বিলগ্নীকরণের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে চলবে

রানার চক্রবর্তী

সাধারণ মানুষের স্বার্থে বারেবারেই তিনি গর্জে উঠেছেন। তাঁর আক্রমণ থেকে কেউ রেহাই পায়নি। নিজে রাজ্য সরকারের দায়িত্বে থেকে কোনও কর্মীর চাকরি যেতে দেননি। কিন্তু দেশের অন্য স্থানে ও কেন্দ্রে একের পর এক সংস্থা বন্ধের মুখে দাড়িয়ে। এবারও সেই আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের সভাতেই জননেত্রী জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কর্মীদের নিয়ে সভা হবে। ওঁদের পাশে থাকবেন তিনি। আর নেতাজি ইন্ডোরের সেই সভাতেই এনআরসি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বিলগ্নীকরণ ইস্যুতে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আরও সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনআরসি ইস্যুতে তিনি পথে নেমেছেন। এবার বিলগ্নীকরণের প্রতিবাদেও সংস্থাগুলির কর্মীদের সঙ্গে মিছিলে পা মেলাবেন। আগামী ১৮ অক্টোবর শিয়ালদহ থেকে ফেয়ারলি প্লেস পর্যন্ত সেই মিছিল হবে। রেল, বিমা, ব্যাঙ্ক, এয়ার ইন্ডিয়া, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বিএসএনএল সব নামী সংস্থার কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দেশের নেত্রী যিনি এসব ক্ষেত্রে পাশে থাকেন, সেই মানুষটির কাছেই ছুটে গিয়েছেন ওই সংস্থার কর্মীরা। আর পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মানুষের জন্য তাঁর প্রাণ কাদে। তিনি প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে ওঁদের পাশে থাকছেন। ব্যাঙ্ক, বিমা থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা কোনও কিছুই বাদ যাচ্ছে না কেন্দ্রের নীতিতে। কোনও মানুষের সমস্যা হলে পাশে দাঁড়াবেন তিনি। কেন্দ্রের নীতির প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন তিনি। আগেও ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণের বিরোধিতা করে কেন্দ্রে কড়া চিঠি লিখেছিলেন। তার দাবি মেনেই সেই সংযুক্তিকরণ নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়েছে দিল্লি। নেতাজি ইন্ডোরে দলের শ্রমিক সংগঠনের আসা সংস্থাগুলির কর্মীদের সভায় তিনি ফের বলেছেন “আতঙ্কের কিছু নেই। বাংলায় কোনওদিন এনআরসি করতে দেব না। আপনারা শুধু নিয়ম মেনে ভোটার তালিকায় নাম তুলুন। যদি আমাদের দলীয় নেতা কর্মীরা সাহায্য না করে তবে দিদিকে বলুন-এ ফোন করে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব।”

কর্মী সমাবেশে মুখ্যা্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়বে দিল্লিতেও। সেখানে ধরনার পর দেখা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময় চাওয়া হবে। তিনি সময় না দিতে পারলে অর্থমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে। কোনওভাবে লাভজনক সংস্থাকে বেচে দেওয়া, বিলগ্নীকরণ মেনে নেওয়া হবে না। যাওয়া হতে পারে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইতেও। বামেরা এখন কোনও প্রতিবাদ করে না বলে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “সিপিএমের কিছু নেই। ওরা এখন চুপ করে গিয়েছে। আর বিজেপি শুধু বড় বড় কথা বলে।” ২৬ সেপ্টেম্বর কাশীপুর অর্ডন্যান্স কারখানা ও ২৭ তারিখ কোল ইন্ডিয়ার সামনে ধরনা হবে। সেখানে ব্যাঙ্ক, বিএসএনএল, স্টিল অথরিটির কর্মীরাও থাকবেন। এইসব আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য সাংসদ তথা দলের শ্রমিক সংগঠনের সভানেত্রী দোলা সেনকে মাথায় রেখে একটি কমিটি গড়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।

This post is also available in: Bangla

Subscribe to Jagobangla

Get the hottest news,
fresh off the rack,
delivered to your mailbox.

652k Subscribers

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial