন। ঘরোয়া কথা বলতেই অনেকটা সময় কেটে যায়। তার পর কুড়ি মিনিট হাসিনা ও মমতার একান্ত আলাপ। এঁকে অপরকে শাড়ি, মিষ্টি উপহার দেন। বৈঠক সেরে প্রথমে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ। একেবারে ঘরোয়া আলোচনা হয়েছে। সে দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভাল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, উনি যেন ‘আবার এ রাজ্যে আসেন। বাংলাদেশের সঙ্গে এই সৌহাদ্র যেন বজায় থাকে।” তার পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভাততের অবদান ফের একবার স্বীকার করে বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের কন্যা বলেন, “একটা ঐতিহাসিক পিঙ্ক বল নিয়ে দিন-রাতের ম্যাচ চলছে। সৌরভের (গঙ্গোপাধ্যায়) দাওয়াতে তাঁরই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেছি। বাংলাদেশের জনগনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা নিয়ে এসেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটির বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল ভারত। তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ। এই সৌহার্দের সম্পর্ক চিরকাল বজায় থাকবে। দেখব তাকে যেন আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়?”

দু’জনের মুখেই শোনা গেল দুই বাংলার সম্পর্কের কথা, দুই দেশের সৌহার্দের কথা। একে অপরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দু’জনেই। হাসিনার সঙ্গে মমতার যখন বৈঠক, তখন শুধু বাংলাদেশের সাংবাদিক মহলই অঙ্ক কষতে ব্যস্ত। কী কী বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, তিস্তার জল নাকি সীমান্ত নিয়ে। প্রসঙ্গে কী থাকতে পারে ইলিশও। হাজারো ইস্যু। কিন্তু বৈঠক শেষে এই পরিসরে এসব নিয়ে কথা বলতে চাননি দুই বাংলার দুই নেত্রী। গোটা বিষয়টিই যেহেতু দুই দেশের পররাষ্ট্র নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেই জন্য কিছু না বলাই ছিল স্বাভাবিক।

 

This post is also available in: English

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial